খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, আত্মহত্যার চেষ্টা, গণবিক্ষোভ

ধর্ষণ

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোন ছড়া এলাকায় ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে চার যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৬ জুলাই (২০২৫) রাতে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হলে ধর্ষণ অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হয়।

এর আগে থানায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। পরে ভোররাতের দিকে ৪ জনকে আটক করে পুলিশে দেয় সেনাবাহিনী। আরও দু’জনকে ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের আরমান হোসেন (৩২), ইমন হোসেন (২৫), এনায়েত হোসেন (৩৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২)।

ধর্ষণ
ধর্ষকদলের আটককৃত চার জন।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মো. মুনির ইসলাম (২৯) ও মো. সোহেল ইসলাম (২৩)। তারা পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, “শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুন রথযাত্রা মেলায় অংশ নেয়ার পর রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয় ভুক্তভোগী কিশোরী। সেখানেই গভীর রাতে ছয়জন যুবক ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগীর আত্মীয়দের বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণ করে।

নৃশংস ধর্ষণকাণ্ডের পরে প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে পাহাড়ে।

ভক্তভোগীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লজ্জা ও ভয়ভীতির কারণে মেয়েটি প্রথমে কিছু প্রকাশ করেনি। কিন্তু মানসিক চাপে ১২ জুলাই বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। পরে অসুস্থ অবস্থায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর জ্ঞান ফিরলে বিষয়টি পরিবারকে জানায় ওই ছাত্রী। ভুক্তভোগী বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।