Headlines

কর্মকর্তাদের পরিচিতি প্রকাশে তুলনামূলক স্বচ্ছতায় ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেট

কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব কমিশনারেটের তুলনায় ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের তথ্য প্রকাশে এগিয়ে ঢাকা পশ্চিম।

ফলোআপ নিউজ অনুসন্ধান 

সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয়, পদবি ও যোগাযোগের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য রাখা। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রাজস্ব আদায়, ভ্যাট নির্ধারণ, অডিট, তদন্ত ও করদাতাদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় জানা নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন।

ঢাকার বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেটের সরকারি ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কর্মকর্তাদের পরিচিতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমিশনারেটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের ওয়েবসাইট তুলনামূলকভাবে অধিকতর গোছানো ও তথ্যসমৃদ্ধ। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশের পরিধি ও বিন্যাসে ভিন্নতা রয়েছে।

অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ

ঢাকা পশ্চিমে ১৮ জনের পরিচিতি, ঢাকা উত্তরে ৯ জন

ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের ওয়েবসাইটের ‘অফিসারদের তালিকা’ অংশে বর্তমানে ১৮ জন কর্মকর্তার নাম, ছবি ও পদবি প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় কমিশনার কাজী ফরিদ উদ্দীন, তিনজন অতিরিক্ত কমিশনার, একজন যুগ্ম কমিশনার, চারজন সহকারী কমিশনার, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং একজন সহকারী প্রোগ্রামার রয়েছেন। কর্মকর্তাদের নামের পাশাপাশি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অফিসের টেলিফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকাটি হালনাগাদকৃত কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের তালিকায় বর্তমানে ৯ জনের পরিচিতি রয়েছে। সেখানে কমিশনার মিয়া মোঃ আবু ওবায়দা, অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, উপপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। নাম ও পদবির পাশাপাশি ফোন নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজনের যোগাযোগের তথ্য অসম্পূর্ণ।

দক্ষিণ কমিশনারেটেও যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ

ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের তালিকায় ৯ জন কর্মকর্তার পাশাপাশি কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারীর পরিচিতিও রয়েছে। কমিশনার মোহাঃ মসিউর রহমান থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার ও সহকারী কমিশনারদের নাম, ছবি, পদবি, ফোন নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ দিক থেকে ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেটের তালিকাটিও তুলনামূলকভাবে তথ্যসমৃদ্ধ। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিক ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা পূর্ব কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে বড় ঘাটতি

চারটি কমিশনারেটের মধ্যে ঢাকা পূর্ব কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের তালিকায় সবচেয়ে বড় ঘাটতি চোখে পড়ে। ওয়েবসাইটে ‘অফিসারদের তালিকা’ অংশে বর্তমানে শুধু কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিনের নাম ও ছবি দেখা যাচ্ছে। অন্য কোনো কর্মকর্তার পরিচিতি সেখানে প্রকাশিত নেই। এমনকি কমিশনারের ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানার ঘরও ফাঁকা। যদিও ওয়েবসাইটের মূল যোগাযোগ অংশে দপ্তরের সাধারণ ফোন নম্বর ও ইমেইল দেওয়া রয়েছে।

তুলনামূলক চিত্র

কমিশনারেট প্রকাশিত পরিচিতি তথ্য প্রকাশের অবস্থা
ঢাকা পশ্চিম ১৮ জন ছবি, নাম, পদবি ও ফোন
ঢাকা উত্তর ৯ জন ছবি, নাম, পদবি, ফোন ও ইমেইল
ঢাকা দক্ষিণ ১০ জন ছবি, নাম, পদবি, ফোন ও ইমেইল
ঢাকা পূর্ব ১ জন শুধু কমিশনারের পরিচিতি

তথ্য: সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোর সরকারি ওয়েবসাইটে ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দৃশ্যমান কর্মকর্তাদের তালিকা।

ডেপুটি কমিশনার ফারহানা বেগম
ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত, স্ক্রিনশট নিয়ে ঈষৎ সম্পাদিত।

শুধু তালিকা প্রকাশ নয়, নিয়মিত হালনাগাদও জরুরি

পর্যালোচনায় ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের পরিচিতি প্রকাশের পরিধি তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত দেখা গেলেও তালিকাটিতে কিছু অসংগতি রয়েছে। যেমন, সাভার ও হেমায়েতপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে একই ব্যক্তির নাম দুবার প্রকাশ করা হয়েছে। আবার কয়েকজন কর্মকর্তার ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা নেই। ফলে তালিকাটি অধিকতর তথ্যসমৃদ্ধ হলেও একে সম্পূর্ণ নির্ভুল বা হালনাগাদ বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ কমিশনারেটের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের পরিচিতি থাকলেও তথ্যের পরিধি ও বিন্যাসে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা পূর্ব কমিশনারেটের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোর ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের নাম, ছবি, পদবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ, অফিসের ফোন নম্বর এবং সরকারি ইমেইল ঠিকানা নিয়মিত হালনাগাদ রাখা হলে সাধারণ করদাতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে শনাক্ত করা সহজ হবে।

সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয় নয়; বরং দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখা জবাবদিহির অংশ। এ ক্ষেত্রে ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেটের ওয়েবসাইট অন্য কমিশনারেটগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তথ্যসূত্র

১. ঢাকা পশ্চিম কমিশনারেট: https://vatdhakawest.gov.bd/employees

২. ঢাকা উত্তর কমিশনারেট: https://dknvat.gov.bd/employees

৩. ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেট: https://cevdsc.gov.bd/employees

৪. ঢাকা পূর্ব কমিশনারেট: https://www.vatdhkeast.gov.bd/employees