খুলনার খাদ্য অফিসগুলোর হিন্দু অফিসারেরা আতঙ্কে রয়েছেন

খাদ্য বিভাগের দুর্নীতি খুবই আলোচিত বিষয়। খাদ্য বিভাগের গুদামগুলোকে বলা হয় দুর্নীতির সূতিকাগার। কূলি থেকে কর্মকর্তা সবাই এ দুর্নীতির সাথে যুক্ত (ডিবিসি নিউজ)। খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা পদে পদায়নে দুর্নীতি একটি গুরুতর সমস্যা, যেখানে অসাধু কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেন। মূলত ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারাই পদায়ন বাণিজ্যের সাথে জড়িত। কিন্তু তারা থাকেন পর্দার আড়ালে, ভদ্রবেশে। ফলোআপ নিউজ দু’জন আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তার ওপর অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যাপক পদায়ন বাণিজ্যের তথ্য হাতে পেয়েছে।

দুর্নীতি
গত আগস্টে সরকারের পরিবর্তনের পরপর বড় প্রকল্পসহ খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলো বৈষম্যবিরোধী খাদ্য অধিদপ্তর নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে তারা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছিলো। কিন্তু ফলোআপ নিউজ খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে- এই শর্ষের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ ভূত রয়েছে।

কেনো খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার পদটি এতটা লোভনীয়? উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে, এবং সিটি কর্পোরেশনের  মধ্যেও যে সকল খাদ্য গুদাম রয়েছে— এখান থেকে ভয়াবহ সব দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসছে। এমনকি ভূয়া কাগজ বানিয়ে লট ধরে হাপিশ করে দেওয়ার মতো তথ্যও ফলোআপ নিউজ-এর কাছে আছে। বিষয়টি নিয়ে ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—  লাগামহীন এ দুর্নীতির জন্য কি খাদ্য বিভাগ তথা সংশ্লিষ্ট বিভাগ দায়ী, নাকি আলাদাভাবে হিন্দু কর্মকর্তারা দায়ী?

প্রসঙ্গত, খাদ্য বিভাগের মহাপরিচালক এবং আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকতার্দের মধ্যে কেউই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নয়। এমনকি আদিবাসী কোটা থেকে আসা বাদ দিলে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ৫ শতাংশও হিন্দু নেই। এরকম পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে— খাদ্য বিভাগের দুর্নীতির জন্য আলাদাভাবে হিন্দু অফিসারেরা কীভাবে দায়ী হতে পারে?

খুলনার ৪ নং ঘাট থেকে খাদ্য পরিদর্শক সুশান্ত মজুমদার অপহৃত হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলের খাদ্যের হিন্দু অফিসারেরা মনে করছেন— আলাদাভাবে তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে কিনা।

গত ১৪ জুলাই আনুমানিক বিকাল ৬ টায় খুলনার ৪ নং ঘাট নিজ কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে খাদ্য পরিদর্শক সুশান্ত মজুমদার অপহৃত হন। পরে ঐদিনই রাতে তিনি উদ্ধার পান। কয়েক দফা তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, এবং চাঁদা দাবী করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মূলত এরপর থেকে খাদ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

এ অঞ্চলে দুর্নীতির দায়ে অনিন্দ্য দাশের মতো দু-একজন কর্মকর্তা অভিযুক্ত থাকলেও এবং খাদ্য পরিদর্শক অচিনকে গ্রেফতার করা হলেও পুরো বিষয় খাত সংশ্লিষ্ট নয়। অচিন দাশ বাগেরহাট-২ আসনের এমপি মীর সাখাওয়াত আলী বাদশা-এর পিএস ছিলেন। ফলে শুধু একজন খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে তাকে দোষী ভাবার অবকাশ কম।

এমতাবস্থায় খাদ্যের হিন্দু অফিসারদের দাবী— দুর্নীতির বিষয়টিকে যাতে সামগ্রিকভাবে দেখা হয়। দুর্নীতির বীজ বপন করেন বড় কর্মকর্তারা। ফলে শুধু  নিচের সারির অফিসার— তাও আবার শুধু হিন্দু অফিসারদের দায়ী করলে তাতে শুধু অস্থিরতাই বাড়বে।