বর্তমানে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে পুনরায় ক্ষমতায় আরোহনের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত, এমনকি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। নিচে এর পেছনের প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলোঃ

১. দলীয় নিষেধাজ্ঞা ও নিবন্ধন স্থগিত
২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের দলীয় নিবন্ধন স্থগিত করে, ফলে দলটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার হারায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলটি রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকেও বিরত রাখা হয়েছে, যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারকাজ সম্পন্ন করে।
২. শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার ও নির্বাসন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন এবং তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। এই পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্বে দলের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা অত্যন্ত অনিশ্চিত।
৩. রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে আছেন নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস। এই সরকার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান ঘটেছে, যেমন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP), যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার বিরোধিতা করছে।
৪. জনমত ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি যে অনাস্থা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দশ বছরের মধ্যে দলটির পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে তুলেছে।
৫. নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি
পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে ।
সার্বিকভাবে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইনগত বাধা বিবেচনায়, আওয়ামী লীগের নিকট ভবিষ্যতে ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।