গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে ঘিরে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক ফরমেট না থাকাকে পুঁজি করে কিছু দলিল লেখক ঘুষ আদায়ের পথ তৈরি করছেন এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য, দলিল লেখার ক্ষেত্রে একক কোনো সরকারি টেমপ্লেট বা নির্ধারিত কাঠামো না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি দলিল লেখকদের নিয়ন্ত্রণে। তারা যেভাবে প্রয়োজন মনে করছেন, সেভাবেই দলিল প্রস্তুত করছেন। পরে নানা ত্রুটি, সংশোধন বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের অজুহাতে বাড়তি টাকা দাবি করা হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী বলেন, “দলিল লেখার আগে কোনো নির্দিষ্ট তালিকা বা ফি কাঠামো দেখানো হয় না। কাজের মাঝপথে বলা হয় কিছু ঘাটতি আছে, ঠিক করতে হলে বাড়তি টাকা দিতে হবে। না দিলে ফাইল এগোয় না।”
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সাবরেজিস্টার কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকে জটিল দেখিয়ে দলিল লেখকরা ‘সহযোগিতার’ আশ্বাস দেন। দ্রুত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা, আপত্তি এড়ানো বা যাচাই প্রক্রিয়া সহজ করার নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া এককভাবে সম্ভব নয়—কার্যালয়ের ভেতরের সংশ্লিষ্টদের নীরব সমর্থন বা যোগসাজশ না থাকলে এমনটি টিকে থাকার সুযোগ নেই।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নির্দিষ্ট ফরমেট ও ফি তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হলে এবং প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সেবাগ্রহীতারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।
