ভ্যাট ফাঁকি দিতে নিজের বিড়ি নিজেই নকল করেন মালিকেরা

কর

বিড়ির ব্যান্ডরোল হলো সরকার-কর্তৃক নির্ধারিত এক প্রকারের স্ট্যাম্প বা লেবেল, যা বিড়ির প্যাকেটে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, কর পরিশোধের প্রমাণস্বরূপ। এই ব্যান্ডরোলগুলি কর ফাঁকি রোধ করে সরকারকে রাজস্ব আদায়ে সাহায্য করে এবং বাজারে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিড়ি বিক্রি বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। 

সোনালী বিড়ি
তথ্যসূত্রঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
ব্যান্ডরোল ব্যবহারের উদ্দেশ্যঃ
  • রাজস্ব আদায়ঃ

    ব্যান্ডরোলগুলি বিড়ির ওপর প্রদত্ত করের প্রমাণ দেয়, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সংগ্রহ করে। 

  • নকল প্রতিরোধঃ

    নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে কর ফাঁকি রোধ করা হয়, যা সরকার ও বৈধ বিড়ি উৎপাদনকারীদের জন্য ক্ষতিকর। 

  • বাজার নিয়ন্ত্রণঃ

এটি একটি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, যা নিশ্চিত করে যে বিড়ি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সরকারি বিধিমালা মেনে চলছে।


কর
বিড়ি কোম্পানিগুলো থেকে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা মোটা অংকের ঘুষ পেয়ে থাকেন বলে ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বিড়ি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও বিড়ি কোম্পানিগুলো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অন্যরা নয়, কর ফাঁকি  দিতে কোম্পানি মালিক নিজেই বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ ছোট ছোট কারখানা স্থাপন করে বিড়ি উৎপাদন করে। কোম্পানির মোট বিড়ির অর্ধেকই নকল ব্যান্ডরোলে বাজারজাত করা বলে তথ্যসূত্র বলছে।

বিড়িতে কর আসে প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে নকল ব্যান্ডরোলে বাজারজাত করতে পারলে লাভের অংক হয় বিশাল। বাগেরহাটে এবং খুলনায় তিনটি বিড়ি ফ্যাক্টরির ওপর অনুসন্ধান চালিয়ে ফলোআপ নিউজ বিপুল পরিমাণ নকল উৎপাদনের তথ্য পেয়েছে, এবং এর বেশিরভাগই মূল মালিকের কারসাজি বলে সূত্র বলছে।

বিড়ি কোম্পানির মালিকেরা নকল বিড়ি তৈরীর এ কাজ নির্বিঘ্নে করতে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আরো অনেক ধরনের উপায় অবলম্বন করে বলে জানা গিয়েছে। এজন্য তারা সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদান করে থাকে।

সম্পূরক তথ্যঃ

ব্যান্ডরোল পরীক্ষা করার উপায়ঃ
  • নীল রঙের ছিটেঃ
    আসল ব্যান্ডরোল ওঠালে শাপলার নীল রং ছড়িয়ে যায়, যা নকল ব্যান্ডরোলে হয় না।
  • ছিঁড়ে যাওয়া বা জোড়া লাগানোঃ
    আসল ব্যান্ডরোল ছিঁড়ে যায়, তবে অনেকে জোড়া লাগিয়ে ব্যবহার করে।
  • পুরুত্ব ও আঠাঃ

    একাধিকবার ব্যবহারের কারণে ব্যান্ডরোলে দ্বিতীয়বার আঠা লাগানো হয়, ফলে এর পুরুত্ব বেড়ে যায় এবং শক্ত লাগে।


সম্পর্কিত সংবাদঃ

বছরে ৭০০ কোটি  টাকা যাচ্ছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের পকেটে! 

৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে দশ বিড়ি কোম্পানি: বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের অভিযোগ

খুলনায় নকল বিড়ি বন্ধে কাস্টমস অফিস ঘেরাও

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৪ লাখ নকল বিড়ি জব্দ

উচ্চ শুল্কহারের কারণে পুরনো ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি

নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে জমজমাট বিড়ির ব্যবসা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পুরাতন ব্যান্ডরোল, হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি আকিজ বিড়ির

জাল ব্যান্ডরোলের ১৩ চালান খালাস

পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলো নকল বিড়ি!

নকল বিড়ির কারখানায় অভিযান: দেড় লাখ টাকা জরিমানা