ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলছেন, ২৯ মিলিয়ন ডলার নয়, ৫ আগস্টের আগে দেশে ঢুকেছে ৫০ মিলিয়ন ডলার। তবে তার বক্তব্য কোনো তথ্যসূত্র দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জনাব কলিমুল্লাহ অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন সরকারের দু’জন উপদেষ্টা এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদারের দিকে।
এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষকের কথা বলেছেন। তার দাবী— ৫ আগস্টের আগে এই টাকায় কমপক্ষে ১০ হাজার কর্মী তৈরি করা হয়েছিলো।
২৫ ফেব্রুয়ারি (২০২৫) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদেরযু ক্তরাষ্ট্রের দেয়া ২৯ মিলিয়ন ডলারের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়নের নামে দুটি সংস্থাকে ইউএসএইডের মাধ্যমে দেওয়া ২৯ মিলিয়ন ডলারের অর্থের বিষয়টি এনজিও ব্যুরো খতিয়ে দেখতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিষয় না হওয়ায়, এটি সরাসরি খতিয়ে দেখবে না। এনজিও ব্যুরো খতিয়ে দেখে যদি প্রমাণ পায় তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য,
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) জন্য সরকারি তহবিল থেকে ২৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) এবং যুক্তরাজ্যের অধুনালুপ্ত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ডিএফআইডি) অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর শক্তিশালীকরণের (স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ–এসপিএল) প্রকল্পে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অনুদান ও সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হাইয়ারগভ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
হাইয়ারগভের ওই পরিসংখ্যানের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন সূত্র যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা (এনজিও) ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালকে অর্থ বরাদ্দ ও ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।