অপরাজনীতির শিকার ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ // তীব্র আলী

অধ্যাপক, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়

অনেক মেধাবী তরুণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়তে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত বুয়েটে (ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হয়, কারণ, তারা তাদের পরিবার থেকে পদার্থবিজ্ঞান পড়ার জন্য সমর্থন বা অনুমোদন পায় না।

তীব্র আলী, অধ্যাপক, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়।

আমি আগে ভাবতাম এটা একটা খারাপ ব্যাপার। কিন্তু আমি এখন এমন অনেকের সঙ্গে কাজ করছি, যারা বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে পদার্থবিজ্ঞানে এসেছে এবং এরা সাধারণভাবে তাদের তুলনায় ভালো যারা সরাসরি পদার্থবিজ্ঞান পড়েছে।

কারণ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ গত কয়েক দশকে এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে, তারা আর তাদের শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারে না। যারা কিছু শেখে তারা শেখে প্রশিক্ষণের অভাব থাকা সত্ত্বেও। আমি অনেক চমৎকার তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও গণিতবিদকে চিনি, যারা সেখান থেকে সম্প্রতি স্নাতক করেছে, কিন্তু তারা অধিকাংশই স্বশিক্ষিত অথবা সেখানে বেঁচে থাকা মাত্র হাতে গোণা কয়েকজন ভালো শিক্ষকের দ্বারা পরামর্শপ্রাপ্ত। পদার্থবিজ্ঞানের অধিকাংশ ভালো শিক্ষককেই সেখানকার মধ্যম মানের লোকদের নোংড়া রাজনীতির মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই গল্পগুলো বেশ ভয়াবহ।

যেসব ছেলেমেয়ে বুয়েটে যায়, তারা অন্তত কিছু একটা শেখে। বুয়েট তাদের কার্যকর ইঞ্জিনিয়ার হতে শেখায় এবং এর ফলে তারা শেখার কৌশল শিখে ফেলে। অন্তত বুয়েট এখনও তাদের নিজস্ব কাজটাই করছে। তাই যখন তারা পরে পদার্থবিজ্ঞানে আসে, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো শিখতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নষ্ট হয়ে যায় যদি না তাদের অসাধারণ আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের যে ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়েছে, তা আমার মতে অপরিবর্তনীয়। একসময় যা ছিল পূর্বের অক্সফোর্ডের প্রধান বিভাগ, তা এখন হয়ে গেছে পূর্বের কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্রের সিঙ্গুলারিটি, যেখানে ভবিষ্যৎ পদার্থবিদদের স্বপ্ন রাজনীতি আর হতাশার জোয়ারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।


—পদার্থবিদ তীব্র আলি, অধ্যাপক, ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটি