খাদ্য গুদামরক্ষক হিসেবে পদায়ন এবং বদলী বাণিজ্যই কি আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ?

ওসিএলএসডি
হুমায়ুন কবীর
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছে। সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুদকের গত ৯ ডিসেম্বর প্রধান কার্যালয়ে এ অভিযোগ দায়ের।

খুলনা থেকে সদ্য বদলী হওয়া আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী পদায়ন ও বদলী বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

সর্ষের মধ্যে ভূত, ভূতের মধ্যে পেতনি— অর্থাৎ তার ডিজির বিরুদ্ধে অভিযোগ আরো বিস্তৃত এবং বড়।

নতুন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ এসে “একই মুরগী” আবার জবাই করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন— মামুনুর রশিদ মূলত ইকবাল বাহার চৌধুরীর প্রবাদ প্রতীম “খালাতো ভাই”।

কাকে রেখে কাকে আনবেন? সবাই যেনো তারা একই বনের একই বাঘ!

গুদাম কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে মন্তব্য করেছেন— টাকা দিয়ে তারা ইকবাল বাহার,চৌধুরীর কাছ থেকে পদায়ন নিয়েছেন, কিন্তুু নতুন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসে অনেককে ভিন্ন গুদামে বদলী করেছেন, অথবা গুদাম রক্ষক হিসেবে আর রাখেননি। পদ খালি করে নতুন কাউকে বসিয়েছেন একই প্রক্রিয়ায়।

ওসিএলএসডি
প্রতিকী ছবি।

খাদ্য বিভাগের গুদাম রক্ষকদের ট্রান্সফার ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ অনুযায়ী— প্রশাসনিক নীতিমালার পরিবর্তে প্রভাব, সুপারিশ ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের মাধ্যমে বেশিরভাগক্ষেত্রে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছু গুদামকে অলিখিতভাবে লাভজনক ও অলাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লাভজনক গুদামে পোস্টিং ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। নির্দেশ অমান্য করলে বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় না গেলে হঠাৎ বদলি কিংবা দূরবর্তী স্থানে পদায়নের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গুদাম রক্ষক জানান, ট্রান্সফার কার্যত শাস্তি ও পুরস্কারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের চেয়ে ঊর্ধ্বতনদের মৌখিক নির্দেশ মানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদ প্রকাশিত হলেও অনিম দুর্নীতির প্রতিকার সামান্য বদলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অনিয়ম খাদ্য গুদামের তদারকি, মজুদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবের স্বচ্ছতা ব্যাহত করছে। ফলে পুরো খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
খাদ্য বিভাগে বদলি ও পদায়নের জন্য নীতিমালা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার যথাযথ প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। খুলনার বর্তমান আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ ফোন ধরেন না, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেন না। তার বিরুদ্ধ স্বেচ্ছাচারিতা এবং অনিয়মিত অফিস করার অভিযোগ উঠেছে। অফিসে গিয়ে ফলোআপ নিউজ-এর সাংবাদিক পাঁচ থেকে সাতবার সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়েও তার সাক্ষাৎ পায়নি।


সম্পর্কিত সংবাদঃ

১. ঘুষ-দুর্নীতির আখড়া আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস, কোটি কোটি টাকা বদলি বাণিজ্য।

২. ঘুষ-দুর্নীতির সাম্রাজ্য খুলনার আরসি ফুড ইকবালের

৩. খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

৪. খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

৫. সাধন চন্দ্রের পছন্দের ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ৪ হাজার কোটি টাকার গম কেনায় দুর্নীতি