Headlines

আগামী অ্যাপারেলস, হ্যারডস নিটওয়্যার ও এভার ব্রাইট সুয়েটার: শতকোটি ডলারের বাণিজ্য, বন্ড হিসাবের জবাব কোথায়?

ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের তিন পোশাক প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি নিয়ে তুলনামূলক অনুসন্ধান।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফলোআপ নিউজ

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পকে উৎসাহিত করতে বন্ড সুবিধার আওতায় শর্তসাপেক্ষে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় সরকার। এই সুবিধার উদ্দেশ্য উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানি বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। তবে বন্ড সুবিধা সাধারণ শুল্কমুক্ত আমদানি নয়; আমদানি করা কাঁচামাল অনুমোদিত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার, নির্ধারিত অনুপাত বজায় রাখা, মজুতের হিসাব সংরক্ষণ এবং রপ্তানি বা অনুমোদিত নিষ্পত্তির মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করার বাধ্যবাধকতা থাকে। ফলে কাঁচামাল আমদানির পরিমাণের সঙ্গে উৎপাদন, রপ্তানি, মজুত ও বন্ড অডিটের তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।

ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন আগামী অ্যাপারেলস, হ্যারডস নিটওয়্যার ও এভার ব্রাইট সুয়েটারের প্রকাশ্য বাণিজ্য-তথ্য পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি-রপ্তানির পরিসর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে তিন প্রতিষ্ঠানের একই সময়ের সরকারি আমদানি-রপ্তানি হিসাব, কাঁচামালের ব্যবহার, অনুমোদিত উৎপাদন-উপকরণ অনুপাত এবং বন্ড অডিটের ফলাফল একসঙ্গে পাওয়া যায়নি। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ফাঁকি বা বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের জন্য দায়ী করার মতো প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রকাশ্য বাণিজ্য-তথ্য সাধারণত তৃতীয় পক্ষের ডেটাবেস, শিপমেন্ট রেকর্ড বা কাস্টমস-সংক্রান্ত বাণিজ্যিক উৎসের ওপর নির্ভর করে। এসব তথ্যের সময়সীমা, পণ্যের বর্ণনা, চালান গণনা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সরকারি বন্ড নথির সঙ্গে এক নাও হতে পারে। তাই এগুলোকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের সূত্র হিসেবে দেখা যায়, চূড়ান্ত রাজস্ব হিসাব হিসেবে নয়।

তবে প্রকাশ্য বাণিজ্য-তথ্যের সঙ্গে সরকারি বন্ড হিসাব মিলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫:০১ মিনিটে আগানী অ্যাপারেলস্-এ একজন নারী শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় মারা যান। নিহত সুমি আক্তার কারখানাটিতে একজন সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আগামী অ্যাপারেলস: আমদানি ১১ কোটি ৩২ লাখ, রপ্তানি ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের তথ্য

Trademo নামের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যভান্ডারের হিসাবে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আগামী অ্যাপারেলসের নামে ৬ হাজার ৭২৮টি আমদানি এবং ৪ হাজার ২১২টি রপ্তানি চালানের তথ্য রয়েছে। ওই সময়ের আমদানির প্রদর্শিত বাণিজ্যমূল্য ১১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং রপ্তানির প্রদর্শিত মূল্য ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ তথ্যভান্ডারটিতে আমদানি ও রপ্তানির প্রদর্শিত মূল্যের পার্থক্য ৩৯ লাখ ডলার। <Link url=”https://www.trademo.com/companies/agami-apparels-ltd/47374435” title=”সূত্র: Trademo-এর বাণিজ্য-তথ্য”/>।

আগামী অ্যাপারেলসের বাণিজ্যচিত্র পরিমাণ
তথ্যের সময়কাল জানুয়ারি ২০২২–মার্চ ২০২৬
আমদানি চালান ৬,৭২৮
আমদানির প্রদর্শিত মূল্য ১১ কোটি ৩২.৫০ লাখ ডলার
রপ্তানি চালান ৪,২১২
রপ্তানির প্রদর্শিত মূল্য ১০ কোটি ৯৩.৫০ লাখ ডলার
আমদানি-রপ্তানির প্রদর্শিত মূল্যপার্থক্য ৩৯ লাখ ডলার

এই পার্থক্যকে সরাসরি শুল্ক ফাঁকি, কাঁচামালের ঘাটতি কিংবা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। আমদানির সঙ্গে রপ্তানির সময়গত ব্যবধান, অব্যবহৃত মজুত, উৎপাদন ব্যয়, স্থানীয় রপ্তানিমুখী সরবরাহ, পণ্যের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি এবং তথ্যভান্ডারের হিসাবপদ্ধতি— সবকিছুই এখানে প্রাসঙ্গিক। আমদানি ও রপ্তানির মূল্যও একই ভিত্তিতে নির্ধারিত নাও হতে পারে; যেমন আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য, বীমা ও পরিবহন ব্যয়ের অন্তর্ভুক্তি এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে ঘোষিত রপ্তানিমূল্যের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

তবে প্রশ্ন হলো, আমদানি করা কাঁচামালের হিসাব, উৎপাদন এবং রপ্তানির নথি মিলিয়ে এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় কিনা। সেটি যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। এ ক্ষেত্রে চালানভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি তথ্যের পাশাপাশি বিল অব এন্ট্রি, বিল অব এক্সপোর্ট, ইনভেন্টরি রেজিস্টার, উৎপাদন রেজিস্টার, বন্ড লাইসেন্সের শর্ত এবং অডিট আপত্তি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ্য তথ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আমদানি পণ্যের মধ্যে জিপার, ওভেন ইন্টারলাইনিং ও বোনা লেবেলের উল্লেখ রয়েছে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ওভেন প্যান্ট, নারীদের পোশাক ও শর্টস রয়েছে। ফলে কাঁচামালভিত্তিক উৎপাদন-হিসাব এবং রপ্তানির নথি তুলনা করে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আমদানি করা উপকরণের পরিমাণ, প্রতি ইউনিট পণ্যে অনুমোদিত ব্যবহার, উৎপাদন ক্ষতি এবং অবশিষ্ট মজুতের হিসাব মিলিয়ে দেখা দরকার।

এভার ব্রাইট সুয়েটার: আমদানি রেকর্ড বেশি, রপ্তানি রেকর্ডেও পরিবর্তন

NBD Trade Data-এর প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, এভার ব্রাইট সুয়েটারের নামে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমদানি রেকর্ডের সংখ্যা যথাক্রমে ৬৪৬, ১ হাজার ১৮, ৮৩৩ ও ৮৪১। একই সময়ে রপ্তানি রেকর্ডের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৭, ৫৫, ১০২ ও ২২৪। <Link url=”https://en.nbd.ltd/trader/info/NBDDIY324512304” title=”সূত্র: NBD Trade Data”/>।

বছর আমদানি রেকর্ড রপ্তানি রেকর্ড
২০২২ ৬৪৬ ৫৭
২০২৩ ১,০১৮ ৫৫
২০২৪ ৮৩৩ ১০২
২০২৫ ৮৪১ ২২৪

তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালে আমদানি রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তী দুই বছরে আমদানি রেকর্ড কাছাকাছি থাকলেও রপ্তানি রেকর্ড বেড়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে উৎপাদন, আগের বছরের কাঁচামালের মজুত, রপ্তানি চালানের ধরন, অর্ডারের মৌসুমি পরিবর্তন এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি কী ভূমিকা রেখেছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে NBD-এর প্রকাশ্য টেবিলে এসব বছরের আমদানি ও রপ্তানির মোট বাণিজ্যমূল্য শূন্য দেখানো হয়েছে। তাই এই তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত আমদানি-রপ্তানির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। চালানের সংখ্যাকে পণ্যের পরিমাণ বা ডলারের মূল্যের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে, আমদানি রেকর্ড বেশি এবং রপ্তানি রেকর্ড কম— এমন চিত্রকে কাঁচামাল জমে থাকা বা হিসাবের ঘাটতির প্রমাণ বলা যাবে না, যতক্ষণ না সরকারি মজুত ও উৎপাদন নথি তা সমর্থন করে।

হ্যারডস নিটওয়্যার: ৫০৫ আমদানি ও ৫২৫ রপ্তানি চালানের তথ্য

Volza-এর প্রকাশ্য বাণিজ্য-প্রোফাইলে হ্যারডস নিটওয়্যারের নামে ৫০৫টি আমদানি এবং ৫২৫টি রপ্তানি চালানের তথ্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানির সঙ্গে নিট ফেব্রিকসহ পোশাকশিল্পের উপকরণের এবং রপ্তানির সঙ্গে নিট পোশাকের তথ্য যুক্ত রয়েছে। <Link url=”https://www.volza.com/company-profile/harrods-knitwear-ltd-7715806/” title=”সূত্র: Volza”/>।

সূচক প্রকাশ্য তথ্য
আমদানি চালান ৫০৫
রপ্তানি চালান ৫২৫
আমদানির মোট আর্থিক মূল্য একই উৎসে নিশ্চিত নয়
রপ্তানির মোট আর্থিক মূল্য একই উৎসে নিশ্চিত নয়
২০২২–২০২৫ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি

এখানে আমদানি চালানের তুলনায় রপ্তানি চালানের সংখ্যা বেশি। কিন্তু এ থেকে প্রতিষ্ঠানটির কাঁচামাল ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়েছে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একটি আমদানি চালানের বিপরীতে একাধিক রপ্তানি চালান হতে পারে; আবার আমদানি করা কাঁচামাল একাধিক উৎপাদনচক্রে ব্যবহার করা সম্ভব। একইভাবে, আগের সময়ের মজুত কাঁচামাল ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে রপ্তানি চালান বাড়তে পারে।

তাই প্রকৃত তুলনার জন্য প্রয়োজন পণ্যের পরিমাণ, আর্থিক মূল্য, উৎপাদন-উপকরণ অনুপাত, মজুত, উৎপাদন ক্ষতি, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বন্ড হিসাব। চালানসংখ্যা কেবল বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি সূচক; এটি একা কাঁচামাল ব্যবহারের দক্ষতা বা রাজস্ব দায় নির্ধারণ করে না।

তিন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কী পাওয়া গেল?

তুলনার বিষয় আগামী অ্যাপারেলস হ্যারডস নিটওয়্যার এভার ব্রাইট সুয়েটার
প্রকাশ্য বাণিজ্য-তথ্য আমদানি ও রপ্তানির মূল্য ও চালান আমদানি ও রপ্তানির চালান বছরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি রেকর্ড
একই উৎসে পূর্ণ আর্থিক তুলনা আংশিক তথ্য রয়েছে নেই নেই
কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাব সরকারি নথি প্রয়োজন সরকারি নথি প্রয়োজন সরকারি নথি প্রয়োজন
বন্ড অডিটের পূর্ণ ফলাফল নিশ্চিত নয় নিশ্চিত নয় নিশ্চিত নয়
শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত? না না না

তিন প্রতিষ্ঠানের তথ্য একই উৎস, একই সময়সীমা ও একই হিসাবপদ্ধতিতে পাওয়া যায়নি। ফলে এদের মধ্যে সরাসরি আর্থিক তুলনা করা এখনো সম্ভব নয়। প্রকাশ্য তথ্যের অসম্পূর্ণতাও নিজে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ নয়।

তবে অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে তিন প্রতিষ্ঠানের ইউনিটভিত্তিক বন্ড লাইসেন্স, অনুমোদিত পণ্যের তালিকা, আমদানি করা কাঁচামালের ধরন, উৎপাদনক্ষমতা, রপ্তানি পণ্যের বিবরণ এবং অডিটের সময়সীমা একসঙ্গে সাজানো দরকার। এতে প্রকাশ্য বাণিজ্য-তথ্য ও সরকারি নথির মধ্যে কোনো কাঠামোগত অমিল আছে কি না, তা নির্ণয় করা সহজ হবে।

বন্ড অডিটে যে পাঁচটি হিসাব যাচাই জরুরি

তিন প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বাণিজ্যিক ও রাজস্বচিত্র নির্ধারণে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের নথি যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে—

১. ২০২২–২০২৫ অর্থবছরে বছরভিত্তিক শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ ও মূল্য।

২. একই সময়ে রপ্তানি করা পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য।

৩. অনুমোদিত উৎপাদন-উপকরণ অনুপাত অনুযায়ী কাঁচামালের ব্যবহার, উৎপাদন ক্ষতি এবং বাস্তব উৎপাদনের হিসাব।

৪. বছরশেষে অব্যবহৃত কাঁচামালের মজুত, ঘাটতি, স্থানান্তর ও নিষ্পত্তির হিসাব।

৫. বন্ড অডিটে উত্থাপিত আপত্তি, দাবিকৃত শুল্ক-কর, আদায় এবং অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ।

এর সঙ্গে আরও যাচাই করা দরকার— বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ ও শর্ত, আমদানি করা কাঁচামালের পণ্যভিত্তিক ব্যবহার, বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্টের সামঞ্জস্য, উৎপাদন রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা রপ্তানি নথি। এসব নথি ছাড়া শুধু তৃতীয় পক্ষের বাণিজ্য-ডেটা দিয়ে রাজস্ব দায় নির্ধারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হিসাবের অমিল পাওয়া গেলে তার কারণও যাচাই করতে হবে। অমিলের ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে, প্রযোজ্য আইন ও নথির ভিত্তিতে রাজস্ব-ঝুঁকি বা সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি অনুসন্ধান করা যেতে পারে। তবে অমিলের পরিমাণ, সময়কাল, সংশ্লিষ্ট পণ্য এবং দায় নির্ধারণের পদ্ধতি স্পষ্ট না করে সেটিকে শুল্ক ফাঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা উচিৎ নয়।

কমিশনারেটের কাছে ফলোআপ নিউজের প্রশ্ন

ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের কাছে তিন প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাওয়া প্রয়োজন:

  • সর্বশেষ বন্ড অডিট কবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কী ফল পাওয়া গেছে?
  • গত পাঁচ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শুল্কমুক্ত আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ কত?
  • আমদানি করা কাঁচামালের কত অংশ উৎপাদনে ব্যবহৃত, কত অংশ মজুত এবং কত অংশ নিষ্পত্তি হয়েছে?
  • কোনো কাঁচামালের ঘাটতি, অননুমোদিত ব্যবহার বা হিসাবগত অসংগতি শনাক্ত হয়েছে কি?
  • কোনো শুল্ক-কর দাবি থাকলে কত টাকা দাবি করা হয়েছে, কত টাকা আদায় হয়েছে এবং কত টাকা অনিষ্পন্ন রয়েছে?
  • উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি ও মজুতের হিসাবের মধ্যে অমিল পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
  • প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড লাইসেন্স বর্তমানে কার্যকর আছে কি না এবং কোনো লাইসেন্স স্থগিত, বাতিল বা নবায়ন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি?
  • অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী সময়সীমা দেওয়া হয়েছে?

আগামী অ্যাপারেলস, হ্যারডস নিটওয়্যার ও এভার ব্রাইট সুয়েটারের প্রকাশ্য বাণিজ্য-তথ্য তিন ধরনের চিত্র তুলে ধরে। আগামী অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানির প্রদর্শিত মূল্যের পার্থক্য রয়েছে; এভার ব্রাইট সুয়েটারের ক্ষেত্রে বছরভিত্তিক আমদানি ও রপ্তানি রেকর্ডে পরিবর্তন দেখা যায়; আর হ্যারডস নিটওয়্যারের ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানি চালানের সংখ্যা কাছাকাছি।

কিন্তু এসব তথ্যের কোনোটিই এককভাবে শুল্ক ফাঁকি বা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার প্রমাণ করে না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল, উৎপাদন, রপ্তানি এবং অবশিষ্ট মজুতের হিসাব সরকারি নথিতে পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে চালানসংখ্যার পাশাপাশি পণ্যের পরিমাণ, মূল্য, উৎপাদন অনুপাত, মজুত এবং অডিট আপত্তির তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় রাজস্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই সুবিধার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিন প্রতিষ্ঠানের বন্ড অডিট, কাঁচামালের ব্যবহার, মজুত এবং শুল্ক-কর নিষ্পত্তির তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। নথিতে প্রমাণযোগ্য অসংগতি পাওয়া গেলে তার পরিমাণ, সময়কাল ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করে জনসমক্ষে তুলে ধরতে চায় ফলোআপ নিউজ।