ফলোআপ নিউজ ডেস্ক
খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন পুলিশ পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর এমন নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুলিশ যদি রাতের রাস্তায় একা চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়?
পুলিশের সঙ্গে চলাচল করার জন্য সাধারণ মানুষের তো আলাদা কোনো দল নেই। প্রত্যেকের সঙ্গে একজন করে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। রাতের শিফট শেষে শ্রমিককে বাড়ি ফিরতে হয়, দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীকে ফিরতে হয়, অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হয়, কর্মজীবী নারীকে বাড়ি পৌঁছাতে হয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়; সাধারণ মানুষের জন্যও নিরাপদ জনপরিসর নিশ্চিত করা। পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলে তার নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া যৌক্তিক। কিন্তু সেই ব্যবস্থা যদি জনমনে এমন ধারণা তৈরি করে যে পুলিশই যখন একা চলতে পারছে না, তখন সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ— তাহলে সেটি রাষ্ট্রের জনসংযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
আরেকটি বিপজ্জনক দিক রয়েছে। অপরাধীরা যদি এমন বার্তা থেকে মনে করে যে রাতের রাস্তায় পুলিশেরও অসহায়ত্ব রয়েছে, তাহলে তাদের মনোবল বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অপরাধ দমনে শুধু সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর টহল, দ্রুত পুলিশি সাড়া, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আইনের দৃশ্যমান প্রয়োগ।
নাগরিককে নিরাপত্তার জন্য সঙ্গী খুঁজতে হবে, নাকি রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে?
পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী নয়। বরং পুলিশকে নিরাপদ রেখেই নাগরিকের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
রাষ্ট্রের সাফল্য এই বার্তায় নয় যে, রাতে একা চলাচল করা যাবে না। সাফল্য হলো— একজন নাগরিক যেন রাতে একা বাড়ি ফেরার সময়ও জানেন, বিপদে পড়লে তাকে রক্ষা করার কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে।
সাধারণ মানুষ তো দল বেঁধে চলতে পারবে না। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
