গাজিপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় দোকানের এক কিশোর কর্মীকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান বৈশাখী সুইটমিট এ্যান্ড হোটেলের মালিক লিটন চন্দ্র ঘোষ (৫৫), কালী দাদা। এলাকায় তিনি একজন সজ্জন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে গাজিপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা সদর ও পৌরসভার বড়নগর সড়কের বৈশাখী সুইটমিট এ্যান্ড হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকায় “কালী দাদা” নামে অধিক পরিচিত ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সকালে মাসুম মিয়া (২৮) নামের এক যুবক ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’-এ যান। একপর্যায়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানের কর্মী অনন্ত দাশ (১৭)–এর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি শুরু হয়। কথাবার্তা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এ সময় মাসুমের বাবা মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (৫৫) ও মা মাজেদা খাতুন (৪৫) ঘটনাস্থলে এসে দোকানকর্মী অনন্ত দাশকে মারধর করতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কর্মীকে রক্ষা করতে হোটেল মালিক কালী ঘোষ এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে বেলচা দিয়ে কালী ঘোষের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (৫৫),মাজেদা খাতুন (৪৫),মাসুম মিয়া (২৮)। তাদের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার বালীগাঁও এলাকায়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “ঘটনার পরপরই জড়িত তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, মিথ্যা অভিযোগ ও পূর্ববিদ্বেষ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এরুপ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
