“পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ হলে দেশ পাকিস্তানের মত ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে” -নাগরিক কমিশন

বক্তব্য রাখছেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।
গত ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে সাম্প্রতিক শিক্ষাক্রমে সাম্প্রদায়িকীকরণ নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের দাবি জানানো হয়। সরকার এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্মূল কমিটির সভায় বিচারপতি গোলাম রব্বানীকে সভাপতি করে এই কমিশন গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন অধ্যাপক অজয় রায়, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, অধ্যাপক অনুপম সেন, বিচারপতি শামসুল হুদা, কথাশিল্পী অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অধ্যাপক পান্না কায়সার, অধ্যাপক ফরিদা মজিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ ও লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। এই কমিশনের সদস্য সচিব ছিলেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন তপন পালিত।

গতকালের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১২ দফা সুপারিশ জানানো হয়। তার মধ্যে অন্যতম সুপারিশ, ক্রমান্বয়ে একমুখী শিক্ষার দিকে অগ্রসর হওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন এই ব্যবস্থায় বাংলার বদলে যেভাবে উর্দুকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে তা বন্ধকরণ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আরো কয়েকটি ভাগে ভাগ করে মনিটরিং ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি। এনসিটিবির সিন্ডিকেট ভাঙতে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা এই পাঠ্যক্রমের দাবি করেছিলেন তাদের লক্ষ্য রাজনীতির সঙ্গে দূরবর্তী কৌশলও। আর ১৪ দল তাদের এই নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কারণ, তারা মনে করেছে এতে তারা ভোটের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, সরকারের ভেতরে আরেক সরকার কাজ করছে। সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে জামায়াত-হেফাজতিরা বসে রয়েছে। তারা শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে ঠেলে দিতে উৎসাহিত করছে সরকারকে। ২০১৭ সালে এসে স্বাধীনতার পক্ষের এ সরকারের সময়ে ব্যাপকভাবে শিক্ষাকে যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন করেছে তাদের খুঁজে বের করতে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতিকে প্রধান করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন তিনি।

শাহরিয়ার কবির বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে এ জামায়াতি-হেফাজতিকরণ শুধু এ বছর থেকে শুরু হয়েছে তা নয়, এ বছর ব্যাপকভাবে এগুলো ধরা পড়েছে। এর শুরু ১৯৭৫ সালের পর থেকে। পাঠ্যপুস্তকে এসব পরিবর্তন করে সরকার হেফাজতে ইসলামের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, হেফাজতের এজেন্ডা কখনো ইসলাম ধর্মের এজেন্ডা নয়, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা। সরকার বিভিন্ন সময়ে এদের দাবি মিনে নিতে বাধ্য হচ্ছে, যা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, যেসব দল স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে- জামায়াত, হেফাজত, মুজাহিদ বাহিনী, নেজামে ইসলামী অন্যতম। এসব দলের নেতাদের ফাঁসি দিলে হবে না, এসব সংগঠনের বিচার করে নিষিদ্ধ করতে হবে। যখন ’৭১-এ গণহত্যার দায়ে এসব সংগঠনের নেতাদের ফাঁসি হচ্ছে তখন তারা দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিতে এসব অপচেষ্টা চলছে। তারা এ দেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ তা কখনো হতে দেবে না।

শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে দিতে চায় না, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস জানতে দিতে চায় না। তারা দেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর পাঁয়তারা করছে। আর সরকারের মধ্যকার অশুভ শক্তি বিভিন্নভাবে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা সরকারের শিক্ষানীতি মানে না। সেখানে জঙ্গি তৈরি হচ্ছে, তারা শিক্ষার মূলধারা সম্পর্কে অজ্ঞ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের জানানো হয় না। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানান। শিক্ষাব্যবস্থাকে সাম্প্রদায়িকীকরণের জন্য যারা দায়ী তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 
সাম্প্রদায়িক সমাজে গণতন্ত্র টিকতে পারে না, উল্লেখ করে নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ অনুষ্ঠানে বলেন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতি জিয়াউর রহমানের কাটাছেঁড়া করা সংবিধানের আদলে করা। সংবিধানের অন্যতম নীতি অসাম্প্রদায়িকতাকে বাদ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িকতার যে ১২টি উপধারা ছিল তাও বাদ দেয়া হয়। তার বদলে সর্বত্র আল্লাহর ওপর ‘অগাধ বিশ্বাস’ প্রতিস্থাপন করা হয়। সেই সংবিধানের আলোকে ২০১০ সালের শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সরকার ২০১১ সালে সেই মূল নীতিতে ফিরে আসে। সংবিধানের মূল ধারাগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষানীতি তৈরি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন সংবিধান করা হয়েছে যাতে ’৭২-এর চার নীতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই সংবিধানের আদলে নতুন শিক্ষানীতি ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে।

ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকতার যে বীজ বপন করা হয়েছে সেটা ঠেকাতে না পারলে পরিস্থিতি পাকিস্তানের চেয়েও ভয়াবহ হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় থাকলেও পাঠ্যপুস্তক দেখে মনে হয় সেখানে বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মারা কাজ করছে। এদের চিহ্নিত করে বিচার করা দরকার। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে জিয়াউর রহমানের সময় থেকে সাম্প্রদায়িকীকরণ শুরু হয়েছে। এই অবস্থা যদি এখনো চলে তবে তা মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান পাঠ্যক্রম হেফাজতের ইচ্ছানুযায়ী হয়েছে, এটা সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। তাই বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা সরকারকেই দিতে হবে।

হেফাজতের দাবির কারণে পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হচ্ছে, উল্লেখ করে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, হেফাজত তাদের রাজনীতি পাঠ্যবইয়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশুর মনে সাম্প্রদায়িকতার ছাপ পড়বে। তাই এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। শিক্ষানীতি শিক্ষা আইনে পরিণত করে অবিলম্বে তা কার্যকর করার কথা তিনি বলেন। দেশে ১১ রকমের শিক্ষা পদ্ধতি রয়েছে যা সমাজে বৈষম্য এবং বিভেদ বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে মাদ্রাসা ও কাওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী। তাই এসব চলতে থাকলে দেশ একদিন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে ভরে যাবে। আমাদের সংবিধানের চার নীতি ভূলুণ্ঠিত হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

মুনতাসীর মামুন বলেন, বিভিন্ন সময় হেফাজতে ইসলাম যা বলেছে তা সরাসরি সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা। তারা শিক্ষায় পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। অমুসলিম লেখকদের লেখা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেয়ার কথা বলছে। এমনকি আমাদের সংসদ সদস্যরাও মৌলবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত। সম্প্রতি শিক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটি পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক শব্দ ছাপানোর পক্ষে কথা বলেছে। তারা বলেন, ‘ও’ (ভারত) দেশের পাঠ্যপুস্তকে তো আমাদের দেশের লেখকদের গল্প-কবিতা ছাপা হয় না, তাহলে আমরা কেন ওদের লেখকদের গল্প-কবিতা ছাপছি। এটি স্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে কি অদূর ভবিষ্যতে জামায়াত-হেফাজতিরা জাতীয় সঙ্গীত পাল্টাতে বলবে, সাহিত্য থেকে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র বাদ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে। আর আমরা তাদের কাছে মাথানত করে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সাহিত্যের স্বর্ণ যুগের এসব কথা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বঞ্চিত করব।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে পাঠ্যপুস্তকে জামায়াত, হেফাজত, বিএনপি এবং এরশাদ সাম্প্রদায়িকতা ঢোকাতে শুরু করে। বর্তমানে ১৪ দলীয় সরকার তাদের এ নীতি বাস্তবায়নে এখন সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরো বলেন, ভোটের রাজনীতি বিবেচনায় বর্তমানে ১৪ দলীয় নেতাকর্মীরা কমবেশি দক্ষিণ পন্থায় আক্রান্ত। কিন্তু এটি কোনো কাজে আসবে না তাদের জন্য।

তিনি জানান, এক মাস ধরে দেশের সব শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক পড়ে ও আগের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করে পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকতাকরণ ছাড়াও পাঠ্যপুস্তকের ভুলগুলো এ কমিটি বের করার চেষ্টা করেছে এবং এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সময় এ প্রতিবেদনে সরকারকে হেফাজতের দাবি মেনে স্কুলের পাঠ্যসূচিতে যে সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হয়েছে তা থেকে সরে আসা, ক্রমান্বয়ে একমুখী শিক্ষার দিকে অগ্রসর হওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষার আমূল পরিবর্তন, এনসিটিবির সিন্ডিকেট ভাঙা, শিক্ষা ক্ষেত্রে মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা বাদ দেয়া, বানান ও অঙ্কে ভুল সংশোধনে আরো যতœশীল হওয়া, সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা, সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক ও হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতের মতো সব মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী সংগঠন অবিলম্বে নিষিদ্ধ করাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবস্থানকারী জামায়াত-হেফাজতিদের অপসারণের সুপারিশ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ২০১৭ সালে প্রকাশিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রথম থেকে নবম-দশম শ্রেণির অনেক ভুল ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে। বইয়ে আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটেছে। যেভাবে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে তা জাতির অন্ধকারে নিয়ে যাবে। ‘৯৬ সালে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৪ সালে রাতের অন্ধকারে বদলে ফেলা হয়েছিল। একইভাবে শিক্ষানীতিও কখনো বাস্তবায়িত হয় না। এর ফলে শিক্ষক্ষেত্রে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। হেফাজতের দাবি অনুসারে এতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু সরকারকে মনে রাখতে হবে এটা ইসলামিক রিপাবলিক না, পিপলস রিপাবলিক।

শহীদজায়া শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, পাঠ্যপুস্তক দেখে মনে হয় দেশ পাকিস্তানিকরণের দিকে যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে স্লো-পয়জনিং। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরো অনেক ‘হলি আর্টিসান’ ঠেকানো যাবে না। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী চেতনা, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানে না; তাদের জানতে দেওয়া হয় না। এখনই এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘জামায়াত হেফাজত ও মাদ্রাসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এখন হাত দিয়েছে সাধারণ পাঠ্যসূচির ওপর। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পাঠ্যসূচিকে সাম্প্রদায়িকীকরণ দুঃখজনক। পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছে। আদালত রুল জারি করেছেন। আশা করি ওই রুলটি চূড়ান্ত হবে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, হেফাজতে ইসলামের দাবি ছিল প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যেসব লেখকের গল্প-কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাতে হিন্দু লেখকদের লেখা বেশি। কিন্তু তাদের এ দাবি মিথ্যা। পাঠ্যপুস্তকে ৩৩ জন মুসলমান এবং ২০ জন হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের লেখকদের লেখা রয়েছে। স্বাভাবিক কারণে বাংলা পাঠ্যবইয়ে হিন্দু লেখকদের লেখা বেশি থাকে, কারণ, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান খুব বেশি নয়।

এ বিষয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, যে লেখকদের একসময় এই হেফাজতের পূর্বসুরীরা ‘নাস্তিক’ বলে তাড়া করেছে একশো বছর পর তাদের লেখাই তারা আবার পাঠ্য বইয়ে চাচ্ছে! নজরুলকে একসময় তারা ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়েছিল, এখন কাজী নজরুল ইসলাম তাদের কাছে একজন মুসলমান সাহিত্যিক। জ্ঞানের, সাহিত্যের, ভাষার কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসায় পড়ে হেফাজত যে কোনো জ্ঞান লাভ করছে না সেটি তাদের এইসব মন্তব্য থেকে বোঝা যায়।

কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ তদন্তে জাতীয় নাগরিক কমিশন যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তার ওপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত রুল দেবেন বলে তিনি আশাবাদী।

 

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।