১
বুদ্ধ ওয়ার্ক—ফ্রম—হোম: শান্তি ২০% ছাড়ে
ক্যালিগ্রাফি করা মেঘে আজ বিজ্ঞাপন ঝুলছে—
“শান্তি ২০% ছাড়ে, শুধু এই পূর্ণিমায়।”
আলো নিভে গেলে, ব্যাকলাইটে জ্বলে ওঠে স্মৃতি,
যা আদতে মুছে ফেলা ড্রাফট।একটা অদৃশ্য বৃত্ত—প্রতিদিন ঢুকে পড়ে ভিতরে,
বের হয় না আর।
অভিমন্যু এখন সার্কুলার ই—মেইলে আটকানো মন।ক্যাফেতে বসে থাকা মানুষেরা
নিজেদের দিকে তাকায় না—
ক্যামেরা ফ্লিপ করে দেখে চুল ঠিক আছে কি না।
ক্যাপশনে লেখা থাকে:
“ক্ষমা করো, তবে ভুলে যেয়ো না—
কিন্তু প্লিজ শেয়ার কোরো না।”একটা নিঃশ্বাস ঘুরছিল ঘড়ির ভেতর,
তার মুখ ছিল না—তবু ঘামছিল প্রশ্নে।
“এই শরীর কি শুধু লগ—ইন আইডি? ”— বলার আগেই
ঘড়ির কাঁটা সময়কে গিলে ফেলল।বুদ্ধ এখন ওয়ার্ক—ফ্রম—হোম,
ছায়া তাঁর বিছানার পাশে,
শূন্যতা ছড়িয়ে আছে ওয়াইফাইয়ের মতো—
চোখ বন্ধ করলে দেখা যায়,
নিজেকে প্রতিদিন আনইনস্টল করার চেষ্টা ।২
অ্যাপার্টমেন্ট ৭বি
একটি কালো মাছি ঈশ্বরের চোখে ঢুকে পড়ে—
আমরা তখনো দৃশ্যের ওপর বিশ্বাস রাখি,
আলো মানে শুধু জ্বলা নয়,
অন্ধকারও একপ্রকার প্রজ্জ্বলন।এক আধুনিক দ্রৌপদী; রাতভর চুলে আগুন জ্বালিয়ে রাখে।
পাঁচ স্বামী নয়, তার ছিল পাঁচ জন্ম।
প্রতিটিতে তাকে নগ্ন হতে হয়েছে পুরুষের সভায়—পথের দেবী কাঁপতে কাঁপতে চুল বাঁধেন চন্দনের আড়ালে,
তার দশ হাতে দশটি প্রজাপতি —
একটি নাক ছুঁয়ে উড়ে যায়,
বাকিগুলো ঘুমিয়ে থাকে অপরিচিত স্তনের মতো —
নিঃশব্দ; প্রেমের নিচে, শূন্যতার আলিঙ্গনে।অ্যাপার্টমেন্ট ৭বি’র ঘরটাতে
প্রতিদিন সন্ধ্যে ৭:১৭—তে একটা ভাঙা বেহালার শব্দ বাজে—
না, কেউ বাজায় না,
এটা সেই প্রেমিকের স্মৃতি।
কে জানে কোথা থেকে আসে এই অনস্তিত্বের সংগীত?
হয়তো কাঠের দীর্ঘশ্বাস।ঘরের দেয়ালে থমকে থাকে একটা অনামা আলোর রেখা;
ছায়া নয়, মুখ নয়, স্মৃতিও না—
শুধু এক অসমাপ্ত বাগানের গন্ধ,
যেখানে কেউ হেঁটে যায় না,
তবু ঘাস মাড়ানো থাকে।
৩
চক্ষুষা আত্মা
মেঘ—
নয়,
বরং:
এক পরিত্যক্ত উচ্চারণ,
যার ঘ্রাণ ছিল
তৃতীয় ব্যক্তির নিঃশ্বাসে।একটি কাক
কা—কা—কা—
(না, গান নয়) অন্ধ নয়,
বরং অতিরিক্ত দেখে ফেলা চোখ
যেখানে খোদাই হয়ে আছে
চক্ষুষা আত্মা:
“তুমি অতিরিক্ত দেখেছো।
তোমার চোখ মুছে দাও।”
কিন্তু স্মৃতি তো পাথরের নয়—
জল।
(অথচ দগ্ধ করে)শূন্যতার কাছে ধার রাখা ছিল
একটি শ্যাওলা—স্বপ্ন,
হয়তো এইটুকুই ছিল স্মৃতির পরিধি—
বাকি অংশ মুছে গেছে
কারো না—পড়া ইচ্ছে—পত্রে
বদ্ধ খামে বসে পড়ে বৃদ্ধ কাকটি,
যে ভুলে গিয়েছিল নিজের ডানার ভাষা
অথচ বাতাস জানে—
জানে বাতাস—
কেউ
একবার
কেঁদেছিল
পাথরের ভিতর…
ভিতর…
ভিতর…
….
এস এম কাইয়ুম, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা