Headlines

“আমরা জানাজা পড়াবো না”: ভারতবর্ষের পুরনো পৌরহিত্যের নতুন রূপ

বাংলাদেশ

একজন মানুষ মারা গেছেন। তার জীবনের ভুল-শুদ্ধ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ— সবকিছুর বিচার এখন আর তার নিজের হাতে নেই। কিন্তু মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে বিচারকের অভাব হয় না। কেউ ঠিক করে দেন, তিনি কতটা ধার্মিক ছিলেন; কেউ নির্ধারণ করেন, তার জানাজা হবে কি না; কেউ আবার মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতার সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ঘোষণা আসে— “আমরা জানাজা পড়াবো না।”

ফলোআপ নিউজ ডেস্ক

প্রশ্ন হলো, এই ‘আমরা’ কারা? তাদের হাতে এই কর্তৃত্ব কে তুলে দিয়েছে? ধর্মীয় আচার পরিচালনার দায়িত্ব কি ধীরে ধীরে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকারে পরিণত হচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ভারতবর্ষের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়। কারণ, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও ধর্মকে কেন্দ্র করে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সামাজিক প্রবণতাগুলোর মধ্যে কিছু লক্ষণীয় মিল রয়েছে।

পৌরহিত্যের পুরোনো কাঠামো, নতুন ধর্মীয় পরিচয়

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রাহ্মণ্যবাদী সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় আচার, শুদ্ধতা ও সামাজিক মর্যাদার ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ একটি পুরোহিতশ্রেণির প্রভাব। ঐতিহাসিকভাবে এই কর্তৃত্ব কখনো ধর্মীয় জ্ঞান, কখনো আচারবিধি, কখনো জন্মগত পরিচয় এবং কখনো সামাজিক প্রথার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অবশ্য ভারতীয় ধর্মীয় ঐতিহ্য কখনোই একরৈখিক ছিল না; এর ভেতরেই ছিল প্রতিবাদ, সংস্কার, ভক্তিবাদ এবং কর্তৃত্ববিরোধী নানা ধারা।

কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায়।

ধর্মীয় আচার পরিচালনাকারী একটি শ্রেণি যখন নিজেকে ধর্মের একমাত্র বৈধ ব্যাখ্যাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন ধর্ম আর কেবল বিশ্বাস বা আত্মিক অনুশীলনের বিষয় থাকে না। তা হয়ে ওঠে সামাজিক ক্ষমতার একটি উৎস। কে শুদ্ধ, কে অশুদ্ধ; কে গ্রহণযোগ্য, কে বর্জনীয়— এসব নির্ধারণের ক্ষমতাই তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আধুনিক মুসলিম সমাজেও যখন কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী এমন একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তখন প্রশ্ন জাগে— ধর্মীয় পরিচয় বদলেছে, কিন্তু কর্তৃত্বের কাঠামো কি একই রয়ে গেছে?

এখানে ইসলামকে ব্রাহ্মণ্যবাদের সমতুল্য বলা হচ্ছে না। দুটি ধর্মের ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব ও সামাজিক কাঠামো আলাদা। তুলনাটি করা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক প্রবণতার: ধর্মীয় কর্তৃত্বকে ব্যবহার করে অন্য মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা।

“আমরা জানাজা পড়াবো না”— এ কেমন কর্তৃত্ব?

জানাজা একটি ধর্মীয় আচার। ইসলামে জানাজা নামাজের নিজস্ব বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় মতভেদ দেখা দিলে সেই মতভেদ কীভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ কোনো ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত না-ও হতে পারেন। কোনো ইমাম বা ধর্মীয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জানাজা পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানাতেও পারেন। সব অস্বীকৃতিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তৃত্ববাদ নয়; এর পেছনে ধর্মীয় বিধান, বাস্তব পরিস্থিতি কিংবা ব্যক্তিগত বিবেচনা থাকতে পারে।

কিন্তু যখন এমন ঘোষণা দেওয়া হয় কাউকে সামাজিকভাবে অপমানিত করতে, একটি পরিবারকে চাপে ফেলতে, মৃত ব্যক্তির অনুসারীদের শাস্তি দিতে কিংবা নিজের ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রদর্শনী হিসেবে— তখন বিষয়টি আর নিছক ব্যক্তিগত ধর্মীয় সিদ্ধান্ত থাকে না। তা পরিণত হয় সামাজিক ক্ষমতা প্রয়োগের ঘটনায়।

মৃত মানুষটি আর নিজের পক্ষে কথা বলতে পারেন না। শোকাহত পরিবার তখন সামাজিক চাপের মুখে পড়ে। আর সেই পরিস্থিতিতে ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রদর্শন হয়ে উঠতে পারে একধরনের প্রতীকী শাস্তি।

এখানেই প্রশ্নঃ ধর্মীয় আচার কি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, নাকি মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য?

পুরোহিততন্ত্রের মুসলিম সংস্করণ?

ভারতবর্ষে পুরোহিততন্ত্রের ঐতিহাসিক সমালোচনা মূলত ধর্মীয় আচার পরিচালনাকারী প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। সমালোচনার লক্ষ্য সেই ব্যবস্থা, যেখানে একটি বিশেষ শ্রেণি ধর্মীয় ব্যাখ্যার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে এবং সেই অধিকারকে সামাজিক বৈষম্য ও বর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

আধুনিক মুসলিম সমাজে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেলে তাকে প্রশ্ন করার যথেষ্ট কারণ আছে।

যখন কেউ নিজেকে ধর্মের একমাত্র বিশুদ্ধ প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন, অন্যের বিশ্বাসকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেন, ধর্মীয় আচারের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন কিংবা মানুষের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের চেষ্টা করেন, তখন তার ভূমিকার সঙ্গে ঐতিহাসিক পৌরহিত্যের কিছু কাঠামোগত মিল পাওয়া যেতে পারে।

এই অর্থেই ‘পুরনো পৌরহিত্যের নতুন রূপ’ কথাটি তাৎপর্যপূর্ণ।

এটি কোনো সরল ধর্মীয় সমীকরণ নয়। বরং একটি সামাজিক রূপকের ব্যবহার। এখানে পোশাক আলাদা, ধর্মীয় পরিভাষা আলাদা, আচার আলাদা; কিন্তু কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলে মিল থাকতে পারে।

একসময় কেউ বলতে পারতেন, অমুক ব্যক্তি অশুদ্ধ, তাই তার সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক রাখা যাবে না। অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে কেউ বলতে পারেন, অমুক ব্যক্তি ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নন, তাই তার জানাজা পড়ানো হবে না। দু’টি বক্তব্যের ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক ভিত্তি এক নয়। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই যদি উদ্দেশ্য হয় সামাজিক বর্জন চাপিয়ে দেওয়া, তাহলে সেই ক্ষমতার রাজনীতি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

আরবীয় সংস্করণ, ভারতীয় ভূগোল

ইসলাম আরব উপদ্বীপে উদ্ভূত একটি বিশ্বধর্ম। তার ধর্মীয় ইতিহাস, ভাষা ও প্রাথমিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আরবীয়। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলমানেরা বাস করেন দক্ষিণ এশিয়ার নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সমাজ ও সংস্কৃতির ভেতরে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সম্পর্ক জটিল। আরবি ভাষায় ধর্মীয় আচার পালন করা, আরবীয় পোশাক পরা কিংবা আরবের কোনো সামাজিক রীতি অনুসরণ করা নিজে থেকে কর্তৃত্ববাদ বা পশ্চাৎপদতার প্রমাণ নয়। একইভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করলেই কেউ উদার হয়ে যান না।

সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক রীতিকে ধর্মের একমাত্র বৈধ রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়; যখন অন্য মুসলমানের জীবনযাপন, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার কিংবা ধর্মীয় অনুশীলনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে সামাজিক শাস্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

বাংলাদেশের মুসলমানদের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে: ধর্মীয় বিশ্বাসের চর্চা করতে গিয়ে তারা কি নিজেদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ব্যক্তিস্বাধীনতার জায়গা ধরে রাখতে পারবেন? নাকি ধর্মীয় কর্তৃত্বের কিছু কেন্দ্র তাদের বলে দেবে— কীভাবে পোশাক পরতে হবে, কীভাবে জীবনযাপন করতে হবে, কোন মত গ্রহণ করতে হবে এবং মৃত্যুর পর তাদের জন্য কোন সামাজিক আচরণ অনুমোদিত হবে?

আরবীয় সংস্কৃতির সমালোচনা এখানে লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক অনুকরণ কিংবা ধর্মীয় ব্যাখ্যার নামে একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবণতা।

ধর্মের বাজারে কর্তৃত্বের প্রতিযোগিতা

আধুনিক সমাজে ধর্মীয় কর্তৃত্ব কেবল মসজিদ, মন্দির কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও, বক্তৃতা এবং জনসমক্ষে দেওয়া ঘোষণার মাধ্যমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বেরা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে।

এই প্রভাবের সঙ্গে যখন অনুসারী সংগ্রহ, জনপ্রিয়তা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে হেয় করার প্রতিযোগিতা যুক্ত হয়, তখন ধর্মীয় বক্তব্যও ক্ষমতার প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।

কাউকে ধর্মচ্যুত ঘোষণা করা, কারও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা “তার জানাজা পড়ানো হবে না” বলে প্রচার করা— এসব বক্তব্যের সামাজিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে: কে বক্তব্য দিয়েছেন, কী প্রেক্ষাপটে দিয়েছেন, ধর্মীয় যুক্তি কী ছিল এবং এর ফলে কারা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কারণ, শুধু উত্তেজক বক্তব্য শুনে কোনো ব্যক্তিকে পৌরহিত্যের প্রতিনিধি ঘোষণা করা যেমন যথেষ্ট নয়, তেমনি ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে সামাজিক বর্জনের প্রয়োগ ঘটলে সেটিকে প্রশ্নহীনভাবে মেনে নেওয়াও যুক্তিসংগত নয়।

ধর্মীয় কর্তৃত্বের সমালোচনা করতে হলে প্রমাণ, প্রেক্ষাপট ও যুক্তি প্রয়োজন। অন্যথায় সমালোচনাও আরেক ধরনের অসহিষ্ণুতায় পরিণত হতে পারে।

মৃত মানুষেরও কি সামাজিক অধিকার নেই?

মৃত ব্যক্তির বিশ্বাস, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর তার পরিবারকে অপমান করা, শোককে শাস্তির উপকরণে পরিণত করা কিংবা কোনো গোষ্ঠীর সামাজিক ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ব্যবহার করা হলে তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।

এখানে জানাজার ধর্মীয় বিধান নিয়ে চূড়ান্ত ফতোয়া দেওয়া এই আলোচনার উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রশ্নটি হলো, ধর্মীয় বিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার নামে কেউ কি মানুষের অসহায় মুহূর্তকে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন?

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকা উচিৎ। কোনো ধর্মীয় ব্যক্তির বক্তব্য প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়; আবার ধর্মীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত হলেই তাকে অপমান করাও সমাধান নয়।

সমাজে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে বিশ্বাসের স্বাধীনতার পাশাপাশি অবিশ্বাস, ভিন্নমত এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিও ন্যূনতম সম্মান প্রয়োজন।

তাহলে পরিবর্তনের ফাঁদ কোথায়?

আমরা প্রায়ই ভাবি, পুরোনো ধর্মীয় কর্তৃত্ব ভেঙে নতুন ধর্মীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সমাজ বদলে যাবে। কিন্তু নতুন পরিচয়ের মানুষটি যদি পুরোনো কর্তৃত্বেরই নতুন সংস্করণ হয়ে ওঠেন, তাহলে পরিবর্তনটি আসলে কতটা পরিবর্তন?

যে ব্যক্তি একসময় পুরোহিততন্ত্রের একচেটিয়া ক্ষমতার সমালোচনা করতেন, তিনি নিজেই যদি অন্য ধর্মীয় পরিচয়ে সেই একচেটিয়া ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে তিনি ব্যবস্থাটিকে বদলাচ্ছেন না; শুধু ব্যবস্থার পরিচালকের পরিচয় বদলাচ্ছেন।

যে সমাজে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় কোনো বিশেষ শ্রেণির অনুমোদনের ভিত্তিতে, সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তনমাত্রেই মুক্তি আসে না। প্রয়োজন কর্তৃত্বের জবাবদিহি, ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি এবং সামাজিক বর্জনের বিরুদ্ধে অবস্থান।

এ কারণেই প্রশ্নটি শুধু ‘আমরা জানাজা পড়াবো না’— এই ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্নটি হলো, কে কাকে গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করার অধিকার দাবি করছেন? সেই অধিকারের ভিত্তি কী? এবং যাঁকে বর্জন করা হচ্ছে, তার ও তার পরিবারের মর্যাদা রক্ষার ব্যবস্থা কোথায়?

ধর্মীয় পরিচয় বদলালেই কর্তৃত্বের চরিত্র বদলায় না। পুরোনো পৌরহিত্যের নতুন সংস্করণকে চেনার উপায় তার পোশাক বা ভাষা নয়, বরং মানুষের ওপর তার ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন।

ধর্ম যদি মানুষের আত্মিক আশ্রয় হয়, তবে সেই আশ্রয়কে সামাজিক বর্জনের অস্ত্রে পরিণত করার অধিকার কারও থাকা উচিৎ নয়। আর যদি কেউ ধর্মের নামে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের একচ্ছত্র অধিকার দাবি করেন, তাহলে তাকে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই হবে—

আপনি কি ধর্মের সেবা করছেন, নাকি ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন?