Headlines

প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার SCN Demand, এরপরও নতুন এনটাইটেলমেন্ট: Eurotex Knitwear-এ দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের ভূমিকা কী?

ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিঃ

২০২২ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি ৩০২.০৭ মিলিয়ন ডলার, রপ্তানি ২৯৯.৪৮ মিলিয়ন ডলার | সরকারি তথ্যে শ্রমিক ২,৪০০ জন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরবরাহ-শৃঙ্খল তথ্যে ২,০৩০ জন | ১৯৯৯ সালের বন্ড লাইসেন্সের বিপরীতে অডিটে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার SCN Demand

ফলোআপ নিউজ অনুসন্ধান

বন্ড সুবিধায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনাকারী নারায়ণগঞ্জের Eurotex Knitwear Limited-এর বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার SCN (Show Cause Notice) Demand থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি নতুন এনটাইটেলমেন্ট পেয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর নতুন এনটাইটেলমেন্ট দেওয়ার এ ঘটনায় দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাপ্ত বন্ড-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স নম্বর 592/CUS-BOND-PBW/99। ১৯৯৯ সালের ৩ জানুয়ারি লাইসেন্সটি ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের অডিট-সংক্রান্ত তথ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২৬,৯৭৬,৬৮৯.৫৭ টাকার SCN Demand-এর উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় অঙ্কের SCN Demand থাকার পরও নতুন এনটাইটেলমেন্ট দেওয়ার আগে দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট কী ধরনের যাচাই-বাছাই করেছে? সংশ্লিষ্ট Demand-এর বর্তমান অবস্থা কী? এটি আদায়, নিষ্পত্তি, আপিল কিংবা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে কিনা, তা জানা জরুরি।

ইউরেটেক্স গ্রুপ

আমদানি ৩০২.০৭ মিলিয়ন, রপ্তানি ২৯৯.৪৮ মিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্যভান্ডার Trademo-তে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত Eurotex Knitwear Limited-এর মোট আমদানি মূল্য ৩০২.০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে আমদানির শিপমেন্ট সংখ্যা ১১,৬০৮টি।

অন্যদিকে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি মূল্য ২৯৯.৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রপ্তানি শিপমেন্টের সংখ্যা ৮,৯২০টি।

আমদানি ও রপ্তানির তুলনামূলক চিত্র:

বিবরণ পরিমাণ
তথ্যের সময়কাল জানুয়ারি ২০২২–সেপ্টেম্বর ২০২৫
মোট আমদানি ৩০২.০৭ মিলিয়ন ডলার
আমদানি শিপমেন্ট ১১,৬০৮টি
মোট রপ্তানি ২৯৯.৪৮ মিলিয়ন ডলার
রপ্তানি শিপমেন্ট ৮,৯২০টি
আমদানি-রপ্তানি মূল্যের ব্যবধান ২.৫৯ মিলিয়ন ডলার
টাকার অঙ্কে ব্যবধান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) প্রায় ৩১.৬০ কোটি টাকা

অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে আমদানির মূল্য রপ্তানির মূল্যের চেয়ে প্রায় ২৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার বেশি। বিষয়টির ব্যাখ্যা যাদের কাছে জানতে চায় ফলোআপ নিউজ।

সরকারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) আমদানিকৃত কাঁচামালের ব্যবহার, মজুত, UD, বন্ড রেজিস্টার, অডিট ও SCN Demand যাচাই
সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস আমদানি-রপ্তানির Bill of Entry, Export Declaration ও শুল্কায়নসংক্রান্ত তথ্য যাচাই
কাস্টমস ভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ইন্টারনাল অডিট কমিশনারেট প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি মূল্যায়ন ও শুল্কসংক্রান্ত নিরীক্ষা
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID) সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) নীতিগত তদারকি, প্রশাসনিক নির্দেশনা ও রাজস্ব সুরক্ষাসংক্রান্ত ব্যবস্থা

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বন্ড রেজিস্টার, UD, Bill of Entry, Export Declaration, Utilization Declaration এবং অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা নিয়ে একাধিক তথ্য

Eurotex Knitwear-এর শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন উৎসে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) অনলাইন LIMA রেকর্ডে প্রতিষ্ঠানটির মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১,১৫০ + ১,২৫০ = ২,৪০০ জন উল্লেখ রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা নিবন্ধিত হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে। রেকর্ডে নিবন্ধনের মেয়াদ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটের About Us বিভাগে কর্মীর সংখ্যা ২,৩৮০ জন উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরবরাহ-শৃঙ্খল তথ্যভান্ডার JD Sports Fashion-এর প্রকাশিত তথ্যে Eurotex Knitwear-এর মোট কর্মী ২,০৩০ জন দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ১,২১৮ জন এবং নারী কর্মী ৮১২ জন।

আন্তর্জাতিক Accord-এর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির কারখানা-সংক্রান্ত তথ্যেও Eurotex Knitwear Limited-এর জন্য ১,৯১১ জন শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে The Daily Star-এর একটি প্রতিবেদনে কারখানাটিতে ৪,০০০-এর বেশি শ্রমিক থাকার কথা বলা হয়েছিল। Daily New Nation-এর ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর প্রতিবেদনে DIFE-এর বরাতে প্রায় ৪,৫০০ শ্রমিকের কথা উল্লেখ করা হয়।

অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন উৎসে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা ১,৯১১ থেকে ৪,৫০০ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো একই তারিখের গণনা নয়। ফলে বর্তমানে কারখানায় প্রকৃত কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা কত, নারী ও পুরুষ শ্রমিকের অনুপাত কী এবং কতজন ব্যবস্থাপনা কর্মী রয়েছেন, তা DIFE ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কারখানার ঠিকানা, উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক পরিচিতি

Eurotex Knitwear Limited-এর কারখানা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন নয়ামাটি, কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত।

কারখানার ঠিকানা: Nayamati, Kutubpur, Fatullah, Narayanganj, Bangladesh.

প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগ নম্বর: 02-7646605।

প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি ১০০ শতাংশ রপ্তানিমুখী কম্পোজিট নিট গার্মেন্টস কারখানা। নিটিং, ডাইং, কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং ও এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত উৎপাদন সক্ষমতা:

উৎপাদন বিভাগ দৈনিক সক্ষমতা
নিটিং ১০,০০০ কেজি
ডাইং ১০,০০০ কেজি
সেলাই ৪৫,০০০ পিস
কারখানার ফ্লোর স্পেস ১,৪০,০০০ বর্গফুট

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ট্যাংক টপ, জ্যাকেট, শিশুদের পোশাক, পাজামা সেটসহ বিভিন্ন ধরনের নিট পোশাক উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। তাদের প্রধান ক্রেতাদের বাজার হিসেবে যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাম উল্লেখ রয়েছে।

ওয়েবসাইটে Oeko-Tex, BSCI, SEDEX ও ISO-সংক্রান্ত সার্টিফিকেশনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

BGMEA সদস্যপদ ও প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে তথ্যের পার্থক্য

BGMEA-এর সদস্যতথ্য অনুযায়ী, Eurotex Knitwear Limited-এর সদস্য নম্বর ৫৮৯৬। সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. শহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।

BGMEA-এর প্রোফাইলে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নয়ামাটি, কুতুবপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। সেখানে ৬৪০ জন ব্যবস্থাপনা কর্মীর তথ্য রয়েছে। তবে পুরুষ ও নারী শ্রমিকের আলাদা সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯৮ উল্লেখ করা হলেও BGMEA-এর সদস্য প্রোফাইলে প্রতিষ্ঠার বছর ২০১৪ দেখানো হয়েছে। বন্ড লাইসেন্স অবশ্য ১৯৯৯ সালে ইস্যু করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা, কারখানা কার্যক্রম শুরু এবং BGMEA সদস্যপদ গ্রহণের সময়কাল আলাদা কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

শ্রমিক অসন্তোষ ও ২০২৫ সালের সড়ক অবরোধ

Eurotex Knitwear নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

The Daily Star-এর ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানাটির শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল, মামলা প্রত্যাহার এবং কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের শিবু মার্কেট এলাকায় অবরোধ করেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগেও শ্রমিকরা একই দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। কারখানাটিতে কয়েক মাস ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল বলে শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনাগুলো প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ও উৎপাদন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। তবে ২০২৫ সালের শ্রমিক অসন্তোষকে ২০২৬ সালের বন্ড এনটাইটেলমেন্টের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত করার আগে সংশ্লিষ্ট সময়ের কার্যক্রম ও নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার Demand-এর পর নতুন এনটাইটেলমেন্ট কেন?

প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানেই।

প্রাপ্ত বন্ড-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, Eurotex Knitwear-এর বিরুদ্ধে ২৬,৯৭৬,৬৮৯.৫৭ টাকার SCN Demand রয়েছে। অডিটের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। এর পরও ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির নতুন এনটাইটেলমেন্ট প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। এনটাইটেলমেন্টের প্রদর্শিত মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

এখন জানতে হবে, এনটাইটেলমেন্ট অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট Demand-এর বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি বা বিবেচনা করা হয়েছে।

এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

১. SCN Demand-এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি কোনো অর্থ পরিশোধ করেছে কিনা।

২. প্রতিষ্ঠানটির জবাব গ্রহণ করে Demand কমানো, প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করা হয়েছে কিনা।

৩. কোনো আপিল বা বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান ছিল কিনা।

৪. নতুন এনটাইটেলমেন্ট অনুমোদনের আগে অডিট আপত্তি ও বকেয়া রাজস্ব যাচাই করা হয়েছিল কিনা।

৫. এনটাইটেলমেন্ট অনুমোদনের সুপারিশ ও চূড়ান্ত অনুমোদন কোন কর্মকর্তা দিয়েছেন।

৬. আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান এবং কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে কোনো বিশেষ অডিট বা তদন্ত হয়েছে কিনা।

দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের কাছে জবাব চায় অনুসন্ধান

Eurotex Knitwear-এর বিরুদ্ধে উল্লিখিত SCN Demand, নতুন এনটাইটেলমেন্ট, আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান এবং শ্রমিকসংখ্যার ভিন্নতা— সবগুলো বিষয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

বিশেষ করে দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের কাছে জানতে হবে, ২০২৫ সালের অডিটে উত্থাপিত প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার Demand-এর বর্তমান অবস্থা কী এবং ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর নতুন এনটাইটেলমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী নথি যাচাই করা হয়েছিল।

একই সঙ্গে Eurotex Knitwear কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির কাছে জানতে হবে, SCN Demand-এর বিপরীতে তাদের অবস্থান কী, আমদানি ও রপ্তানির মূল্যের পার্থক্যের কারণ কী এবং বর্তমানে কারখানায় প্রকৃত কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা কত।

বন্ড সুবিধা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সুবিধার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা বন্ড কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি থাকলে সেটির আইনগত অবস্থান যাচাই এবং পরবর্তী সুবিধা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

Eurotex Knitwear-এর ক্ষেত্রে তাই মূল অনুসন্ধান শুধু প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার SCN Demand নয়; বরং সেই Demand-এর নিষ্পত্তি, আমদানি-রপ্তানির হিসাব, শ্রমিকসংখ্যার প্রকৃত চিত্র এবং নতুন এনটাইটেলমেন্ট অনুমোদনে দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের ভূমিকা।


নেতৃত্বঃ

ইউরোট্যাক্স নিটওয়্যার লিমিটেড (EuroTex Knitwear Ltd.)-এর মূল কর্ণধার এবং শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে মো. বেলায়েন হোসেন (Md. Belayet Hossain) এবং মো. শহিদুল ইসলাম (Md. Shahidul Islam) এর নাম জানা যাচ্ছে।১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের যৌথ নেতৃত্বে ইউরোট্যাক্স একটি বৃহৎ কম্পোজিট নিট কারখানায় রূপান্তরিত হয়েছে বলে দাবী।
ব্যবসায়িক অঙ্গনে তাদের ভূমিকা ও পরিচিতিঃ
১. মো. বেলায়েন হোসেন (চেয়ারম্যান):
নেতৃত্ব ও ভূমিকা: তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ইউরোট্যাক্স নিটওয়্যার লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান (Chairman) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই গ্রুপের কৌশলগত ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ: তিনি শুধুমাত্র ইউরোট্যাক্স নিটওয়্যারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। ইউরোট্যাক্স গ্রুপের সহযোগী ও অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যেমন— টেক্স এশিয়া লিমিটেড (Tex Asia Ltd.) এবং ইউরো অ্যাপারেল সোর্সিং (Euro Apparel Sourcing)-এরও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গ্রুপটির ব্যবসায়িক সোর্সিং ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দায়িত্বে রয়েছেন।
মূল দক্ষতা: আন্তর্জাতিক বায়ারদের (Buyer) সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সুনাম ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন বলে দাবী।
২. মো. শহিদুল ইসলাম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক):
নেতৃত্ব ও ভূমিকা: তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বলা হচ্ছে— ইউরোট্যাক্সের সার্বিক অপারেশন, উৎপাদন, টেকনোলজি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল চালিকাশক্তি তিনি। শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনে অবদান: তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই (FBCCI)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এছাড়া, নিট পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKDOA)-এর সাথেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।
শিল্প মালিকদের প্রতিনিধিত্ব: তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ (BGMEA)-এর সাধারণ সদস্য হিসেবে তিনি পোশাক খাতের নীতিনির্ধারণী আলোচনা ও শ্রমিক কল্যাণে ভূমিকা রাখেন। যেমন—  প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪,০০০ শ্রমিকের (ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে) ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আর্থিক সুবিধার জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে করপোরেট চুক্তি ও বেতন দেয়ার আধুনিক ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির আয় ব্যয় সম্পর্কে ঘোষিত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছেঃ
* আর্থিক বিবরণী প্রতিবেদন (Financial Overview Document): প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষিত আর্থিক তথ্যের সারসংক্ষেপে দেখা যায়, ইউরোট্যাক্স নিটওয়্যার লিমিটেডের বার্ষিক রেভিনিউ বা আয় ৭০২ কোটি টাকা (যা ৭০০ কোটি টাকার কাছাকাছি) এবং এর মধ্যে নিট লাভ (Net Profit) প্রায় ৫৪.৫২ কোটি টাকা।

* আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডাটাবেজ: বৈশ্বিক গ্লোবাল ট্রেড ট্র্যাকার ও এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ডাটাবেজের (যেমন: Market Inside Data) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত নির্দিষ্ট অর্থবছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আন্তর্জাতিক রপ্তানি টার্নওভারের পরিমাণ প্রায় ১১৬.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


সম্পর্কিত সংবাদঃ

RMG workers block Dhaka-N’ganj link road over layoffs