Headlines

এনবিআরের পলিসিঃ মদে ২০ হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি, ফল থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা আদায়!

বিমান বাংলাদেশ

৬ কোটি ৬৯ লাখ লিটার অ্যালকোহলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা; নির্দিষ্ট স্পিরিটসের ক্ষেত্রে শুল্ক-করভার ৬৩৬.৬৩ শতাংশ— বন্ড সুবিধা, অবৈধ আমদানি ও বাজারে প্রকৃত সরবরাহের হিসাব মিলিয়ে বিশাল রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা।

ফলোআপ নিউজ অনুসন্ধান 

বাংলাদেশে বিদেশি মদের বাজার কত বড়, বছরে কত টাকার মদ আমদানি হয়, এর কতটুকু শুল্ক দিয়ে আসে এবং কতটুকু কূটনৈতিক বন্ড সুবিধা ও অবৈধ আমদানির মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ করে— এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য সমন্বিত হিসাব নেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে। অথচ মদ আমদানিতে বিশ্বের অন্যতম উচ্চ শুল্ক-কর কাঠামো কার্যকর রয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের বিদেশি স্পিরিটস আমদানিতে মোট করভার ৬৩৬.৬৩ শতাংশ পর্যন্ত।

বাজারের আকার, বন্ড সুবিধায় আমদানি, শুল্কমুক্ত পণ্যের সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং চোরাচালানের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে রাজস্ব ফাঁকির একটি বড় চিত্র সামনে আসে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ২০ হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে। তবে এই অঙ্ককে প্রমাণিত রাজস্ব ক্ষতি বলতে হলে আমদানি মূল্য, পণ্যের শ্রেণি ও প্রকৃত শুল্কযোগ্য পরিমাণের নথিভিত্তিক হিসাব প্রয়োজন। শুল্ক গোয়েন্দা সে হিসেব করার তাগিদ নিতে পারে ফলোআপ নিউজ-এর এ প্রতিবেদন থেকে।


ফল থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা আয়
একটু নজর দিলেই বিদেশী মদ থেকে ৫/৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। কিন্তু এনবিআর লেগে আছে অত্যাবশ্যকীয় খাবার ফলের পিছনে।

৬ কোটি ৬৯ লাখ লিটার অ্যালকোহলের বাজারমূল্য ১৬ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা!

Euromonitor International-এর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে সব ধরনের অ্যালকোহলিক পানীয়ের বিক্রয়পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৬৯ লাখ লিটার। আগের বছরের তুলনায় বিক্রয়পরিমাণ বেড়েছে ৮ শতাংশ এবং বাজারমূল্য বেড়েছে ২৭ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু Spirits ক্যাটাগরির বিক্রয়পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার লিটার। এই ক্যাটাগরিতে হুইস্কি, ভদকা, জিন, রামসহ বিভিন্ন ধরনের পানীয় রয়েছে।

প্রতি লিটার অ্যালকোহলের গড় খুচরা মূল্য ২ হাজার ৫০০ টাকা ধরে বাজারের একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করলে চিত্রটি দাঁড়ায়ঃ

বিবরণ পরিমাণ
বার্ষিক বিক্রয়পরিমাণ ৬ কোটি ৬৯ লাখ লিটার
গড় খুচরা মূল্য ২,৫০০ টাকা/লিটার
সম্ভাব্য মোট বাজারমূল্য ১৬,৭২৫ কোটি টাকা
শুধু Spirits বিক্রয়পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার লিটার
Spirits-এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৩,১৪২.৫ কোটি টাকা

এখানে ২,৫০০ টাকা গড় মূল্য একটি অনুসন্ধানী হিসাবের অনুমান, Euromonitor-এর প্রকাশিত গড় মূল্য নয়। তাছাড়া ৬ কোটি ৬৯ লাখ লিটার সব বিদেশি মদ নয়; এতে দেশীয় উৎপাদিত পানীয় ও বিয়ারসহ অন্যান্য অ্যালকোহলিক পানীয়ও রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষ নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক লিটার বিদেশী মদের দাম ২৫০০ টাকার অনেক বেশী।

মদ আমদানিতে ৬৩৬.৬৩ শতাংশ পর্যন্ত করভার: শুল্কের ভেতরের হিসাব

বাংলাদেশের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুল্ক কাঠামোয় HS Code 2208-এর নির্দিষ্ট কিছু স্পিরিটসের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত করহার পাওয়া যায়:

করের ধরন হার
Customs Duty (CD) ২৫%
Regulatory Duty (RD) ৫%
Supplementary Duty (SD) ৩৫০%
VAT ১৫%
Advance Income Tax (AIT) ২০%
Advance Tax (AT) ৭.৫%
Total Tax Incidence (TTI) ৬৩৬.৬৩%

এখানে করগুলো বিভিন্ন মূল্যভিত্তি ও পর্যায়ক্রমিক হিসাবের ওপর নির্ধারিত হয়। তাই শুধু হারগুলো যোগ করে মোট করভার বের করা যায় না। কাস্টমসের নির্ধারিত Assessable Value-এর ওপর প্রযোজ্য পদ্ধতিতে হিসাব করলে ৬৩৬.৬৩ শতাংশ TTI পাওয়া যায়।

প্রতি লিটারে ২,৫০০ টাকা শুল্কযোগ্য মূল্য ধরলে সম্ভাব্য কর

বিবরণ টাকা
আমদানি মূল্য বা Assessable Value ২,৫০০
মোট করভার ৬৩৬.৬৩%
সম্ভাব্য শুল্ক-কর ১৫,৯১৫.৭৫
শুল্কসহ মোট মূল্য ১৮,৪১৫.৭৫

এই হিসাবটি কেবল উদাহরণ। ২,৫০০ টাকা যদি খুচরা বিক্রয়মূল্য হয়, তাহলে সেটিকে Assessable Value ধরে এই কর হিসাব করা যাবে না।

বিমান বাংলাদেশ
সরকারের এই দুই প্রতিষ্ঠানে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর সত্যের কথা কেউ বলে না!

২০ হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির প্রশ্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ধরা যাক, নির্দিষ্ট শুল্ক কাঠামোর আওতাভুক্ত পণ্যের শুল্কযোগ্য আমদানি মূল্য ৩ হাজার ১৪১ কোটি টাকার মতো। ৬৩৬.৬৩ শতাংশ করভার প্রয়োগ করলে সম্ভাব্য শুল্ক-কর দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্বের অঙ্কটি গাণিতিকভাবে খুবই সম্ভব। কিন্তু এর জন্য প্রকৃত শুল্কযোগ্য আমদানি মূল্য, পণ্যের শ্রেণি এবং করমুক্ত সুবিধায় প্রবেশ করা পণ্যের পরিমাণ শনাক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে, ৬ কোটি ৬৯ লাখ লিটারের সম্পূর্ণ বাজারকে একই শুল্ক কাঠামোর আওতায় ফেলা যাবে না। বিয়ার, ওয়াইন, দেশীয় উৎপাদন ও স্পিরিটসের করহার এবং সরবরাহের উৎস আলাদা। ফলে ২০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কটি যাচাইয়ের জন্য পণ্যভিত্তিক হিসাব অপরিহার্য।

বন্ড সুবিধায় মদ আমদানির ঐতিহাসিক চিত্র

The Business Standard-এর ১৮ জানুয়ারি ২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬–১৭ থেকে ২০২০–২১ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে মোট ২ কোটি ১৮ লাখ লিটার বিদেশি মদ আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ১১ লাখ লিটার এসেছিল শুল্ক পরিশোধ করে বাণিজ্যিকভাবে। বাকি প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ লিটার এসেছিল ছয়টি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে।

২০২০–২১ অর্থবছরের হিসাব:

বিবরণ পরিমাণ
মোট আমদানি ২৮ লাখ লিটার
বন্ড সুবিধায় আমদানি ২৭ লাখ লিটার
শুল্ক পরিশোধিত বাণিজ্যিক আমদানি ১ লাখ লিটার
ঘোষিত মোট আমদানি মূল্য ৩৭.৫৪ কোটি টাকা
আমদানি থেকে সরকারি রাজস্ব ৫ কোটি টাকা

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছরে বিদেশি মদ আমদানি থেকে সরকার মোট ৫২ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। সব আমদানি বাণিজ্যিকভাবে শুল্ক দিয়ে হলে সম্ভাব্য রাজস্ব প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হতে পারত বলে এনবিআরের তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এটি বন্ড সুবিধার আর্থিক প্রভাব বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উদাহরণ।

কূটনৈতিক বন্ডের মদ কোথায় যায়?

২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত The Business Standard-এর আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০১৮–১৯ অর্থবছরে ছয়টি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে ৪৭ লাখ লিটার মদ আমদানির তথ্য তুলে ধরা হয়।

তখন দেশে কূটনৈতিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০। ওই আমদানির পরিমাণ ব্যক্তি-প্রতি দৈনিক প্রায় ৮.৬ লিটার মদের সমান। এ হিসাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবেদনে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়:

  • ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মদ আমদানির লাইসেন্স ছিল।
  • এসব প্রতিষ্ঠান এক বছরে শুল্ক দিয়ে ৪৫ হাজার লিটার মদ আমদানি করেছিল।
  • অথচ তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ লিটার।
  • অর্থাৎ ঘোষিত বাণিজ্যিক আমদানির তুলনায় বিক্রি বেশি ছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার লিটার।

এই অতিরিক্ত মদের উৎস সম্পর্কে তখন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে এনবিআরের তৎকালীন চেয়ারম্যানের বক্তব্যেও স্বীকার করা হয়েছিল, দেশের মদের বাজারের সঠিক হিসাব তাদের কাছে ছিল না।

অবৈধ আমদানি ও শুল্ক ফাঁকির আন্তর্জাতিক গবেষণা

২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি Journal of Economics, Management and Trade-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বাংলাদেশের অনিবন্ধিত অ্যালকোহল বাণিজ্যের আর্থিক মূল্য নিরূপণ করা হয়েছিল।

গবেষণাটির লেখকদের মধ্যে ছিলেন এনবিআরের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তা এস এম হুমায়ুন কবির, কাস্টম হাউস ঢাকার কর্মকর্তা সাইদুল আলম, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির এস্তিয়াক বারী এবং সিপিডির তৌফিকুল ইসলাম খান।

গবেষণায় ২০১৬ সালের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়:

বিবরণ গবেষণার অনুমান
অনিবন্ধিত বিদেশি মদের বাণিজ্য ১২–১৯ কোটি মার্কিন ডলার
অনিবন্ধিত দেশীয় উৎপাদিত মদের বাজার ১.১–২.৮ কোটি মার্কিন ডলার
বিদেশি মদের আমদানি পর্যায়ে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি ৯৫–১৫২ লাখ মার্কিন ডলার
দেশীয় উৎপাদন পর্যায়ে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি ৯–২২ লাখ মার্কিন ডলার

গবেষণাটি আরও বলেছে, ২০১৬ সালে দেশে মদের আনুমানিক চাহিদা ছিল ২৫ লাখ লিটার, অথচ আইনগতভাবে অনুমোদিত ব্যবহারের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লাখ লিটার। ফলে অতিরিক্ত চাহিদার একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ সরবরাহের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছিল।

এটি বর্তমান বাজারের হিসাব নয়। তবে বাংলাদেশের মদের অবৈধ বাণিজ্য যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা, তার গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ।

শুল্ক ছাড়, অবৈধ আমদানি ও রাজস্বের হিসাব কোথায়?

প্রাথমিক অনুসন্ধানে তিনটি পৃথক অর্থনৈতিক প্রবাহ পাওয়া যায়:

খাত অনুসন্ধানের বিষয়
কূটনৈতিক বন্ড শুল্কমুক্ত আমদানি, প্রকৃত বিক্রি ও সুবিধাভোগীর হিসাব
বাণিজ্যিক আমদানি ঘোষিত আমদানি, বিক্রি ও পরিশোধিত শুল্ক
অবৈধ আমদানি চোরাচালান, মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ

এই তিনটি হিসাব একত্র না করলে প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। একইভাবে বন্ডে শুল্কমুক্ত আমদানি হওয়া মানেই সব পণ্যের রাজস্ব ফাঁকি নয়; অনুমোদিত কূটনৈতিক সুবিধাভোগীদের বৈধ ব্যবহার এবং অনুমোদনবহির্ভূত বিক্রি আলাদা করতে হবে।

এনবিআরের কাছে যেসব নথি চাওয়া প্রয়োজন

১. ২০১৬–১৭ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ছয়টি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আমদানি।

২. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের In-Bond ও Ex-Bond হিসাব, Bill of Entry, ইনভয়েস ও আমদানি মূল্য।

৩. কূটনৈতিক পাসবুক ও Tax Exemption Certificate-এর বিপরীতে বিক্রির পরিমাণ।

৪. বন্ড থেকে হোটেল, বার, ক্লাব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের তথ্য।

৫. ৩৭টি বা বর্তমানে লাইসেন্সধারী বাণিজ্যিক আমদানিকারকের আমদানি ও বিক্রির হিসাব।

৬. HS Code 2203 থেকে 2208 পর্যন্ত পণ্যভিত্তিক আমদানি, পরিমাণ, Assessable Value এবং আদায়কৃত শুল্ক-কর।

৭. বিদেশি মদ চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির ঘটনায় কাস্টমস, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার জব্দের তথ্য।

৮. ২০২৫ সালের মোট ৬ কোটি ৬৯ লাখ লিটার অ্যালকোহল বিক্রির মধ্যে বিদেশি মদের প্রকৃত অংশ।

মদের বাজার আছে, রাজস্বের হিসাব কোথায়?

বাংলাদেশে অ্যালকোহলিক পানীয়ের বাজারের পরিমাণ বাড়ছে। অন্যদিকে বিদেশি মদ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক-কর, কূটনৈতিক বন্ড সুবিধা, অনিবন্ধিত আমদানি এবং বাজারে সরবরাহের অসামঞ্জস্য দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব প্রশাসনের সামনে প্রশ্ন তৈরি করছে।

একদিকে বন্ড সুবিধায় বিপুল পরিমাণ মদ আমদানির ঐতিহাসিক তথ্য, অন্যদিকে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত আমদানির চেয়ে বেশি বিক্রির তথ্য এবং অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে গবেষণা— সব মিলিয়ে বিষয়টি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজস্ব অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

২০ হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য এনবিআরের আমদানি, বন্ড ও বিক্রির তথ্য প্রকাশ জরুরি। একই সঙ্গে মদের উচ্চ শুল্কহার অবৈধ বাণিজ্যকে কতটা উৎসাহিত করছে, সেটিও নীতিগতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্র যদি প্রকৃত বাজারের হিসাবই না জানে, তাহলে শুল্ক ছাড়, রাজস্ব আদায় এবং অবৈধ বাণিজ্যের আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করবে কীভাবে?


প্রতিবেদনটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও নথি

১. Euromonitor International, Alcoholic Drinks in Bangladesh, September 2026 — ২০২৫ সালের মোট অ্যালকোহল বিক্রয়পরিমাণ ও বাজারের প্রবৃদ্ধি।

২. Euromonitor International, Spirits in Bangladesh, September 2026 — ২০২৫ সালের Spirits বিক্রয়পরিমাণ।

৩. The Business Standard, ১৮ জানুয়ারি ২০২২ — Govt earns only Tk52cr from liquor imports in five years।

৪. The Business Standard, ২৯ নভেম্বর ২০২১ — How an alcohol software made all days dry।

৫. S. M. Humayun Kabir, Saidul Alam, Estiaque Bari and Towfiqul Islam Khan, Estimating Unrecorded International Trade of Alcohol and Forgone Revenue in Bangladesh, Journal of Economics, Management and Trade, 2020, Volume 26, Issue 1, Pages 53–60. DOI: 10.9734/jemt/2020/v26i130219।

৬. Bangladesh Customs / NBR, Harmonised Tariff, Chapter 22 — মদ, স্পিরিটস ও অন্যান্য অ্যালকোহলিক পানীয়ের HS Code ও শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস।

৭. Bangladesh Customs, HS Code 2208-এর Duty Calculator — ২০২৬–২৭ অর্থবছরের নির্দিষ্ট স্পিরিটসের মোট করভার যাচাইয়ের ভিত্তি।

সম্পাদকীয় সতর্কতা: ২০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কটি এখনো নথিভিত্তিক চূড়ান্ত রাজস্ব ক্ষতি নয়। এটি অনুসন্ধানের লক্ষ্য ও সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির হিসাব। ৬৩৬.৬৩ শতাংশ করভার সব ধরনের অ্যালকোহলিক পানীয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যও নয়।

সম্পূরক সংবাদ

দেশে ফল খাওয়া এখন বিলাসিতা, সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা