Headlines

মন্দিরের জায়গা কার? —ভগবানের নামে দখলদারিত্ব ও নীরব বঞ্চনা

দখলদারিত্ব

দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো—বিশেষ করে Bangladesh ও India-এর মন্দিরগুলো একসময় ছিল উন্মুক্ত আশ্রয়স্থল। এখানে শুধু নিয়মিত ভক্ত নয়, জায়গা পেতেন পথের মানুষ, ভবঘুরে, আর সমাজের প্রান্তিক সাধকেরা। বাউল, ফকির, “পাগল” সাধক—যাদের জীবনই আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের প্রতীক—তাদের জন্য এই জায়গাগুলো ছিলো স্বাভাবিক আশ্রয়।

আজ সেই চিত্র অনেক জায়গায় বদলে গেছে। মন্দিরে জায়গা আছে— প্রচুর খোলা স্থান, দালান, আঙিনা; কিন্তু সেই জায়গা সবসময় উন্মুক্ত নয়। নানা অজুহাতে, নানা নিয়মের আড়ালে, সেই স্থানগুলো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে কিছু গোষ্ঠীর হাতে। ফলে যারা একসময় এই জায়গার স্বাভাবিক অধিকারভোগী ছিলেন, সেই ভবঘুরে সাধক, ফকির বা পথের মানুষ— তারা ক্রমশ বাইরে চলে যাচ্ছেন।

অভিযোগ আরো আছে— অনেক মন্দির পরিচালনা কমিটিতে এমন মানুষ প্রভাব বিস্তার করছে, যাদের মূল আগ্রহ আধ্যাত্মিক চর্চা নয়, বরং প্রভাব, অর্থনীতি বা নিয়ন্ত্রণ। “কালোবাজারি” বা অনিয়মে যুক্ত গোষ্ঠীর প্রভাব— এই অভিযোগ সব জায়গায় প্রযোজ্য না হলেও, তারাই এখন প্রধান ক্রীড়নক। যখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা হয়ে ওঠে ক্ষমতা ধরে রাখার একটি মাধ্যম, তখন আধ্যাত্মিকতার জায়গা স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়।

এই বাস্তবতা একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে: মন্দিরের জায়গা কার? শুধু কমিটির? শুধু প্রভাবশালীদের? নাকি সেই সাধারণ ভক্ত, সাধক ও প্রান্তিক মানুষের, যাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্ম?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়। কারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি তার উন্মুক্ততা। যদি সেই উন্মুক্ততাই হারিয়ে যায়, তবে স্থাপত্য থাকে, আচার থাকে—কিন্তু আত্মা হারিয়ে যায়।

এখন সময় এসেছে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনার। মন্দিরের জায়গা যেন সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, যেখানে ভক্ত যেমন থাকবেন, তেমনি জায়গা পাবেন পথের সাধক, ভবঘুরে, বা সমাজের প্রান্তিক মানুষও।
একই সঙ্গে প্রয়োজন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা, যাতে কোনো গোষ্ঠী ব্যক্তিগত বা অসৎ স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করতে না পারে।

আধ্যাত্মিকতার জায়গা দখল নয়, আবারও মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা —এই ভাবনাটিই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া দরকার।