Headlines

আশ্রমে মহিলা ভক্তকে শারীরিক নির্যাতন, বৃন্দাবনের মহারাজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

মহারাজ

২০২৩ সালে সেবাধাম আশ্রমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন শোষণের দাবি; মহারাষ্ট্রে দায়ের জিরো এফআইআর

ধর্মীয় প্রচারক ও আধ্যাত্মিক গুরুর পরিচয়ের আড়ালে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। আশারাম বাপু থেকে গুরমিত রাম রহিম সিং— বিভিন্ন সময়ে একাধিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বৃন্দাবনের ধর্মীয় প্রচারক ইন্দ্রদেব মহারাজের নাম। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দীর্ঘদিন ধরে শোষণের অভিযোগ তুলেছেন পুনের এক নারী ভক্ত।

অভিযোগের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দারের কাশিমিরা থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দীক্ষা থেকে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজমাধ্যমে ইন্দ্রদেব মহারাজের বক্তব্য শুনে তার প্রতি আকৃষ্ট হন ওই নারী। পরে মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে আয়োজিত একটি সৎসঙ্গে অংশ নেন এবং সেখানেই তাঁর কাছ থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেন।

এরপর ধীরে ধীরে মহারাজের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়তে থাকে। নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথাও মহারাজকে জানান তিনি। সমস্যার সমাধানের আশ্বাস পেয়ে বৃন্দাবনের সেবাধাম আশ্রমে যাতায়াত শুরু করেন।

গভীর রাতে নিজের ঘরে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগকারী নারীর দাবি, ২০২৩ সালে বৃন্দাবনের সেবাধাম আশ্রমে অবস্থানকালে একদিন গভীর রাতে তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান ইন্দ্রদেব মহারাজ। অন্য কেউ জানতে চাইলে ওষুধ আনতে যাচ্ছেন— এমন কথা বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। শুধু একবার নয়, পরবর্তী সময়েও তাঁকে একাধিকবার উত্যক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এমনকি ঘটনাটি প্রকাশ করলে সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাকে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

থানা থেকে জিরো এফআইআর

অভিযোগকারী নারী প্রথমে মথুরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে পরে সমাজকর্মী তৃপ্তি দেশাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তৃপ্তি দেশাইয়ের সহযোগিতায় মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দারের কাশিমিরা থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

আরও কয়েকজন নারীর অভিযোগ

সম্প্রতি পুনেতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সমাজকর্মী তৃপ্তি দেশাইয়ের পাশে উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকারী নারীসহ আরও কয়েকজন নারী। তাদের মধ্য থেকেও ইন্দ্রদেব মহারাজের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তৃপ্তি দেশাইয়ের দাবি, অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের বক্তব্যও পুলিশের নথিভুক্ত করা প্রয়োজন।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি কোথায়?

এই অভিযোগ আবারও ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভক্তদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আস্থার সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ককে ব্যবহার করে সম্ভাব্য নির্যাতনের প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

একজন ধর্মীয় প্রচারকের প্রতি ভক্তের আস্থা ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বিষয়। কিন্তু সেই আস্থাকে ব্যবহার করে কেউ যদি যৌন নির্যাতন বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধ করেন, তাহলে তার ধর্মীয় পরিচয় কোনোভাবেই দায়মুক্তির কারণ হতে পারে না।

অবশ্য ইন্দ্রদেব মহারাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণ করা জরুরি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহারাজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি