Headlines

কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসের সাবেক উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান ঢাকায় বদলি, রয়েছে নানা অভিযোগ

উপপরিচালক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমানকে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা-এর উপ-পরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আদেশ জারি করা হলেও তার কর্মজীবন নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক।
উপপরিচালক
ছবি এবং সূত্রঃ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত।
পূর্বের কর্মস্থল ও অভিজ্ঞতার খতিয়ান

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পূর্বে মো. মাকসুদুর রহমান ঢাকা পশ্চিম (মোহাম্মদপুর) আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপ-পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে তিনি কক্সবাজারে যোগ দেন। কক্সবাজারে তার কার্যকাল শেষ করে সম্প্রতি সরকারি আদেশ মোতাবেক তিনি ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সদরদপ্তরে তার নতুন পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
মোহাম্মদপুর পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ

মো. মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বে মোহাম্মদপুর (ঢাকা পশ্চিম) আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত থাকাকালীন বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিলো। অনুসন্ধানী সংবাদভিত্তিক পোর্টাল দুর্নীতির ডায়েরি (Durnitir Diary)-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো নিম্নরূপঃ
    • অবৈধ অর্থ উপার্জন: মোহাম্মদপুর পাসপোর্ট অফিসে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
    • প্রভাবশালী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের বিশেষ সুবিধা: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের (৫ আগস্ট ২০২৪) পর, বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাদের বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ব্যাকডেটে পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়ন করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
    • গ্রাহক হয়রানি ও দালাল সিন্ডিকেট: সাধারণ গ্রাহকদের টাকা ছাড়া সেবা না দেওয়া, ফাইলে ভুল ধরে হয়রানি করা এবং দালালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে ফাইল ছাড় করার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে পরবর্তীতে ওএসডি (অন ডিউটি) এবং বদলির মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে বিতর্কিত এই কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগদান করায় দপ্তরে নানামুখী আলোচনা চলছে।