কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু গুরুতর অভিযোগও রয়েছে— কালোবাজারি, খাদ্যে ভেজাল, করফাঁকি এবং অর্থপাচার। এসব অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী কাজ করতে গেলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
ফলোআপ নিউজ কাজ করতে গিয়ে এ অভিযোগের ভুক্তভোগী হয়েছে। বড়বাজার ও হেলাতলাকেন্দ্রিক কিছু ব্যবসায়িক চক্রের বিরুদ্ধে কালোবাজারি, ভেজাল খাদ্যপণ্য, অর্থপাচার এবং করফাঁকি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলেই উল্টো অনলাইন সংবাদমাধ্যম FollowUp News-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়। এক্ষেত্রে তারা থানা পুলিশকে হাতে রাখার চেষ্টা লরে। অনেকক্ষেত্রে সফলও হয়। ফলে মূল অনিয়মের প্রশ্নগুলো আড়ালে চলে যায় এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মহল প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, যার ফলে সমাজের বিবেকবান মানুষ ও অনুসন্ধানী কণ্ঠের উত্থাপিত প্রশ্নগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায় বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি এরকম অনেককে তারা ঘায়েল করতেও সমর্থ হয়। এভাবে অপরাধ বিরাজমান থাকে। অপরাধী জিতে যায়। এতে করে একটি আস্থাহীন পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে প্রকৃত জবাবদিহিতার পরিবর্তে অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগই মুখ্য হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকরা এটিকে একটি পরিচিত কৌশল হিসেবে দেখেন— যেখানে প্রকৃত অভিযোগের জবাব না দিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলে আলোচনার দিক পরিবর্তন করা হয়। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য জনসমক্ষে আসতে পারে না।
হেলাতলার স্বর্ণবাজারকে ঘিরেও কিছু সংবেদনশীল প্রশ্ন রয়েছে— স্বর্ণের উৎস কী, তা বৈধ আমদানির মাধ্যমে আসছে নাকি সীমান্ত বা অন্য অবৈধ উৎস থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ করছে, এবং সেই সঙ্গে কালো টাকার বিনিয়োগের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত।
স্বর্ণ এমন একটি সম্পদ, যেখানে অপ্রদর্শিত অর্থ সহজেই বিনিয়োগ করা সম্ভব, ফলে এটি অনেক সময় অবৈধ অর্থকে বৈধ রূপ দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি বাজার নয়, বরং পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতার প্রশ্ন তৈরি করে। আর যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ হওয়া উচিত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, যারা প্রতিদিন এই বাজার থেকে খাদ্যপণ্য কিনে এবং স্বর্ণের মতো উচ্চমূল্যের পণ্যে বিনিয়োগ করে একটি স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
অতএব, এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর নজরদারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীন অনুসন্ধানকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি, যাতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনিয়মগুলো ভয় বা চাপ ছাড়াই সামনে আসতে পারে।
সত্যকে চাপা দেওয়ার জন্য অভিযোগের রাজনীতি যতই ব্যবহৃত হোক, শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। খুলনার বড়বাজার ও হেলাতলার বাস্তবতা সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়।
