অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এবং কিছু বিষয় জানতে চাওয়ায় ফলোআপ নিউজের সম্পাদক ও সামাজিক সংগঠন REcNU-এর নির্বাহী পরিচালক দিব্যেন্দু দ্বীপকে হুমকি, হেনস্থা এবং আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে। গতকাল আনুমানিক রাত ৮টার সময় খুলনা সদর থানা চত্বরে প্রশান্ত কুণ্ডুর নেতৃত্বে এ আক্রমণ পরিচালনা করার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি গণমাধ্যমের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বরাবর দিব্যেন্দু দ্বীপ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এর পাশাপাশি তিনি ফলোআপ নিউকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন।
সম্প্রতি খুলনা জেলার বিভিন্ন মন্দির সংক্রান্ত বিষয়সহ কালোবাজারি, ভেজাল খাদ্য, হুন্ডি ব্যবসা এবং ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি অসাধু চক্র তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার অভিযোগ, খুলনার একটি স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিকের পুত্র সঞ্জু কর্মকার (শ্যামা জুয়েলার্স) এবং তার সহযোগীরা তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক হেনস্থা এবং পরোক্ষভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরেরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে খুলনা সদর থানায় উপস্থিত হলে বড় বাজার ও হেলাতলা এলাকার একদল ব্যবসায়ী সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
দিব্যেন্দু দ্বীপের দাবি, থানার ভেতরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা ধারণ হয়ে থাকতে পারে। তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে ওই ফুটেজ সংরক্ষণ, জব্দ এবং কোনো ধরনের বিকৃতি বা অপসারণ রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি ও আক্রমণের চেষ্টা করছে। এতে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং তার পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।