ঢাকা কাস্টমস হাউজ দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, রাজস্ব আহরণ, শুল্কায়ন, পণ্য খালাস এবং চোরাচালান প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে রাজধানীকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, অবৈধ পণ্য প্রবেশ এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে ‘হেডকোয়ার্টার (আরও) ও প্রিভেনটিভ’ শাখার কার্যক্রমও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ শাখার দায়িত্ব ও কার্যপরিধি বিবেচনায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা, বদলি এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের তথ্য প্রশাসনিক জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রদর্শিত দায়িত্বকালীন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত একাধিক কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা এবং একজন কর্মকর্তার পুনরায় একই দায়িত্বে ফিরে আসার বিষয়টিও লক্ষণীয়।
কেনো এই দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস বিভাগ আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ও কর আদায়, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, বাণিজ্য সহজীকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, নিষিদ্ধ পণ্য ও মাদকদ্রব্য আটক এবং রাজস্ব সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে, কাস্টমস হাউজ ঢাকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরভিত্তিক কাস্টমস স্টেশন। আমদানি পর্যায়ে সরকারি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি যাত্রীসেবা, বাণিজ্য সহজীকরণ, সরকারি বিধিবিধান বাস্তবায়ন, পরিবেশ ও সমাজ সুরক্ষা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান তৈরির দায়িত্বও এ প্রতিষ্ঠানের।
এ কারণে হেডকোয়ার্টার (আরও) ও প্রিভেনটিভ-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের গুরুত্ব কেবল দাপ্তরিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শুল্ক প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, আইন প্রয়োগ এবং রাজস্ব সুরক্ষার বৃহত্তর ব্যবস্থার সঙ্গেও এ ধরনের দায়িত্বের সম্পর্ক রয়েছে।

দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ
এক. একই কর্মকর্তার পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ: প্রদর্শিত তালিকা অনুযায়ী, মোঃ সামসাদ হোসেন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি আবার একই দায়িত্বে ফিরে আসেন। কেন তাকে পুনরায় একই দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট পদায়ন আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।
দুই. দায়িত্বের প্রকৃতি ও ক্ষমতা: রাজস্ব কর্মকর্তা হেডকোয়ার্টার হিসেবে ঠিক কী কাজ করতে হয়। রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রিভেনটিভ) হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্ব, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব, অধীনস্থ জনবল এবং কার্যক্রমের পরিধি কী ছিল, তা অর্গানোগ্রাম ও দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ থেকে যাচাই করা জরুরি।
তিন. দায়িত্ব পালনের সময় কী ঘটেছে: সংশ্লিষ্ট সময়গুলোতে চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ পণ্য আটক, শুল্ক ফাঁকি শনাক্ত, রাজস্ব আদায় এবং বিভিন্ন অভিযানের কী ধরনের সাফল্য বা ব্যর্থতা ছিল, তা অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।
চার. দায়িত্ব হস্তান্তর ও জবাবদিহি: একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব ছাড়ার পর তার সময়ে পরিচালিত অভিযান, আটক পণ্য, নিষ্পত্তিহীন মামলা এবং রাজস্বসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের কী অবস্থা ছিল, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় নথি
১. রাজস্ব কর্মকর্তা (হেডকোয়ার্টার)-এর দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যপরিধি।
২. রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রিভেনটিভ)-এর দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যপরিধি
৩. সংশ্লিষ্ট সময়ের অভিযান, আটক ও জব্দের পরিসংখ্যান।
৪. শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালানসংক্রান্ত মামলা এবং নিষ্পত্তির তথ্য।
৫. দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণের প্রতিবেদন।
৬. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির তথ্য।
জবাবদিহির প্রশ্ন
ঢাকা কাস্টমস হাউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পরিচয় ও দায়িত্বের সময়কাল জানা শুধু প্রশাসনিক তথ্য নয়; বরং রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সরকারি জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২১ সাল থেকে ঢাকা কাস্টমস হাউজের হেডকোয়ার্টার (আরও) ও প্রিভেনটিভ শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সময়ে কী পরিমাণ চোরাচালান প্রতিরোধ হয়েছে, কত রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত হয়েছে এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় এসব কার্যক্রমের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?
