অজয় রায়কে ঘিরে অনুসন্ধানের দাবি; ১৬২ আমদানিকারকের ৭,৩০২ চালানের তথ্য, স্মার্টফোন আমদানিতে ১৯ প্রতিষ্ঠান, যন্ত্রাংশ আমদানিতে বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী— আমদানি, শুল্কায়ন ও বাজারজাতকরণে কী হচ্ছে?
ফলোআপ নিউজ অনুসন্ধান
বাংলাদেশে মোবাইল ফোন আমদানি, স্থানীয় সংযোজন এবং বাজারজাতকরণ ঘিরে কয়েক শ প্রতিষ্ঠান ও বিপুলসংখ্যক আমদানি চালানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম রয়েছে। কিন্তু এসব চালানে প্রকৃত পণ্যের পরিমাণ, ঘোষিত আমদানি মূল্য, শুল্কায়ন এবং পরবর্তী বাজারজাতকরণের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা নিয়ে অনুসন্ধানের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চালান খালাস এবং পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ শুল্কায়ন দায়িত্বে রাখার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৭ নম্বর শুল্কায়ন টিমের রাজস্ব কর্মকর্তা অজয় রায়কে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তার দায়িত্ব পালনকালে কোন কোন আমদানিকারকের মোবাইল ফোনের চালান শুল্কায়ন হয়েছে, কী পরিমাণ পণ্য খালাস হয়েছে এবং সেসব চালানে যথাযথ রাজস্ব আদায় হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
অনুসন্ধানে শুধু অজয় রায় নয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সংশ্লিষ্ট শুল্কায়ন কর্মকর্তা, আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং স্থানীয় মোবাইল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি কার্যক্রমও যাচাই করা প্রয়োজন।

১৬২ আমদানিকারকের ৭,৩০২ চালান
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ডেটাবেস Volza-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৬২টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি করেছে। এ সময়ে তাদের নামে মোট ৭ হাজার ৩০২টি আমদানি চালানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ৩৪৬টি বিদেশি সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করেছে।
এই ডেটাবেসের চালান শ্রেণিবিন্যাসে ৫৯ শতাংশ HS Code 85177900, ১৩ শতাংশ HS Code 85177021 এবং ১২ শতাংশ HS Code 85171300-এর অধীনে রয়েছে। অর্থাৎ আমদানি কার্যক্রমের বড় অংশই মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিপমেন্টের হিসাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাম:
| প্রতিষ্ঠান | শিপমেন্ট সংখ্যা |
|---|---|
| Fair Electronics Ltd | ১,১৬৭ |
| Best Tycoon BD Enterprise Limited | ১,১২১ |
| Best Tycoon BD Enterprises Ltd | ৯৩৩ |
| Edison Industries Limited | ৪১৪ |
| Samsung Electronics Co Ltd | ৩১৭ |
| BlueOcean Trading Technology BD | ২১৪ |
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: শিপমেন্ট সংখ্যা মানেই মোবাইল হ্যান্ডসেটের সংখ্যা নয়। একটি চালানে হাজার হাজার যন্ত্রাংশ থাকতে পারে, আবার একাধিক চালানে একই ধরনের পণ্য আমদানি হতে পারে। তাই চালানসংখ্যাকে সরাসরি মোবাইল ফোনের সংখ্যা বা আমদানি মূল্যের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এক বছরে ১৯ প্রতিষ্ঠানের স্মার্টফোন আমদানি
Orion Markets-এর HS Code 851713 ভিত্তিক বাণিজ্যিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৯টি প্রতিষ্ঠান ১৩৯টি চালানে স্মার্টফোন আমদানি করেছে।
এই সময়ের উল্লেখযোগ্য আমদানিকারক:
১. SEBL Distribution Ltd ২. Excel Telecom (Pvt.) Limited ৩. Executive Machines Ltd ৪. Salextra Limited ৫. Walton Digi-Tech Industries Limited
একই ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোন আমদানির উৎস হিসেবে চীনের অংশ ৭৭.৯ শতাংশ, ভারতের ১৪.৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের ৩ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ১.২ শতাংশ।
মাসভিত্তিক চালানের হিসাবে ২০২৬ সালের জুনে সর্বোচ্চ ৩২টি, জানুয়ারিতে ২৯টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৮টি চালান ছিল।
এই তালিকা সম্পূর্ণ আমদানিকারক তালিকা নয়; এটি নির্দিষ্ট সময়ের একটি বাণিজ্যিক ডেটাবেসের HS Code-ভিত্তিক তথ্য।
স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি
বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বাজারে সরাসরি আমদানিকারকদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
বিভিন্ন বাণিজ্যিক শিপমেন্ট ডেটাবেসে যেসব প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানির তথ্য পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে রয়েছে:
- Fair Electronics Ltd
- Best Tycoon BD Enterprise Limited
- Best Tycoon BD Enterprises Ltd
- Edison Industries Limited
- Walton Hi-Tech Industries Ltd
- Walton Digi-Tech Industries Limited
- BlueOcean Trading Technology BD
- Grameen Distribution Ltd
- Benli Electronic Enterprise Co Ltd
- iSmartu Technology BD Ltd
- Excel Telecom (Pvt.) Limited
- Salextra Limited
এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ধরন এক নয়। কেউ মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আমদানি করে স্থানীয়ভাবে সংযোজন করে, কেউ প্রযুক্তিপণ্য বিতরণ করে, আবার কেউহ সরাসরি হ্যান্ডসেট আমদানি করে। ফলে তাদের আমদানি তথ্য আলাদাভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা প্রয়োজন।
Salextra Limited-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিপণ্য বিতরণ ও মোবাইল ফোন উৎপাদন— দুই ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গাজীপুরে ৫৪ হাজার বর্গফুটের উৎপাদন স্থাপনা রয়েছে এবং Nokia ব্র্যান্ডের ডিভাইস উৎপাদন করা হয়।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমদানি করা যন্ত্রাংশের পরিমাণ, উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের সংখ্যা, IMEI নিবন্ধন এবং বাজারে বিক্রির তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এনবিআরের সরকারি তথ্যে স্মার্টফোন ও যন্ত্রাংশের আমদানি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মে ২০২৬-এর বাণিজ্যিক আমদানি বিবরণীতে HS Code 85171300-এর অধীনে স্মার্টফোন এবং HS Code 85177900-এর অধীনে যন্ত্রাংশের পৃথক হিসাব পাওয়া যায়।
| বিবরণ | স্মার্টফোন | মোবাইল যন্ত্রাংশ |
|---|---|---|
| HS Code | 85171300 | 85177900 |
| আমদানির নিট ওজন | ২,৮৩৩ কেজি | ৭২,১৩৩ কেজি |
| মূল্যায়িত মূল্য | ১৫,০৯,৮৭,২৪৫ টাকা | ১০৫,৪২,৬৬,৬৫৩ টাকা |
| ইনভয়েস মূল্য | ১৫,৪২,১৪,৩৭৭ টাকা | ১০৮,৫৪,৩৮০১২ টাকা |
সময়সীমা: ১–৩১ মে ২০২৬।
এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ওই এক মাসে স্মার্টফোনের তুলনায় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশের আমদানি মূল্য অনেক বেশি। তবে এটি শুধু মে মাসের বাণিজ্যিক আমদানি বিবরণী; পুরো অর্থবছরের আমদানি নয়। বন্ড সুবিধার অধীনে আমদানি এবং অন্যান্য HS Code-এ শ্রেণিবদ্ধ সংশ্লিষ্ট পণ্যের হিসাবও আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে হবে।
এনবিআর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে HS Code-ভিত্তিক আমদানি তথ্য নিয়মিত প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে মাসভিত্তিক আমদানি, মূল্যায়ন এবং পণ্যের প্রবাহ বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আমদানি শুল্ক কমেছে, তবু রাজস্ব ঝুঁকি কোথায়?
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সরকার মোবাইল ফোন আমদানির শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তন আনে। bdnews24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। অন্যান্য কর ও ভ্যাটসহ মোট আমদানি করভার ৬১.৮০ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৪৩ শতাংশে আসে।
শুল্ক কমানোর উদ্দেশ্য ছিল মোবাইল ফোনের দাম কমানো এবং স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা। কিন্তু শুল্কহার কমে যাওয়ার পরও যদি পণ্যের মূল্য কম ঘোষণা, ভুল শ্রেণিবিন্যাস, পণ্যের পরিমাণ গোপন কিংবা অন্য পণ্যের আড়ালে মোবাইল ফোন আমদানির ঘটনা ঘটে, তাহলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যায়।
বন্ধ কারখানার নামে ১,৬৫৫ মোবাইল ফোন: কাস্টমসের সাম্প্রতিক ঘটনা
২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের চালানের আড়ালে লুকানো ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
Daily Sun-এর ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। চালানটি হংকং থেকে ৩১ আগস্ট বাংলাদেশে আসে। আমদানিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল চট্টগ্রাম ইপিজেডের বন্ধ হয়ে যাওয়া Thianis Apparels Limited-এর নাম।
জব্দ করা ফোনের মধ্যে ছিল ৪৫০টি Redmi 14C, ১৫০টি Redmi 15C এবং ১ হাজার ৫৫টি পুরোনো iPhone ও চীনা ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট।
ঘটনায় পুরোনো আমদানি অনুমতিপত্র ব্যবহারের পাশাপাশি নথি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায় অস্বীকারের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনাটি মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি অনুমতিপত্র, প্রকৃত আমদানিকারক এবং পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিটিআরসির NAID ও IMEI তথ্যের সঙ্গে কাস্টমসের হিসাব মিলছে কি?
বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানি এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিটিআরসি NAID (NOC Automation and IMEI Database) ব্যবস্থা চালু করেছে।
এই ব্যবস্থায় আমদানিকারক ও স্থানীয় উৎপাদনকারীরা অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করেন। আমদানি করা ফোনের IMEI এবং বাজারজাতকরণের তথ্যও যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।
অতএব, কাস্টমসের আমদানি তথ্য, বিটিআরসির অনাপত্তিপত্র, IMEI নিবন্ধন এবং বাজারে বিক্রির তথ্য সমন্বয় করা গেলে আমদানি করা ফোনের প্রকৃত প্রবাহ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া সম্ভব।
অজয় রায় ও ৭ নম্বর শুল্কায়ন টিমের চালান তদন্তের দাবি
ঢাকা কাস্টমস হাউজের ৭ নম্বর শুল্কায়ন টিমের রাজস্ব কর্মকর্তা অজয় রায়কে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
বিশেষ করে তার দায়িত্ব পালনকালে শুল্কায়ন হওয়া সব মোবাইল ফোনের চালান, আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ঘোষিত মূল্য, পণ্যের পরিমাণ এবং আদায়কৃত রাজস্বের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা উচিৎ।
তদন্তে নিম্নোক্ত তথ্যগুলো সংগ্রহ করা প্রয়োজন:
১. অজয় রায়ের মাধ্যমে শুল্কায়ন হওয়া সব মোবাইল ফোনের বিল অব এন্ট্রি।
২. সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের নাম, বিআইএন ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা।
৩. চালানভিত্তিক পণ্যের ব্র্যান্ড, মডেল, পরিমাণ ও আমদানি মূল্য।
৪. পণ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন ও কাস্টমসের মূল্যায়ন।
৫. ঘোষিত মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের মধ্যে পার্থক্য।
৬. আমদানিকারকদের ব্যাংক লেনদেন, দোকান, গুদাম ও বিক্রয় রেকর্ড।
৭. আমদানি করা যন্ত্রাংশের পরিমাণের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের হিসাব।
৮. বিটিআরসির অনুমোদন, IMEI নিবন্ধন এবং বাজারজাতকরণের তথ্য।
৯. একই আমদানিকারকের চালান বারবার একই কর্মকর্তা বা টিমের মাধ্যমে খালাস হয়েছে কি না।
১০. ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের ইতিহাস।
মূল প্রশ্ন: আমদানি থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কারা কী সুবিধা পাচ্ছে?
বাংলাদেশের মোবাইল ফোন আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন খাতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে শুধু আমদানিকারকদের নাম জানাই যথেষ্ট নয়। আমদানিকারক, উৎপাদনকারী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ ও পণ্যের প্রবাহ অনুসন্ধান করতে হবে।
বিশেষ করে কোনো আমদানিকারকের ঘোষিত আমদানি মূল্য, প্রকৃত পণ্যের পরিমাণ, ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ, শুল্ক-কর এবং বাজারে বিক্রির হিসাবের মধ্যে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা জরুরি।
অজয় রায়কে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এখনো নথিভিত্তিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আমদানিকারক এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন হচ্ছে, মোবাইল ফোন আমদানির বিশাল বাজারে সরকারের রাজস্ব আদায়, শুল্কায়নের স্বচ্ছতা এবং আমদানিকারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনবিআর কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে?
