কারাগারেও বিরুদ্ধ মত দমন? সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুতে সরকারকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন

কারাগারে মৃত্যু

সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির (৫৫) মৃত্যুর ঘটনায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারাবাহিক মৃত্যুর প্রশ্ন নতুন করে তীব্রভাবে উঠেছে। হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবার ও সমর্থকেরা অভিযোগ করছেন চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির জন্য এ মৃত্যু ঘটেছে।
এটি একক ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা একই ধরনের পরিস্থিতিতে কারা হেফাজতে মারা গেছেনঃ

কারাগারে মৃত্যু
উপর থেকে হুমায়ুন কবির, প্রলয় চাকী, ওয়াশিকুর রহমান বাবু।

প্রলয় চাকী — পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী; কারাগারে অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানা যায়। তার পরিবার কারা কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

ওয়াসিকুর রহমান বাবু — গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে রিমান্ডে নেওয়ার সময় হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া হারিয়ে ফেলেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এটা কারা কতৃপক্ষের বক্তব্য। পরিবার কারা কতৃপক্ষের এ বক্তব্য প্রত্যাখান করেছে।

তারিক রিফাত — গাইবান্ধা কারাগারে নেওয়া হলে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আরো কয়েকটি জেলায় এবং ঢাকায় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা কারা হেফাজতে মারা গেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এমন ধারাবাহিক মৃত্যুর ফলে প্রশ্ন উঠেছে এগুলো কেবল স্বাভাবিক অসুস্থতায় মৃত্যু নয়, বরং

বিরুদ্ধ মতের নেতা ও কর্মীদের প্রতি পরিকল্পিত অবহেলা বা লক্ষ্যভিত্তিক নিপীড়ন কিনা?

কারা ব্যবস্থা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি যথাযথ চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও আইনগত রক্ষা প্রদান করছে?

এই প্রশ্নগুলো এখন শুধু রাজনৈতিক মহলে নয়, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে। একাধিক ঘটনা নিয়ে পরিবার সদস্য ও অধিকার সংস্থা অভিযোগ করছেন নেতাদের সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা না দেওয়ায় এবং কারাগারে বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের ফলে মৃত্যুগুলো হচ্ছে। কারা কতৃপক্ষ সবক্ষেত্রেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে মৃতদের স্বাভাবিক অসুস্থতা বা হৃদরোগকে মৃত্যুর কারণ বলে জানিয়েছে। কিন্তু স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়াই এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের সন্দেহ কমাতে পারছে না। অনেকেই “অপারেশন ক্লিন হার্ট”-এর কথা স্মরণ করছে।

এ অবস্থায়

◊ বিরুদ্ধ মতপ্রকাশকারী রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার দাবি;
◊ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি;
◊ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি;
রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজ থেকে জোরালোভাবে উঠছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সকল বন্দীর জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা— রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে। এই ধারাবাহিক মৃত্যুর পেছনে দায়ী কাউকে যেনো ছাড় দেওয়া না হয়, এটাই এখন প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু।