সাড়ে চার বছরে বন্ড সুবিধায় আমদানি ৩,৬৭০ টন, রপ্তানি প্রায় ৭৮৬ টন; কাস্টমসের হিসাবে ২,৮৮৩ টন কাপড়ের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন | এক অভিযানে ৫৮১ টন কাপড়ের হদিস না পাওয়ার দাবি | ১১.৮৩ কোটি, প্রায় ১৪ কোটি ও ৩০ কোটি টাকার শুল্ককর দাবির তথ্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বন্ড সুবিধায় শুল্ক-করমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করে তা রপ্তানিমুখী পোশাক উৎপাদনে ব্যবহারের কথা। কিন্তু রাজধানীর তেজগাঁওয়ের অনন্যা সক্স অ্যান্ড ইনার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ঘিরে কাস্টমসের একাধিক তদন্ত ও পরিদর্শনে আমদানি করা কাপড়ের মজুত, ব্যবহার ও রপ্তানির হিসাব নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে।
কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে চার বছরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় প্রায় ৩ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন কাপড় ও কাঁচামাল আমদানি করেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭৮৬ মেট্রিক টন। এ দুই হিসাবের মধ্যে বড় ব্যবধানই কাস্টমসের অনুসন্ধানের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রপ্তানি হিসাবে বাদ দেওয়ার পর প্রায় ২ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন কাপড়ের ব্যবহার বা বৈধ নিষ্পত্তির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব কাপড়ের একটি অংশ খোলাবাজারে চলে যেতে পারে। তবে এ অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মামলা ও তদন্তের নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ড লাইসেন্স পাওয়ার পর আমদানির বড় পরিমাণ
অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও বন্ড কমিশনারেটের তথ্য বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ আগস্ট ২০২২ অনন্যা সক্স অ্যান্ড ইনার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে বন্ড লাইসেন্স দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—BGMEA-এর বর্তমান সদস্যতথ্যে প্রতিষ্ঠানটির BGMEA রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬৬০০। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. মুরাদ হোসাইন (সোহাগ)-এর নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ৪৫/২, তেজগাঁও আই/এ, কুনিপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা। BGMEA-এর তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এবং শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট ও পোলো শার্ট প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্য।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) রপ্তানিকারক ডাটাবেজেও প্রতিষ্ঠানটির একই ঠিকানা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. মুরাদ হোসাইন সোহাগের নাম রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের নিট ও ওভেন পোশাকের HS Code তালিকাভুক্ত আছে।
৩,৬৭০ টন আমদানি, রপ্তানি প্রায় ৭৮৬ টন
কাস্টমস নথির ভিত্তিতে Bangla Outlook-এর অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, অনন্যা সক্স বন্ড সুবিধায় প্রায় ৩,৬৭০ মেট্রিক টন কাপড় ও কাঁচামাল আমদানি করেছে। একই সময়ের রপ্তানি ছিল প্রায় ৭৮৬ মেট্রিক টন।
বন্ড ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী, শুল্ক-কর ছাড়ে আনা কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। তাই আমদানি করা কাঁচামাল, উৎপাদন, মজুত এবং রপ্তানির মধ্যে হিসাবের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। কাস্টমসের অনুসন্ধানে এই হিসাব মিলিয়ে দেখার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

২০২৫ সালের অভিযানে ২৬৫.৩২৫ টন কাপড়ের হদিস না পাওয়ার দাবি
প্রকাশিত কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে প্রায় ২৬৫.৩২৫ মেট্রিক টন কাপড় বন্ড সুবিধায় আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা তদন্ত শুরু করে।
১৭ জুলাই ২০২৫ পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে ওই কাপড় পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চালানগুলোর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ১১ কোটি ৮৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮১১ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় কারখানায় জেন্টল পার্ক ব্র্যান্ডের পোশাক উৎপাদন হতে দেখা যায় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই উৎপাদনকাজের পক্ষে ক্রয়াদেশ, বিক্রয় বা রপ্তানির প্রয়োজনীয় নথি কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি বলে কাস্টমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
৫৮১ টন কাপড়ের হদিস নেই—কাস্টমসের অভিযানে
এরপর ২০ জুলাই ২০২৫ ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে অভিযান চালায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ওই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানির হিসাব পরীক্ষা করে দেখা যায়, ২২টি ইউডির বিপরীতে ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩৪ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ২৮৪ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের কাপড় আমদানি করা হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৫০৭ পিস তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে। এসব পোশাকে ব্যবহৃত কাপড়ের পরিমাণ হিসেবে দেখানো হয় প্রায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৩৬৬ মেট্রিক টন।
এই হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৯৪ টন সমন্বয়ের পর আরও ৫৮১ মেট্রিক টন কাপড়ের হিসাব পাওয়া যায়নি বলে বন্ড কমিশনারেটের তদন্তের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ওই ৫৮১ টন কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কাপড় অবৈধভাবে অপসারণ ও বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড কমিশনারেট মামলা করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
হিসাবটি এক নজরে
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| সংশ্লিষ্ট আমদানি | প্রায় ১,২৮৪ মেট্রিক টন |
| রপ্তানিকৃত পণ্যে ব্যবহৃত কাপড় | প্রায় ৩৬৬ মেট্রিক টন |
| অন্যান্য সমন্বয় | প্রায় ২৯৪ মেট্রিক টন |
| হিসাব না মেলা কাপড় | ৫৮১ মেট্রিক টন |
| শুল্কায়নযোগ্য মূল্য | প্রায় ৩৩.৮৮ কোটি টাকা |
| প্রযোজ্য শুল্ক-কর | প্রায় ৩০.২৬ কোটি টাকা |
আগের অভিযানেও প্রায় ২৯৫ টন নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের একটি অভিযানে প্রায় ২৯৫ মেট্রিক টন কাপড়ের হিসাব পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা শুল্ককর দাবির মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ ২০২৪ ও ২০২৫ সালের দুইটি বন্ড কমিশনারেট অভিযানের তথ্যেই পৃথকভাবে বিপুল পরিমাণ কাপড়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১১.৮৩ কোটি, ১৪ কোটি ও ৩০ কোটি—তিন দাবির তথ্য
প্রকাশিত নথিভিত্তিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনন্যা সক্সকে ঘিরে তিনটি পৃথক অনুসন্ধান/অভিযানে শুল্ক-কর দাবির তথ্য সামনে এসেছে।
| তদন্ত/অভিযানের বিষয় | সংশ্লিষ্ট কাপড় | উল্লেখিত শুল্ক-কর |
|---|---|---|
| কাস্টমস গোয়েন্দার ১৯ বিল অব এন্ট্রি | প্রায় ২৬৫.৩২৫ টন | ১১.৮৩ কোটি টাকা |
| ২০২৪ সালের বন্ড কমিশনারেট অভিযান | প্রায় ২৯৫ টন | প্রায় ১৪ কোটি টাকা |
| ২০২৫ সালের বন্ড কমিশনারেট অভিযান | ৫৮১ টন | প্রায় ৩০.২৬ কোটি টাকা |
এগুলোকে একই দাবির যোগফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বিভিন্ন চালান, অভিযান ও হিসাবের ভিত্তিতে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই চূড়ান্ত আর্থিক দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মামলা, দাবিনামা ও আদেশ দেখতে হবে।
মামলা চলার মধ্যেই নতুন করে FOC সুবিধা?
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে অনন্যা সক্সকে বিভিন্ন সময়ে FOC (Free of Cost) সুবিধায় কাপড় আমদানির জন্য প্রাপ্যতার প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—
- ২৬ জুন ২০২৫: ৯৫ মেট্রিক টন;
- ২ জুলাই ২০২৫: ২২৭ মেট্রিক টন;
- ১০ ডিসেম্বর ২০২৫: ৬৪৫ মেট্রিক টন।
মোট পরিমাণ ৯৬৭ মেট্রিক টন।
বিশেষভাবে প্রশ্ন উঠেছে, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৬৪৫ টন কাপড়ের প্রত্যয়ন দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড কমিশনারেটের দুটি এবং কাস্টমস গোয়েন্দার একটি মামলা চলমান ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ
সর্বশেষ তদন্তে কাস্টমস গোয়েন্দা ও সিআইসি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম গঠনের কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
Bangla Outlook-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ জুলাই ২০২৫ একটি বহুপক্ষীয় কাস্টমস দল কারখানায় গিয়ে মজুত যাচাই ও নথি পরীক্ষা করে। কর্মকর্তারা একাধিকবার সরেজমিন যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও কিছু ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে Business Barta-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সর্বশেষ যৌথ অভিযানে কর্মকর্তারা কারখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন এবং ভুয়া শ্রমিক বসিয়ে গেট আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উৎপাদন নিয়ে আরও প্রশ্ন
কাস্টমস তদন্তের সময় কারখানায় জেন্টল পার্কের পোশাক উৎপাদন হতে দেখা যায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা ওই উৎপাদনের ভিত্তি হিসেবে ক্রয়াদেশ, উৎপাদন বা বিক্রয়-রপ্তানি সংক্রান্ত নথি দেখতে চেয়েছিলেন বলে Bangla Outlook-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করা হয়েছিল কিনা, সেটিও তদন্তের অংশ হয়েছে।
এখানে আরেকটি অনুসন্ধানের জায়গা তৈরি হয়—বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় কোন ব্র্যান্ডের পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেই উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় work order, purchase order, UD, export documents ও stock register কী বলছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
অনন্যা সক্সের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে।
Business Barta-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা ৫০৮টি চালান বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে খালাস হয়েছে। এর মধ্যে সুরমা এন্টারপ্রাইজ সবচেয়ে বেশি চালান খালাস করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে টেক কেয়ার কার্গো সিস্টেম, GHMSM এজেন্সি, NAK কার্গো লিমিটেড, কাজী নিজাম উদ্দিন, এ বি ট্রেডার ইন্টারন্যাশনাল, চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই; তাদের ভূমিকা তদন্তের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘স্টক লট’ রপ্তানি নিয়ে তদন্তকারীদের প্রশ্ন
প্রকাশিত প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অনন্যা সক্সের আমদানি করা কাপড়ের ধরন এবং রপ্তানি করা পোশাকের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষ করে ফ্লিস ফেব্রিক, ভিসকস-পলিয়েস্টার ব্লেন্ডেড ওভেন ফেব্রিক, লেস ফেব্রিক ও বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক স্যাম্পল নিয়ে তদন্তকারীদের প্রশ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে স্টক লটের পণ্য ব্যবহার করে রপ্তানি দেখানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ/মূল্যায়ন; চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট রপ্তানি নথি ও কাস্টমস সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
আগের দুই মামলার তথ্যও সামনে
Bangla Outlook-এর প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সর্বশেষ তদন্তের আগেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ কোটি টাকা এবং প্রায় ৮.৬৪ কোটি টাকা শুল্ক-কর দায়সংক্রান্ত দুটি কাস্টমস মামলা শুরু হয়েছিল।
অন্যদিকে Business Barta-র প্রতিবেদনে পৃথকভাবে প্রায় ১৪ কোটি ও ৩০ কোটি টাকার দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অঙ্ক ও মামলার বর্ণনায় পার্থক্য থাকায়, মামলার নম্বর, তারিখ ও দাবিনামা সংগ্রহ করে প্রতিটি দাবিকে আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠানের পরিচয়
BGMEA-এর তথ্য অনুযায়ী—
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | Anannya Socks & Inners Industries Ltd. |
| BGMEA Reg. No. | 6600 |
| ব্যবস্থাপনা পরিচালক | Md. Murad Hossain (Shohagh) |
| ঠিকানা | 45/2, Tejgaon I/A, Kunipara, Tejgaon, Dhaka |
| প্রতিষ্ঠার তারিখ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ |
| কর্মী | ১৩০ ব্যবস্থাপনা + ১০০ কর্মী |
| মেশিন | ২৪০ |
| বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা | ৪ লাখ ডজন |
| প্রধান রপ্তানি পণ্য | Shirt, Pant, T-Shirt, Polo Shirt |
এই তথ্য BGMEA-এর সদস্য ডাটাবেজে প্রকাশিত।
কাস্টমসের একটি প্রকাশিত IRC তালিকাতেও ANANNYA SOCKS & INNERS INDUSTRIES LIMITED-এর নাম এবং একই তেজগাঁও ঠিকানা রয়েছে; সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সার্টিফিকেট নম্বর 260326120567121 উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন তিনটি
অনন্যা সক্সকে ঘিরে কাস্টমসের নথি ও প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য একত্র করলে অনুসন্ধানের সামনে তিনটি বড় প্রশ্ন দাঁড়ায়—
প্রথমত, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ৩,৬৭০ টন কাপড়ের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৭৮৬ টন—অবশিষ্ট কাঁচামালের পূর্ণ হিসাব কী?
দ্বিতীয়ত, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সরেজমিন অভিযানে যথাক্রমে প্রায় ২৯৫ টন ও ৫৮১ টন কাপড়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব কাঁচামালের প্রকৃত ব্যবহার বা নিষ্পত্তি কীভাবে হয়েছে?
তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক শুল্ককর দাবি ও মামলা চলমান থাকার সময়েও ৯৫, ২২৭ ও ৬৪৫ টন—মোট ৯৬৭ টন FOC কাঁচামালের প্রত্যয়ন কী ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলে অনন্যা সক্সের বন্ড সুবিধা ব্যবহারের পুরো চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
তথ্যসূত্র
কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, Customs Intelligence and Investigation Directorate-সংক্রান্ত নথির উদ্ধৃতি, BGMEA সদস্য ডাটাবেজ এবং EPB রপ্তানিকারক ডাটাবেজ।
