এইমসের নিউরোসার্জন ডাঃ অরুণ এল নায়েক এমন পাঁচটি নিশ্চিত উপায় বাতলেছেন, যাতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবেই। মস্তিষ্কে স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
স্ট্রোক। আতঙ্কের অন্য নাম। পক্ষাঘাত মানুষের প্রাণ কাড়তে পারে, পঙ্গু করে দিতে পারে, চলচ্ছক্তিহীন জীবন দিতে পারে। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করে। অনেকেই মনে করেন, স্ট্রোক বয়স্কদের অসুখ। কিন্তু হার্টের অসুখের মতো, স্ট্রোকও এখন বয়স মানছে না। তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। দিল্লির এইমসের নিউরোসার্জন ডাঃ অরুণ এল নায়েক এমন পাঁচটি নিশ্চিত উপায় বাতলেছেন, যাতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবেই। মস্তিষ্কে স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
ডাঃ নায়েকের মতে, ভারতে স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হ, যাদের বেশিরভাগের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। একই সঙ্গে, ডিমেনশিয়া এখন তরুণদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হল জীবনযাত্রার ধরন, ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ এবং বিশেষ ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের অভাব। তিনি বলেন , সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত চেক-আপের মাধ্যমে মানুষ দীর্ঘ সময়ের জন্য মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে পারে।
এই পাঁচটি উপায়ে আপনি আপনার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে পারেন
ভিটামিন বি১২ঃ
ভিটামিন বি১২ স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিউরোট্রান্সমিটার এবং লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে। আসলে, এর অভাব স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ক্লান্তি এবং বিষণ্ণতার কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি থাকলে ডিমেনশিয়া এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি আমিষভোজী হন, তাহলে মাছ ( সামুদ্রিক হলে ভালো), মাংস, ডিম ইত্যাদি খেয়ে, এই ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। অন্যদিকে, নিরামিষাশীরা দুগ্ধজাত দ্রব্য, গোটা শস্য এবং পুষ্টি পরিপূরক ইত্যাদি খেয়ে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। তবে ঘাটতি আছে কি না , আগে জানতে হবে। আর কার শরীরে কোনটা প্রয়োজন , সেটা বুঝেই খেতে হবে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডঃ
ওমেগা-৩ হল একটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং প্রদাহ কমায়। এর অভাব মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমতে পারে । স্মৃতিশক্তি কমে। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডিএইচএ (ওমেগা-৩ এর এক প্রকার) মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। আমিষভোজীরা স্যামন, ম্যাকেরেল এবং সার্ডিনের মতো চর্বিযুক্ত মাছ খেয়ে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। তবে এসব মাছ সবার পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। বিকল্প পথও আছে। বলে দিতে পারবেন নিউট্রিশনিস্টরা। নিরামিষাশীরা তিসির বীজ, চিয়া বীজ, আখরোট এবং তিসির তেল ব্যবহার করতে পারেন।
ভিটামিন ডিঃ
ভিটামিন ডি মস্তিষ্কের বিকাশ এবং স্নায়ু সুরক্ষায় বিশেষ সাহায্য করে। গবেষণা অনুসারে, ভারতের ৮০% মানুষ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছেন। এর ঘাটতি ডিমেনশিয়া এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন সকালের ১৫-২০ মিনিট সূর্যের আলো নিন। এছাড়াও, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে পারে ফোর্টিফাইড দুধ, মাশরুম এবং ডিমের কুসুম ইত্যাদি।
ম্যাগনেসিয়ামঃ
ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর স্বাস্থ্য সহ ৩০০ টিরও বেশি শরীরের কার্যকারিতা সমর্থন করে। এর অভাব মাইগ্রেন, স্ট্রেস এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে, যা স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, বাদাম, কাজু, কুমড়োর বীজ এবং গোটা শস্য ইত্যাদির সাহায্যে আপনি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেন।
আয়রনঃ
আয়রন মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ করায় সহায়ক। বুদ্ধি খাটিয়ে যেসব কাজ করতে হয়, তাতে কার্যকলাপে সাহায্য করে। আয়রনের ঘাটতি ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। আয়রনের ঘাটতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। আমিষভোজীরা মুরগির মাংস ইত্যাদির সাহায্যে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। অন্যদিকে, নিরামিষাশীরা পালং শাক, মসুর ডাল, বিন এবং শক্তিশালী সিরিয়াল ইত্যাদি খেয়ে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন।