যুক্তরাষ্ট্র কেনো মাদুরোকে তুলে নিলো? তেলের দখল নিতে, নাকি মাদুরোর বক্তব্য তাদের ইগোতে আঘাত করেছিলো?

যুক্তরাষ্ট্র নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিলেও ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেনি। বলা যায় যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মাদুরো এখনো ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আছেন।

আসা যাক— যুক্তরাষ্ট্র কেনো তার বিরুদ্ধে এত কঠোর হলো?
এটা শুধু তেল বা শুধু ইগো— কোনোটাই একক না। বিষয়টা বহুস্তরীয়।

১️⃣ তেলঃ বড় কারণ, কিন্তু একমাত্র নয়। উল্লেখ্য,
ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপরাধীর মতো বন্দী করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা।

মাদুরো সরকারঃ

তেলখাত রাষ্ট্রীয়করণ করেছে। মার্কিন কোম্পানির প্রভাব কমিয়েছে। চীন ও রাশিয়াকে জায়গা দিয়েছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিন্তু শুধু তেলের জন্যই হলে, যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই অন্য স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধেও একই মাত্রার চাপ দিত, যা সব ক্ষেত্রে হয়নি।

২️⃣ আদর্শিক সংঘাতঃ সমাজতন্ত্র বনাম মার্কিন আধিপত্য

মাদুরো প্রকাশ্যে বলতেন—

“আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মানবো না”

তিনি শাভেজের বোলিভারিয়ান সমাজতন্ত্র চালিয়ে যান।লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাববিরোধী জোটের অংশ ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চোখে এটি ছিলো
“খারাপ উদাহরণ”

যা অন্য দেশগুলোকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

ভেনেজুয়েলা
ভেনেজুয়েলায় হামলার পর আটক মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

 

৩️⃣ ইগো বা অপমান?ঃ এটা আংশিক সত্য। মাদুরোর বক্তব্য ছিলো অত্যন্ত আক্রমণাত্মকঃ

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রকাশ্যে অপমান, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রকে “সাম্রাজ্যবাদী শত্রু” বলা, কিউবা–ইরান–রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা— এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ট্রিগার।

কূটনীতিতে পাবলিক অপমান কখনোই হালকা বিষয় না।
এটা যুক্তরাষ্ট্রের global authority narrative-কে চ্যালেঞ্জ করে।

কিন্তু এটাকে ব্যক্তিগত ইগো বলার চেয়ে বলা ভালো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও প্রভাবের প্রশ্ন।

৪️⃣ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: নৈতিক যুক্তি, কৌশলগত অস্ত্রঃ
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তোলেঃ

♣ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন;
♣ বিরোধীদের দমন;
♣ মানবাধিকার লঙ্ঘন।

এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা নয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এগুলোকে ব্যবহার করেছে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে।
একই ধরনের সমস্যা থাকা অন্য দেশে কিন্তু এমন চাপ সবসময় দেখা যায় না— এখানেই দ্বিচারিতা।

৫️⃣ তাহলে সারকথা কী?

এটা কোনো একক কারণ না। গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো হলোঃ

তেলঃ

বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রমাণিত তেলের মজুদ ভেনেজুয়েলায় আছে।
আন্তর্জাতিক ও শক্তি সংস্থা এবং OPEC-এর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেলের মজুদ প্রায় ~৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল (billion barrels), এটি বিশ্বের মোট জ্বালানি মজুদের মধ্যে প্রায় ৮–১৭% বা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

মার্কিন আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ (খুব গুরুত্বপূর্ণ);

আদর্শিক সংঘাত (মূল কারণ), আদর্শ দেখিয়েই ক্ষমতার পথ তৈরী করা হয়;

মাদুরোর ভাষা ও অবস্থান
উত্তেজনা বাড়িয়েছে;

গণতন্ত্র ইস্যু;

বিশ্বের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করাঃ

১️⃣ “আমরা আন্তর্জাতিক আইন ভাঙতেও প্রস্তুত”
এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিপজ্জনক বার্তা। একটি সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে তার দেশ বা তৃতীয় দেশ থেকে তুলে নেওয়া হলে
→ জাতিসংঘ সনদ
→ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব
→ কূটনৈতিক রীতিনীতি
সবই কার্যত অগ্রাহ্য হয়।

বার্তা:
“আন্তর্জাতিক আইন আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, শুধু অন্যদের জন্য।”

ট্রাম্প
এই বার্তাই কি জনগণের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে যে, যেকোনো মূল্যে ইলন মাস্ক-ট্রাম্প পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।