স্বর্ণের বন্দকী ব্যবসার ফাঁদে পড়ছেন সাধারণ ঘরের শিক্ষাবঞ্চিত নারীরা

বন্দকী ব্যবসা

লাখ টাকার স্বর্ণ বছর ঘুরে দাম বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। টাকার অবমূল্যায়নের হারের তুলনায় স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির হার কয়েক গুণ বেশি। বিপরীতে বন্দক রেখে কেউ স্বর্ণ হারিয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কয়েক মাস সুদের ঘানি টানার পরে। এ যেন বাস্তবিকই আম-ছালা দু’টোই হারানো।

এরকম একটি প্রশ্ন রয়েছে— মানুষ তো প্রয়োজনেই স্বর্ণ বন্দক রেখে টাকা নেয়, তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা ভয়াবহ। ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধান বলছে প্রায় ৫০ ভাগ লোক স্বর্ণ বন্দক রেখে অবশেষে আর ফেরত নিতে পারে না।

বন্দকী ব্যবসা
বন্দকী ব্যবসায় সাফল্য আছে বাগেরহাট জুয়েলার্সের। আইনের প্রশ্নে ব্যবসায়ী বলেন, তিনি আইন মেনেই ব্যবসা করছেন।

বেশিরভাগই স্বর্ণ বন্দক রেখে যা করতে গিয়েছেন সেটি ফলদায়ক হয়নি। স্বর্ণ বন্দক রেখে স্বামীকে রিক্সা কিনে দোওয়ার মতো ঘটনা যেমন আছে, আবার ছেলেকে ল্যাপটপ কিনে দেওয়ার মতো ঘটনাও আছে। স্বর্ণ বন্দক রেখে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করার বিষয় রয়েছে। টাকার প্রয়োজন তাৎক্ষণিকভাবে অনুভব অনেকে করলেও প্রধান কারণ হাতেনাতে টাকা প্রাপ্তি।

কারণ যাইহোক দ্রুত টাকা ঋণ পাওয়ার এ উপায়টি সাধারণ জনগণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনছে না। উচ্চ সুদের সহজ এ সুযোগটি না থাকলে তারা কম ক্ষতিকর সুযোগগুলো খুঁজে নিতে পারতো। ফলে বিষয়টিকে সুযোগ হিসেবে দেখতে চান না যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অর্থনীতিবিদ কৈলাশ দাস। তিনি বলছেন, অর্থনীতির যে নীতিগুলো মেনে ঋণপ্রথা পরিচালিত হয়, সে মানদণ্ড বন্দকী ব্যবসায় নেই। এ প্রথা মহাজনী প্রথা। গ্রামে সুদের ব্যবসা নিষিদ্ধ হলে জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে তারা এ ব্যবসা কীভাবে করছেন?

ফলোআপ নিউজ অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে ঢাকার তাঁতী বাজারে কোনো কোনো এ ধরনের মহাজনের কাছে হাজার ভরি বম্দকী স্বর্ণ রয়েছে। বন্দকী স্বর্ণ কমিয়ে ফেলা এবং বদলিয়ে ফেলার মতো ঘটনা প্রচুর। খুলনার এক ব্যবসায়ীর কাছেও এ ধরনের বন্দকী স্বর্ণ রয়েছে কয়েকশো ভরি। সাধারণ ঘরের অশিক্ষিত নারীরাই এ ফাঁদে বেশি পড়ছে। গ্রাম শহর দেশের সর্বত্রই ভয়ংকরভাবে সুদের এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।