Headlines

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের শঙ্কা: রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ৩ তৈরি পোশাক কারখানার

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা টুটুন মোহন দে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:


শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি করে শতভাগ রপ্তানি করার কথা থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের অধীনস্থ তিনটি পোশাক কারখানায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রেকর্ড ডেটাবেস (Trademo) এবং কাস্টমস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য রপ্তানি করে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এনেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যের কাঁচামাল আমদানি করেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে আমদানিকৃত কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রি বা টাকা পাচারের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


মেসার্স ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ
মেসার্স ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (Crosswear Industries Ltd.)-এর মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) হলেন শেখ বাবুল আক্তার জাহিদ (Shaikh Babul Akter Zahid), এ্যারন ডেনিম লিমিটেড (Aaron Denim Limited)-এর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) হলেন মাজাকাত হারুন (Mazakat Harun) এবং এ. জে. সুপার গার্মেন্টস লিমিটেড (A.J. Super Garments Ltd.)-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) হলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার (Nazrul Islam Mazumder)।
প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো— এজে সুপার গার্মেন্টস্ লিঃ, আরন ডেনিম লিঃ এবং মেসার্স ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় অসামঞ্জস্য রয়েছে এজে সুপার গার্মেন্টস্ লিঃ-এর হিসাবে। প্রতিষ্ঠানটি মোট ২৯২.৭৬ মিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলেও তার বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ২০৮.৯৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ, তাদের আমদানির তুলনায় রপ্তানি ঘাটতি বা বাড়তি আমদানির পরিমাণ প্রায় ৮৩.৮০ মিলিয়ন ডলার।

আমদানি ও রপ্তানির এই বিশাল ব্যবধানের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আরন ডেনিম লিঃ। প্রতিষ্ঠানটি ৫৮.৪২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও বিদেশে রপ্তানি করতে পেরেছে মাত্র ৩৬.২০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পোশাক। ফলে এই প্রতিষ্ঠানেও ২২.২২ মিলিয়ন ডলারের আমদানিকৃত কাঁচামালের কোনো হদিস মিলছে না।


কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য।
অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ব্যবধান থাকলেও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে মেসার্স ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ। প্রতিষ্ঠানটি ৮০.৩১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে তার বিপরীতে ৭৮.০৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এখানেও ২.২৭ মিলিয়ন ডলারের আমদানি উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে।
কাস্টমস ও বন্ড সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ রপ্তানিমুখী বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানির চেয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানির আর্থিক মূল্য সবসময় বেশি হওয়ার কথা। কারণ আমদানিকৃত সুতা, কাপড় বা অন্যান্য এক্সেসরিজের মূল্যের সাথে শ্রম, ইউটিলিটি ও মুনাফা যোগ হয়ে রপ্তানি মূল্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু এই তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র বা বিপুল পরিমাণ বাড়তি আমদানি ইঙ্গিত করে যে, আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল নিয়মের বাইরে গিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে অথবা এর আড়ালে অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা টুটন মোহন দে-এর কাছে এই তিনটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি এখনো কিছু জানাননি।