মন্দির-মসজিদে বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ, কমছে প্রান্তিক ও ভিন্নধারার মানুষের উপস্থিতি। খুলনার বাস্তবতা তুলে এনেছে ফলোআেপ নিউজ। শহরের প্রায় প্রতিটি স্বর্ণের দোকানের মালিক রয়েছে কোনো-না-কোনো মন্দির কমিটিতে। পেশাজীবীরাও পিছিয়ে নেই।
স্টাফ রিপোর্টার | খুলনা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—মন্দির ও মসজিদ—নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও কার্যক্রমে ক্রমশ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, সুবিধাবাদী রাজনীতিক এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক আধ্যাত্মিক চর্চার ধারার মানুষের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মন্দিরগুলোর পরিচালনা কমিটি অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতেই কেন্দ্রীভূত। একই ধরনের অভিযোগ মসজিদ ব্যবস্থাপনাতেও শোনা যাচ্ছে। কমিটি গঠন, অনুদান বণ্টন, উন্নয়ন কাজ—সবকিছুতেই প্রভাবশালীদের প্রভাব থাকায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ধর্মীয় জায়গা হওয়ার কথা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু এখন সেখানে সাধারণ মানুষের কথা বলার সুযোগ কমে গেছে।”
অন্যদিকে, বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল-ফকির ও সুফি ধারার অনুসারীদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একসময় গ্রামীণ সমাজে আখড়া, মাজার বা খোলা পরিসরে যাদের অবাধ বিচরণ ছিল, এখন তারা মূলধারার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাউল-ফকিররা ধর্মীয় কাঠামোর বাইরে থেকে মানবতাবাদী ও আধ্যাত্মিক চর্চা করেন। তবে বর্তমান সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামোয় তাদের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ভিন্নধর্মী দর্শন ও জীবনধারা গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।
তবে সবাই এই চিত্রের সঙ্গে একমত নন। অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এখনো স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত হচ্ছে এবং সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে প্রান্তিক ও ভিন্নধারার মানুষ আরো বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমাজের ঐক্য ও সহমর্মিতার জায়গা হিসেবে পরিচিত। তবে সেখানে যদি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের রাজনীতি প্রাধান্য পায়, তাহলে সেই মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
