সরকারি চাকরিতে তথাকথিত মেধাবীরাই এখন বড় সমস্যা

হত্যা

মানবিক জীবনচর্চায় উদ্বুদ্ধ নয়, প্রাণ-প্রকৃতি এবং দেশের প্রতি কোনো মমত্ববোধ নেই— এমন মেধাবীরাই এখন সরকারি চাকরিতে বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ক্যাডার সার্ভিসে বিগত এক দশকে অনেক মেধাবী হয়তো এসেছে, কিন্তু সৎ এবং দায়িত্বশীল অফিসার তৈরি হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিতে মেধাই শেষ কথা নয়। এক্ষেত্রে প্রার্থীর মনোজাগতিক এবং তার বহুমুখী কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি প্রয়োজন রয়েছে। রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিৎ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিক্ষক বিনিতা রহমান। চাকরিতে প্রবেশের পর এমন কোনো বিধিব্যবস্থার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের আনা প্রয়োজন যাতে তারা এরকম লাগামহীন দুর্নীতিতে লিপ্ত হতে না পারে। দু-তিন বছর চাকরি করে অবৈধ উপায়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার উদাহরণ এ শিক্ষাবিদের মতে খুবই সাধারণ বিষয়। বাস্তবতা এর চেয়ে ভয়াবহ বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এসকল সরকারি কর্মকর্তাদের জীবন বইতে পড়া প্রাচীন রাজাদের চেয়েও অনেক বেশি ভোগবিলাসে পরিপূর্ণ।

হত্যা

ফলোআপ নিউজের এ প্রতিবেদক কথা বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সাথে। ফলেোআপ নিউজ-এর এই প্রতিবেদকের সাথে একমত হয়ে তিনি বললেন, অনেকে সরকারি চাকরিতে (ক্যাডার সার্ভিসে) যোগদান করার পরে লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলে যে, তারা চাকরিটা করবেন না। পাঁচ/দশ বছর দেদারসে অবৈধ পয়শা উপার্জন করে বিদেশে পাড়ি জমাবে। বিদেশে যাচ্ছে আবার তারা ডিপার্টমেন্টাল স্কলারশিপ নিয়ে। এর চেয়ে ভয়ংকর চর্চা আর কী হতে পারে?

ট্যাক্স, কাস্টমস্, এডমিন, পুলিশে এ ধরনের চর্চা বেশি বলে তিনি জানালেন। পাঁচ বছর চাকরি করে কত টাকা উপার্জন করা যায়— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা বোকা বোকা সাংবাদিকতা করবেন না। বোঝার ক্ষমতা না থাকলে সাংবাদিকতা করেন কেনো? অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা এই কর্মকর্তা বলেন, পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে যেতে পারলে আর দরকার আছে? কিন্তু এটা কম বললাম। দেশ কীভাবে ধ্বংস হয়— সেটি বুঝে আপনারা সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, অনেকে পড়ার নাম করে বিদেশ গিয়ে পাঁচ দশ কোটি টাকা খরচ করে আসে, অনেকে বিদেশে সম্পদ বানিয়ে রেখে আসে।

পরিবার বিদেশ পাঠিয়ে দেশে চাকরি করা যাবে না মর্মে আইন চান অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা এ সরকারি কর্মকর্তা।

সম্প্রতি ফলোআপ নিউজ অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সন্ধান পেয়েছে, যারা টাকা পাচারে লিপ্ত, এবং ডিপার্টমেন্টাল স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ গিয়ে আর ফিরতে চান না। এমন কিছু আলোচনা এথনোগ্রাফিক্যালি ফলোআপ নিউজ জানতে পেরেছে।


সম্পর্কিত সংবাদঃ

অর্থ লোপাটের পর বিদেশ পাড়ি, ‘পলাতক’ বেবিচক কর্মকর্তাদের আছে বাড়ি-গাড়ি

দুর্নীতিতে চাকরি হারালেন কাস্টমস কর্মকর্তা

পিএইচডি করতে গিয়ে দেশে ফেরেননি, বরখাস্ত সরকারি কর্মকর্তা

‘বিদেশে পালিয়ে যাওয়া দুর্নীতিবাজদের ফিরিয়ে আনা হবে’

দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাচার

গণপূর্তের ৫ প্রকৌশলী ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের ১ স্থপতি বরখাস্ত