অনুগল্পঃ “স্যার, ওর বুকে বঙ্গবন্ধু আছে” // নিঝুম জ্যোতি

১৫ আগস্ট

হঠাৎ পুলিশ আমাদের আটকালো। পরিচয় দিলাম, তবু আটকে রাখলো। পাশে দু’জন যুবক মোটর সাইকেলে। ওদের ভালমতো তল্লাশি করলো না। অথচ আমরা জানি ওরা এলাকার অস্ত্রধারী, এবং মাদক পাচারকারী। কিন্তু না, আজকে সবচেয়ে শক্তিশালী নিষিদ্ধ মাদকের নাম বঙ্গবন্ধু, সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হচ্ছে ফুলের মালা। যৌথ বাহিনী বুঝতে চায় আমাদের বুকে বঙ্গবন্ধু আছে কিনা, ব্যাগে ফুলের মালা আছে কিনা। আমার সাথে ছিলো রাসেল। ও সম্প্রতি একটি গোপন আবিষ্কার করেছে। নিজেকে ক্লোন করে ফেলতে পারে। ও এটা আর কাউকে শেখাচ্ছে না। ও শুধু নিজের মতো আরেকজন প্রয়োজন হলে বানিয়ে নেয়। ও হঠাৎ একটা ক্লোন বানিয়ে ফেলেছে। এআই রাসেল আসলে একই রাসেল, আসল রাসেল দ্বারা পরিচালিত। আসল রাসেল মনে মনে যে কমান্ড দেয়, এআই রাসেল সেটিই করে। যৌথবাহিনী হঠাৎ একই রকম আরেকজন দেখে হতভম্ব। আসল রাসেল বলে, “আমার যমজ ভাই। স্যার, ওর বুকে কিন্তু বঙ্গবন্ধু আছে।” যৌথবাহিনি বেয়নেট দিয়ে বুক চিরে ফেলতে চায়। এআই রাসেলের জামা ছিড়ে যায়। বেরিয়ে আসে বিশাল একটি বঙ্গবন্ধু। যৌথবাহিনী ভিরমি খায়। আসল রাসেল এআই রাসেলের শক্তি এক হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয়, এবং কমান্ড দেয় যৌথবাহিনীর একটি গাড়ি উঁচু করে ছুঁড়ে মারার জন্য। এআই রাসেল একটি জলপাই রঙ-এর গাড়ি ছুঁড়ে মারে। সাথে সাথে ওদের কমান্ডিং অফিসার চিৎকার চিৎকার করতে থাকে— সবাই পালাও, সবাই পালাও, মৃত্যঞ্জয়ী মুজিব এসেছে।