সরকারি খাদ্য গুদামগুলোকে ঘিরে চলে ঘুষ এবং কমিশন বাণিজ্য

ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে খাদ্য ঠিক সময়ে এবং ঠিক পরিমাণে প্রাপকের কাছে পৌঁছায় না। কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত মধ্যস্থতাকারীর নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এই অনিয়মকে আরো বাড়িয়ে তোলে। ফলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রভাবিত হচ্ছে।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো সরকারি খাদ্য গুদামের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে দেখভাল করা, খাদ্য বিতরণের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা সময়মতো পৌঁছাতে নিশ্চিত করা। তাদের মূল ভূমিকা হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা, মধ্যস্থতাকারী বা অসাধু কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি রাখা, এবং সম্পদ ও তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। এছাড়া, তারা চাইলে নতুন প্রযুক্তি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারেন, যাতে সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী খাদ্য সহায়তা প্রতিটি প্রাপকের হাতে পৌঁছে।

কিন্তু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি দায়িত্বকে পাশ কাটিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামের দেখভালের পরিবর্তে প্রধানত পদায়ন এবং লাইসেন্স বাণিজ্যে করা। ফলে বিতরণ প্রক্রিয়ার তদারকি প্রায় শূন্যে এসে ঠেকে, এবং দরিদ্র ও অসহায় জনগণ প্রয়োজনমতো খাদ্য পায় না।

আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা
দুর্নীতি ভয়াবহ সব অভিযোগ সত্ত্বের ঘুষ বাণিজ্যে তিনি অটল বলে খুলনার সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি খাদ্য গুদামগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব গুদামে সংরক্ষিত চাল, গমসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য দেশের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দুর্যোগকালীন ত্রাণ কার্যক্রম, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রয়োজন মেটাতে নিয়মিতভাবে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে সরকারি খাদ্য গুদাম দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে সাধারণত যেসব উদ্দেশ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয় তা হলো—

সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি:

দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য ভিজিডি (VGD), ভিজিএফ (VGF), ওএমএস (খোলা বাজারে খাদ্য বিক্রি) কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি:

দুস্থ, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে খাদ্য সরবরাহ করা হয়।

দুর্যোগ ও ত্রাণ কার্যক্রম:

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীর জন্য সরবরাহ:

কারাগার, হাসপাতাল, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুদাম থেকে খাদ্য সরবরাহ করা হয়।

খাদ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি:

কর্মের বিনিময়ে খাদ্য (Food for Work), টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে শ্রমিকদের খাদ্য প্রদান করা হয়।

বাজার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম:

খাদ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা বাজারে চাল ও গম বিক্রি করা হয়।

দুর্নীতি ও বস্তা প্রতি কমিশন

যদিও সরকারি খাদ্য গুদাম দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে, বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বস্তা প্রতি কমিশন বা ঘুষ দিতে হয়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রয়েছে কয়েকটি গুরুতরো অভিযোগ— মিল মালিকদের সাথে যোগশাযোস।