চোর এবং চাঁদাবাজের উৎপাতে খুলনা ৭নং খাদ্য অধিদপ্তরের অফিস সুষ্ঠুভাবে চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন খাদ্য কর্মকর্তা

সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক

মোংলায় আমদানিকৃত খাদ্য খুলনায় এসে ঢোকে খুলনায় অবস্থিত খাদ্য গুদামে। এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় এবং উপজেলায় যায়। খুলনার ভৈরব/রূপসা নদীতে অবস্থিত দু’টি ঘাট— ৪নং ঘাট এবং ৭নং ঘাটে অবস্থিত খাদ্য বিভাগের দু’টি অফিস কাজটি দেখভাল করে।

সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক

সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস প্রধান৷ বর্তমানে ৭ নম্বর ঘাটে সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোহাম্মদ সোহেল আক্তার। ৪ নম্বর ঘাটে কর্মরত রয়েছেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। ফলোআপ নিউজ-এর সাংবাদিক প্রত্যক্ষভাবে ৪ নম্বর ঘাটে শ্রমিক নেতা পরিচয়ে কয়েক জন লোকের বেপরোয়া ভাব এবং অফিসে অবৈধ হস্তক্ষেপের সাক্ষী হয়েছে। ফলোআপ নিউজ সরেজমিনে দেখেছে ৪ নম্বর ঘাটে অবস্থিত অফিসের কর্মকর্তারা এ সকল শ্রমিকনেতাদের ছত্রছায়ায় কাজ করতে অপারগ নয়। বরং আপন পরিচয়ে পরিচিত একজন শ্রমিকনেতার সাথে সুর মিলিয়ে একজন সেনা কর্মকর্তার নাম ভাঙাতে তারা দ্বিধাবোধ করেননি। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামরুল ইসলাম বারে বারে ঝামেলায় না জড়িয়ে কাজ করার কথা বলেছেন।

৭ নম্বর ঘাটের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সোহেল আক্তার বললেন, আমরা শ্রমিক সামলাতে হিমসিম খাই। শ্রমিকদের কোনো নির্দিষ্ট পোশাক এবং পরিচয়পত্র না থাকায় কেউ কোনো অপরাধ করলে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। শ্রমিক নেতারা বিভিন্ন অজুহাতে পাশ কাটায়।

ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধানে শস্য খালাসের সময় বড় অংকের শস্য অপচয়ের চিত্র উঠে এসেছে। কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে— শ্রমিকেরা অনেক সময় ইচ্ছা করেও বস্তা ফাটায়। কারণ, এই চালগুলো অবশেষে তারাই কুড়িয়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি কর্মকর্তারা জানালেন চুরি এবং চাঁদাবাজির কথাও।

হঠাৎ চালের মান খারাপ পড়ায় জনাব সোহেল আক্তার সন্দেহ করছেন মাঝপথে লাইটার থামিয়ে চাল পাল্টানো হয়ে থাকতে পারে।

অর্থাৎ সংগৃহীত অথবা আমদানিকৃত চাল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে ধাপে ধাপে চুরি এবং অপচয় বিস্ময়কর এক চিত্র উঠে এসেছে ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধানে।

কারা চাঁদাবাজি এবং চুরি করে জানতে চাইলে সোহেল আক্তার খোঁজখবর নিতে বললেন। ফলোআপ নিউজ-এর অনুসন্ধানে ৭নম্বর ঘাটে কালাম এবং খলিল গং সরকারি কাজে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করেন বলে উঠে এসেছে। এ কাজে তারা রাজনৈতিক পরিচয়ও ব্যবহার করে থাকেন বলে জানা যায়।