বাংলাদেশের নারী জাগরণে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয়

খালেদা

বাংলাদেশের নারী জাগরণে খালেদা জিয়ার ভূমিকা রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রতীকী —তিন দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়।

খালেদা
খালেদা জিয়া ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী।

১. প্রতীকী ও মানসিক প্রভাব

খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী (১৯৯১) এবং পরবর্তীতে একাধিকবার সরকারপ্রধান। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মতো একটি রক্ষণশীল সামাজিক কাঠামোর মধ্যে একজন নারীর রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হওয়া ছিলো বিরল ঘটনা।

খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠান নারী নেতৃত্বের সক্ষমতা সম্পর্কে সামাজিক ধারণা বদলাতে সহায়তা করে। রাজনীতি ও প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণে আত্মবিশ্বাস জোগায়।
গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত নারীদের কাছে “নারীও রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে”—এই বার্তাকে দৃশ্যমান করে।
এই প্রতীকী ভূমিকা নারী জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করে।

২. রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নারীর অবস্থান

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি আমলে
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। দলীয় রাজনীতিতে নারী নেত্রীদের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণকে রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যদিও এই অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ ছিলো, তবু নারীকে রাজনৈতিক পরিসরে “স্বাভাবিক উপস্থিতি” হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে সহায়তা করে।

৩. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

নারী জাগরণে শিক্ষা একটি মৌলিক উপাদান। খালেদা জিয়ার সরকার আমলে—
মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি কর্মসূচি বিস্তৃত হয়,
মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ে,
নারী শিক্ষাকে দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়, এই নীতিগুলো সরাসরি নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি শক্ত করে।

৪. সামাজিক রক্ষণশীলতার ভেতরে সমঝোতার রাজনীতি

খালেদা জিয়ার নারী রাজনীতি ছিলো অনেকাংশে সমঝোতামূলক (compromising)। তিনি নারীর অধিকার প্রশ্নে হঠাৎ বা র‍্যাডিক্যাল সামাজিক রূপান্তরের পথে যাননি। ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে ধীরে পরিবর্তনের কৌশল গ্রহণ করেন। এটি একদিকে সীমাবদ্ধ এবং ধীর, অন্যদিকে বাংলাদেশের বাস্তবতায় নারী নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা যায়।

৫. সমালোচনামূলক মূল্যায়ন

নারী জাগরণে খালেদা জিয়ার ভূমিকা নিয়ে কিছু সমালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ— নারীবাদী আইন সংস্কারে (যেমন উত্তরাধিকার, পারিবারিক আইন) তার সরকার তুলনামূলকভাবে নীরব ছিলো। নারী আন্দোলনের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ সীমিত ছিলো। নেতৃত্ব ছিলো বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক, প্রাতিষ্ঠানিক নারী ক্ষমতায়ন তুলনামূলকভাবে  দুর্বল ছিলো।

পরিশেষে—
খালেদা জিয়ার ভূমিকা বাংলাদেশে নারী জাগরণে রূপান্তরমূলক বা বিপ্লবী না হলেও, তিনি ছিলেন একটি ঐতিহাসিক সেতু (historical bridge)— যিনি নারীকে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে এনে দেখিয়েছেন, এবং পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের জন্য সেই দরজাটি খোলা রেখেছেন।