প্রতিদিন সই করলেই ভাগাভাগি, নিয়ন্ত্রণে দালাল ও দলিল লেখক চক্র।
গোপালগঞ্জ সদর সাবরেজিস্টার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অফিসটির কার্যক্রম এমন একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যেখানে সাবরেজিস্টারের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কেবল সই করার মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই কিংবা প্রক্রিয়া অনুসরণের দায়িত্ব অনেকাংশে পালন করছেন মোহরার, দালাল ও নকলনবিশরা। সাবরেজিস্টারকে অনেক সময় নিজে থেকে পৃষ্ঠা উল্টানোরও প্রয়োজন হয় না। উমেদাররা আগে থেকেই পৃষ্ঠা প্রস্তুত করে দেন, আর সাবরেজিস্টার শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি ঘুষ দাবি করার প্রয়োজন হয় না। বরং স্থানীয় দালাল ও দলিল লেখকদের সমন্বয়ে একটি ঘুষ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা দলিল নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট নিজেদের উপার্জনের স্বার্থে পুরো ব্যবস্থাটিকে সচল রাখে এবং সাবরেজিস্টারকে কার্যত নির্ভরশীল অবস্থায় রাখে।
এ চক্রের মাধ্যমে সংগৃহীত অবৈধ অর্থ প্রতিদিনের শেষে ভাগাভাগি হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে অফিসের সিল ও অনুমোদন, যাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে দক্ষিণা বা অবৈধ লেনদেনের সংস্কৃতি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্ত এবং প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো না হলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে থাকবেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
সাবরেজিস্টার অফিসের সিন্ডিকেটে নতুন নাম, সহকারীর বাসায় সমন্বয়ের অভিযোগ
গোপালগঞ্জ সদর সাবরেজিস্টার অফিসে কথিত ঘুষ সিন্ডিকেট পরিচালনায় নতুন করে কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমান সাবরেজিস্টারের সহকারী চারুলতা হালদারের বাসায় দালাল ও দলিল লেখক চক্রের সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মোহরার পদে কর্মরত চারুলতা হালদারের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সিন্ডিকেটের বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকেন। দলিল নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং দালালদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
এছাড়া সাবেক পেশকার ফরিদও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পরিচিতির সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন দালাল ও দলিল লেখকদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চারুলতা হালদার বা সাবেক পেশকার ফরিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
