চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে ছিনতাই হয়েছে সরকারি ল্যাপটপ। ওই ল্যাপটপে কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে ঘটনার পর থানায় মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ঘটনায় সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
The Daily Star-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রামের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. হাসান-উজ-জামান খানকে ছুরি দেখিয়ে ২–৩ জন যুবক তার কাছ থেকে একটি সরকারি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়।
ঘটনার পর সকাল ৭টার দিকে তিনি কোতোয়ালি থানায় যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে।
ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত মালামাল ছিনতাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ছিনতাই হওয়া ল্যাপটপটি সরকারি এবং এতে কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ ছিল বলে জানা গেছে।

সরকারি সম্পত্তি হারালেও মামলা নয়?
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক The Daily Star-কে বলেন, সরকারি সম্পত্তি হারানোর ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরি করার বিধান নেই। তিনি বিষয়টি দেখার কথা জানিয়েছেন।
এ বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—যদি সরকারি সম্পত্তি হারানোর ঘটনায় জিডি করার বিধান না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা গ্রহণ করা হলো না কেন?
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, থানায় অভিযোগ করার সময় কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারি ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের বিষয়টি কি পুলিশকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল এবং সেটি জানার পরও কেন জিডি করা হলো?
কাস্টমসের তথ্য কতটা নিরাপদ?
ছিনতাই হওয়া ল্যাপটপটিতে কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর। কারণ, একটি সরকারি কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্য, ব্রাউজার সেশন, সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড, সফটওয়্যার অ্যাক্সেস কিংবা অন্যান্য authentication তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ল্যাপটপটি ছিনতাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট সরকারি সিস্টেমের access বন্ধ করা হয়েছে কি না, ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং সম্ভাব্য অননুমোদিত প্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তের অগ্রগতি কোথায়?
ঘটনাটি ঘটেছে কদমতলী বাসস্ট্যান্ডের মতো ব্যস্ত এলাকায়। ফলে আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে কি না, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কি না এবং ছিনতাই হওয়া সরকারি ল্যাপটপ উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।
সরকারি সম্পত্তি এবং কাস্টমসের সংবেদনশীল তথ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটিকে সাধারণ ছিনতাই হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
অনুসন্ধানের দাবি
একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারি ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের পর মামলা না নিয়ে শুধু জিডি করার ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ল্যাপটপে থাকা সরকারি তথ্য ও সিস্টেম অ্যাক্সেসের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সরকারি ল্যাপটপের নিরাপত্তা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের access audit এবং মামলা গ্রহণের বিষয়ে পুলিশের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই এখন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
