Headlines

কাস্টমসের নিলামে কারসাজি: আমদানিকারক-কমিশনার যোগসাজশে কম দামে গাড়ি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

price

বাংলাদেশে গাড়ির ওপর উচ্চহারের শুল্ক কাঠামোকে কেন্দ্র করে কাস্টমস নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, কিছু অসাধু আমদানিকারক ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি খালাস না করে সেগুলো নিলামের দিকে ঠেলে দেন। এতে কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আমদানির পর গাড়ি ছাড়াতে যেখানে বিপুল অঙ্কের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজপত্র জটিল করা বা শুল্ক প্রদানে বিলম্ব ঘটিয়ে গাড়িগুলো দীর্ঘদিন বন্দরে ফেলে রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময় পার হলে সেগুলো নিলামে তোলা হয়। এরপর সেই গাড়িগুলোই কম দামে কিনে নেন সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যরা।

একটি সাধারণ উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়— যে গাড়িটি বৈধভাবে খালাস করতে ১৫ লাখ টাকা শুল্ক লাগার কথা, সেটিই নিলামে মাত্র ৭ লাখ টাকায় হাতবদল হচ্ছে। ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর একই সঙ্গে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাও ব্যাহত হচ্ছে।

এ ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে অতীতের বিভিন্ন নিলাম কার্যক্রমেও। একাধিক বন্দরে শতাধিক গাড়ি একসঙ্গে নিলামে তোলার ঘটনা রয়েছে, যেখানে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনাকে অনেকেই বর্তমান অভিযোগের প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু রাজস্ব ক্ষতির বিষয় নয়— বরং কাস্টমস ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর বড় ধরনের আঘাত। তারা বলছেন, নিলাম প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো, সংশ্লিষ্টদের সম্পদের হিসাব যাচাই এবং স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে সরকার ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।