আমি যে কারণে ১৯৭১-কে থিসিস এবং ২০২৪-কে ব্যর্থ এন্টিথিসিস হতে যাচ্ছে বলেছিলাম

২০২৪

এখানে থিসিস এবং এন্টিথিসিস বলতে যা বুঝাচ্ছিঃ

♠ থিসিসঃ ১৯৭১-ই বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি।

♠ এন্টিথিসিস = মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে না, এখানে এন্টিথিসিস = মুক্তিযুদ্ধের অপূর্ণ বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে। জুলাই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে না (করার কথা ছিলো না), বরং তাকে তার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো।

সম্ভাব্য Synthesis হতে পারেঃ

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পুনর্দখল (reclaim), কিন্তু নতুন প্রজন্মের ভাষায়। নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন দায়বদ্ধতা, নতুন নাগরিক চুক্তির মাধ্যমে।

এক লাইনেঃ
১৯৭১-এর স্বাধীনতা + ২০২৪-এর জবাবদিহি = নতুন রাজনৈতিক ও নৈতিক কাঠামো। এন্টিথিসিস ব্যর্থ হলেও এটি সম্ভব। অর্থাৎ, জুলাই ব্যর্থ হলেও ঐতিহাসিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ।


২০২৪
২০২৪-এর মতো কিছু একটা অবশ্যম্ভাবীভাবে ঘটবে, এ ধরনের একটি অন্তর্নিহীত বাস্তবতা থাকলেও জুলাই আন্দোলন আরোপিত কিনা সে প্রশ্ন উঠে আসছে বারবার।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসকে এই নিবন্ধে একটি dialectical historical process হিসেবে পাঠ করা হয়েছে, যেখানে জাতীয় মুক্তি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং নাগরিক অভিজ্ঞতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব সময়ের সাথে সাথে নতুন রাজনৈতিক মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে। এই পাঠে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ‘foundational thesis’ হিসেবে ধারণ করা হয়েছে, যা উপনিবেশিক ও আধা-ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি মুক্তিদায়ক (emancipatory) প্রকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
মুক্তিযুদ্ধের এই থিসিস একটি normative horizon নির্মাণ করেছিলো, যেখানে সার্বভৌমত্ব, সামাজিক ন্যায়, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি নিহিত ছিলো। তবে, হেগেলীয় অর্থে, এই থিসিস তার নিজের মধ্যেই একাধিক immanent contradictions বহন করছিলো, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানায়নের প্রক্রিয়ায় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সময় অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভাষ্যে রূপান্তরিত হলেও, তার বাস্তবায়ন ঘটে একটি centralized, exclusionary, এবং disciplinary state apparatus–এর মাধ্যমে। ফলে, মুক্তির প্রতিশ্রুতি ও নাগরিকের lived experience-এর মধ্যে একটি কাঠামোগত বিচ্ছেদ (structural disjunction) তৈরি হয়।
এই ঐতিহাসিক বিরোধ থেকেই ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে আমি একটি dialectical antithesis হিসেবে পাঠ করছি। এই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক ভিত্তিকে প্রত্যাখ্যান করে না; বরং এটি সেই নৈতিকতার রাষ্ট্রীয় দখলদারিত্ব (state appropriation of liberation discourse)–এর বিরুদ্ধে একটি সমালোচনামূলক হস্তক্ষেপ। এটি ছিলো জুলাই আন্দোলন থেকে নাগরিকের চাহিদা। সেই অর্থে ‘২৪-কে আমি এন্টিথিসিস বলতে চেয়েছি।
ডায়ালেকটিক্যাল অর্থে, জুলাই আন্দোলন একটি negation of the negation নয়, বরং একটি immanent critique, যা মুক্তিযুদ্ধের নিজস্ব প্রতিশ্রুতিগুলোকে তার বাস্তব ঐতিহাসিক ফলাফলের মুখোমুখি দাঁড় করায় (করানোর কথা ছিলো)। এটি দেখায় যে, স্বাধীনতার ধারণা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বে সীমাবদ্ধ হলে তা নাগরিক স্বাধীনতার বিপরীত রূপ নিতে পারে।
এইভাবে, জুলাই আন্দোলনকে একটি historically necessary antithesis হিসেবে বোঝা যায়, যা রাষ্ট্রের বৈধতা (legitimacy) প্রশ্নবিদ্ধ করে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিদায়ক টেলিওলজিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে না। বরং এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে পুনরুদ্ধার (reclaim) করার একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য নির্মাণের প্রয়াস।
এই নিবন্ধের প্রস্তাবনা হলো— এই Thesis এবং Antithesis-এর দ্বন্দ্ব থেকেই একটি সম্ভাব্য Synthesis উদ্ভূত হতে পারতো, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তির আদর্শ এবং ২০২৪ সালের নাগরিক জবাবদিহির দাবি একত্রিত হয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি (reconfigured social contract) নির্মাণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। সে হিসেবে জুলাই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের ব্যর্থতা নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নিহিত অসম্পূর্ণতার ঐতিহাসিক উচ্চারণ। লেখক বলছে, জুলাই এন্টিথিসিস হিসেবে ব্যর্থ হলেও মুক্তিযুদ্ধের নতুন রাষ্ট্রকল্প বিনির্মাণে জুলাই-এর অবদান পরিমাণগতভাবে একই থাকবে।

বাস্তবে জুলাই আন্দোলনের রূপ এখন কী দাঁড়াচ্ছে?

বাস্তবে এটি ধীরে ধীরে ৩টি সমস্যাজনক রূপ নিচ্ছেঃ

(ক) Ideological Overcorrectionঃ মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় অপব্যবহারের বিরোধিতা করতে গিয়ে, আন্দোলনের একাংশ মুক্তিযুদ্ধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ১৯৭১–কে ক্ষমতার একমাত্র উৎস হিসেবে অস্বীকার করছে। ফলে বাইরে থেকে দেখলে মনে হচ্ছে
“এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছে”। এটা overcorrection, যেখানে critique → rejection হয়ে যাচ্ছে।

(খ) Symbolic Vacuum তৈরি হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকগুলো (৭ই মার্চ, ২৬ মার্চ, শহীদ ইত্যাদি)
আন্দোলনকারীরা সচেতনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফল হিসেবে নতুন কোনো শক্তিশালী বিকল্প প্রতীক তৈরি হয়নি। ফলে আন্দোলন দাঁড়াচ্ছে negative identity–তে। অর্থাৎ, “আমরা এটা নই”, কিন্তু
“আমরা কী”—এটা স্পষ্ট না। এই vacuum-এ অন্য শক্তি ঢুকে পড়েছে।

(গ) Reactionary Appropriation-এর ঝুঁকিঃ যখন একটি আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দেখায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি সুযোগ নেয়।ইতিহাস বিকৃত narrative ঢুকে পড়ে। আন্দোলনটি unintentionally তাদের ভাষা ধার করে ফেলে।এটা intentional না হলেও, প্রভাবটা বাস্তব।

♣ ডায়ালেকটিক্যাল দৃষ্টিতে এটা কী বোঝায়?

হেগেলীয় ভাষায় বললে জুলাই আন্দোলন এখনো pure Antithesis অবস্থায় আছে। এখনো Sublation (Aufhebung) ঘটেনি। অর্থাৎ, থিসিসকে বাতিল করছে, কিন্তু তাকে অতিক্রম করে নতুন উচ্চতায় তুলতে পারছে না। ফলে আন্দোলনটি ঝুঁকছে— anti-foundational politics–এর দিকে, যা সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি করে।

♣ বাস্তবে তাহলে জুলাই আন্দোলনের বর্তমান রূপ কী?
খুব ঠান্ডা মাথায় বললে জুলাই আন্দোলন এখন emancipatory critique এবং historical negation-এর মাঝামাঝি ঝুলে আছে। এটা এখনো ঠিক করেনি— সে কি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারী? না কি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্রকেই বাতিল করতে চায়? এই অস্পষ্টতাই তাকে দুর্বল করছে।

♣ সবচেয়ে বিপজ্জনক সম্ভাব্য রূপ কী?
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আন্দোলনটি যদি নিজেকে বলে
“আমরা কোনো ইতিহাসের উত্তরাধিকারী নই”, তাহলে সেটি হয়ে যায়— ahistorical populism। এই ধরনের রাজনীতি দ্রুত জনসমর্থন পায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে autoritarian বা nihilistic রূপ নেয়। ইতিহাসে এর উদাহরণ প্রচুর। তবে আমি সে নৈরাশ্যবাদের দিকে যেতে আগ্রহী নই।

এক লাইনে বললে— মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় অপব্যবহারের বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি মুক্তিযুদ্ধকেই ছুঁড়ে ফেলা হয়, তাহলে জুলাই আন্দোলন মুক্তির রাজনীতি নয়, বরং ইতিহাসশূন্য প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির দিকে সরে যায়।

♣ ব্যর্থ Antithesis কী করে?

ডায়ালেকটিক্যাল তত্ত্বে (Hegel–Marx) একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে— যখন Antithesis ব্যর্থ হয়,
Thesis নিজে থেকে ফিরে আসে না; বরং তার একটি পুনর্গঠিত রূপ ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
অর্থাৎ, পুরনো Thesis সরাসরি রিপিট হয় না, কিন্তু তার normative core (নৈতিক কেন্দ্র) আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ব্যর্থ ‘২৪-এর প্রেক্ষিতে  এটাই সম্ভাবনার জায়গা।

♣ জুলাই আন্দোলনের ব্যর্থতা কী ধরনের? এটা যদি হয়—
◊ সাংগঠনিক ব্যর্থতা
◊ কৌশলগত ব্যর্থতা
◊ বা প্রতীকী বিভ্রান্তি

তাহলে এর ফল হয়—
◊ একটি ideological exhaustion।
◊ সমাজ আবার স্থিতিশীল অর্থ (stable meaning) খোঁজে।

এই সময়েই মানুষ ফিরে তাকায় প্রতিষ্ঠিত নৈতিক ভিত্তির দিকে, যেটা এখনো খণ্ডিত হয়নি। বাংলাদেশে সেই ভিত্তিটাই হলো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ।

♣ কিন্তু “ফিরে আসা” বলতে কী বোঝাচ্ছি?

এখানে একটা বড় ভুল এড়াতে হবে।
❌ এটা নয় যে,
১৯৭১-এর ভাষা, প্রতীক, রাষ্ট্রীয় বয়ান হুবহু ফিরে আসবে।
✔️ বরং
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ একটি re-signified form-এ ফিরে আসতে পারে।
থিওরিতে একে বলে Normative Re-articulation।
অর্থাৎ
♠ স্বাধীনতা → নাগরিক স্বাধীনতা
♠ সার্বভৌমত্ব → জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র
♠ মুক্তি → প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়

♣ রাষ্ট্র গঠনে মনোযোগী হওয়া সম্ভন?

এটা নির্ভর করে ৩টি শর্তেঃ

(ক) আদর্শের State Capture ভাঙা যায় কিনা। যদি মুক্তিযুদ্ধ শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতীকেই আটকে থাকে, বা ক্ষমতার ভাষ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, তাহলে এটি আর ফিরবে না, বরং আরও নিঃশেষ হবে। ফিরতে হলে দরকার মুক্তিযুদ্ধকে রাষ্ট্রের নয়, সমাজের সম্পদ হিসেবে পুনরুদ্ধার।
(খ) নতুন প্রজন্ম এটাকে Instrument নয়, Framework বানাতে পারে কিনা। যদি মুক্তিযুদ্ধ আবার হয়—
◊ বিরোধীকে চুপ করানোর অস্ত্র। ◊ বা নৈতিক ব্ল্যাকমেইল। তাহলে সেটি রাষ্ট্র গঠনে নয়, রাষ্ট্রের জড়তা (stagnation) বাড়াবে। কিন্তু যদি হয় ◊ একটি নীতিগত কাঠামো। যার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা যায়, তাহলে এটি শক্তিশালীভাবে ফিরতে পারে।

(গ) Synthesis তৈরির রাজনৈতিক সক্ষমতা রাষ্ট্রের মধ্যে আছে কিনা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ (Thesis) + জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা (Antithesis) = নতুন রাষ্ট্রনৈতিক কল্পনা (Synthesis)। যদি এই synthesis না হয়, তাহলে হবে শুধু আদর্শের পুনরাবৃত্তি বা আন্দোলনের ক্লান্তি। দু’টোই রাষ্ট্র গঠনে ব্যর্থ।

♣ সবচেয়ে বাস্তবসম্মত দৃশ্যপট (Cold Analysis)ঃ

সবচেয়ে সম্ভাব্য হলো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রবলভাবে ফিরে আসবে। কিন্তু রাষ্ট্র নয়, প্রথমে সমাজে। মানে—
◊ নাগরিক আলোচনায়।
◊ একাডেমিক পুনঃপাঠে।
◊ সাংস্কৃতিক ভাষ্যে।
রাষ্ট্র গঠনে মনোযোগ আসবে পরের ধাপে, যদি এই সামাজিক পুনর্গঠন সফল হয়।

এক কথায়ঃ

জুলাই আন্দোলনের ব্যর্থতা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ফিরিয়ে আনার শর্ত তৈরি করেছে, কিন্তু সেই আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে মনোযোগী হবে কিনা— এটা নির্ভর করছে আমরা তাকে স্মৃতিতে বন্দি রাখবো, নাকি নীতিতে রূপান্তর করবো তার ওপর।

এই বিশ্লেষণের আলোকে বলা যায় যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন একটি পূর্ণাঙ্গ ডায়ালেকটিক্যাল রূপান্তরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে। কারণ এটি মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংকট শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও, সেই সংকট অতিক্রম করার জন্য প্রয়োজনীয় ইতিহাসসম্মত নৈতিক ভিত্তি ও প্রতীকী ধারাবাহিকতা নির্মাণ করতে পারেনি। ফলে আন্দোলনটি একটি স্থায়ী Antithesis হিসেবে নিজেকে রূপান্তরিত করতে না পেরে, ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্লান্তি, সাংগঠনিক বিচ্ছিন্নতা এবং অর্থবহ দিকনির্দেশনার অভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়বে।

এটি ব্যর্থতা, তবে তা ইতিহাসের শূন্যতা তৈরি করবে না। বরং হেগেলীয় অর্থে, এই ব্যর্থ Antithesis সমাজের ভেতরে একটি গভীর normative vacuum সৃষ্টি করবে, যেখানে রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকেরা আবার একটি বৈধ নৈতিক ভিত্তির সন্ধান করবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেই ভিত্তিটি হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, যা এখনো সম্পূর্ণরূপে নাকচ বা নৈতিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়নি।
অতএব, জুলাই আন্দোলনের ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ একটি পুনর্গঠিত ও পুনঃঅর্থায়িত (re-articulated) রূপে ফিরে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এই প্রত্যাবর্তন কোনো নস্টালজিক পুনরাবৃত্তি হবে না, বরং হবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের একটি পরিণত পুনরুত্থান, যেখানে স্বাধীনতা কেবল রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব নয়, বরং নাগরিক অধিকার; মুক্তি কেবল ঐতিহাসিক অর্জন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়; এবং রাষ্ট্র কেবল ক্ষমতার যন্ত্র নয়, বরং জনস্বার্থের দায়বদ্ধ কাঠামো হিসেবে পুনর্বিবেচিত হবে।
এই অর্থে, জুলাই আন্দোলনের ব্যর্থতা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে দুর্বল করে না; বরং ইতিহাসের ভেতর থেকে তার প্রয়োজনীয়তাকে আরো স্পষ্ট করে তোলে। ফলে বলা যায়, জুলাই আন্দোলন ইতিহাসের একটি অন্তর্বর্তী মুহূর্ত (interregnum) হিসেবে শেষ হবে, আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ একটি পুনরুদ্ধারকৃত নৈতিক শক্তি হিসেবে রাষ্ট্র গঠনের কেন্দ্রে পুনরায় প্রবেশ করবে।

‘২৪-এর ব্যর্থতাই ব্যর্থতাই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে আবার রাষ্ট্র গঠনের একমাত্র বৈধ নৈতিক ভিত্তি হিসেবে সামনে নিয়ে আসবে।