শুক্রবারটা কারাগারে একটি বিশেষ দিন // ডাঃ সাবরিনা হুসেন

জেলখানার বাসিন্দারা দিন-তারিখ-ক্ষণ খুব ভালো মনে রাখে। ট্রাফিক সিগন্যালের ভিক্ষুক চাচা একটু বিরতি নিয়ে যখন এক কাপ কনডেন্সড মিল্কের চা কিনে সুরুত সুরুত করে চুমুক দেয়, প্রতিটি চুমুক সে আলাদাভাবে উপভোগ করে। তেমনি জেলখানায় মানুষ কারাগারের প্রতিটি মিনিট প্রতিটি সেকেন্ড উপলব্ধি করে। এ অপেক্ষা প্রতীক্ষার, যন্ত্রণার, অনুশোচনার, বিচ্ছেদের।
শুক্রবারটা কারাগারে একটি বিশেষ দিন। এই দিনের জন‍্য সবাই অপেক্ষা করে। শুক্রবারে প্রতিটি কামরায় কেউ না কেউ মিলাদ পড়ায়। উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন— দ্রুত জামিন। মিলাদ পড়ানোর জন‍্য কারা কতৃপক্ষকে দু’দিন আগে জানিয়ে দিলে তারা সাদা কালো মিষ্টি আনিয়ে দেন। ৪০০ টাকা কেজির মিষ্টি ৮০০টাকা দাম পড়ে। কেনো?

ডাঃ সাবরিনা
প্রতীকী ছবি। ডাঃ সাবরিনা হুসেন।

কারাগারে মিষ্টি বিরল। সেখানে কথায়, স্বভাবে, ব‍্যবহারে এমনকি অনুভূতিতেও মিষ্টি অনুপস্থিত। চৌদ্দশিকের অভ্যন্তরে বসন্তবাতাসও মিষ্টি লাগে না। শীতের সকালের রোদও এখানে মিঠে নয়। খাবার হিসেবে মিষ্টিতো আরো দুর্লভ। এমন অনেক কয়েদী আছেন যারা বছরের পর বছর মিষ্টি চোখে দেখেনি— চেখে দেখা তো দূরের কথা!
কাজেই শুক্রবার মিলাদে সবাই শরীক হতেন। যারা মুখে বলতেন মিলাদ পড়া নিয়ম নাই— তারাও। এমনকি, ভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বীরাও দাঁড়িয়ে যেতেন এক কাতারে। একই সুরে সুর মেলাতেন। কিন্তু বেশিরভাগ বন্দিনীর নজর আতিপাতি করে খুঁজতো মিষ্টির বাক্স। কয়টা? সবাই একটা করে পাবেতো?!

জীবনের রূপ রস বঞ্চিত মানুষগুলোর কাছে একটি রসালো মিষ্টি সবকিছুর চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিতো সেদিন! জীবনের প্রয়োজনগুলোর কাছে জীবনের আয়োজনগুলো সবসময় হার মানে !