২,৫০০ টাকা ভ্যাট, চোরাচালান ও কর আদায় নিয়ে প্রশ্ন; সদস্যপদ ঘিরে হয়রানির অভিযোগ, জবাবদিহির মুখে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সংগঠন ও রাজস্ব প্রশাসন
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | FollowUpNews
বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হলেও সেই বাজার থেকে রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায়, স্বর্ণের বৈধ উৎস, ব্যবসায়ীদের প্রকৃত আয় এবং সম্পদের মালিকানা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন— বাজুসের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮ হাজার দোকান ভ্যাট নিবন্ধিত এবং নিয়মিত ভ্যাট দেয় মাত্র ১ হাজার ৫০০টি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বর্ণ বিক্রি থেকে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ১৩৮ কোটি টাকা বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজুসের দাবি, নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপ এবং অধিক সংখ্যক দোকানকে করের আওতায় আনা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। কিন্তু এই ব্যবস্থায় বাস্তবে কত টাকা আদায় হচ্ছে, করের বোঝা কার ওপর পড়ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কী ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন— এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো প্রয়োজন।
স্বর্ণের বাজারে চোরাচালান, বৈধ আমদানির সীমাবদ্ধতা, পুরোনো স্বর্ণের পুনর্ব্যবহার, ভ্যাট ও আয়করের হিসাব এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রভাব— সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি পণ্যের বাজার নয়; বরং রাজস্ব শাসন, সম্পদবৈষম্য ও অর্থনৈতিক জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

৪০ হাজার দোকান, নিয়মিত ভ্যাটদাতা মাত্র ১,৫০০
প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাজুসের দেওয়া হিসাবের বরাতে বলা হয়, দেশে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি দোকানের মধ্যে ৮ হাজারের ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে এবং মাত্র ১ হাজার ৫০০ দোকান নিয়মিত ভ্যাট দেয়। একই প্রতিবেদনে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বর্ণ বিক্রি থেকে ১৩৮ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
এই হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট জুয়েলারি দোকানের মাত্র ২০ শতাংশ নিবন্ধিত। আর নিয়মিত ভ্যাটদাতা হিসেবে উল্লেখিত ১ হাজার ৫০০ দোকানের হার মোট দোকানের মাত্র ৩.৭৫ শতাংশ।
| সূচক | প্রকাশিত হিসাব |
|---|---|
| দেশে জুয়েলারি দোকান | প্রায় ৪০,০০০ |
| ভ্যাট নিবন্ধিত দোকান | প্রায় ৮,০০০ |
| নিয়মিত ভ্যাটদাতা | প্রায় ১,৫০০ |
| ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বর্ণ বিক্রির ভ্যাট | ১৩৮ কোটি টাকা |
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দোকানের সংখ্যা, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং নিয়মিত ভ্যাটদাতার হিসাব বাজুসের দেওয়া তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। এগুলো এনবিআরের পূর্ণাঙ্গ যাচাইকৃত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকার বিকল্প নয়।
তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়: দেশের একটি বড় খুচরা বাজারের এত কম প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাট আদায় হলে রাজস্ব প্রশাসনের তদারকি কতটা কার্যকর?
সূত্র: প্রথম আলো—স্বর্ণের ভ্যাট ও বাজুসের প্রস্তাব
৫% ভ্যাট থেকে ভরি-প্রতি ২,৫০০ টাকা: কার স্বার্থ রক্ষা হলো?
আগে স্বর্ণ, হীরা ও রুপার বিক্রিতে ৫% হারে ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় স্বর্ণের ক্ষেত্রে ভরি-প্রতি ৫,০০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব সামনে আসে। পরে চূড়ান্ত কাঠামোয় স্বর্ণ ও প্লাটিনামের জন্য ভরি-প্রতি ২,৫০০ টাকা, রুপার জন্য ভরি-প্রতি ১০০ টাকা এবং হীরার জন্য গ্রাম-প্রতি ২,৫০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণ করা হয় বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরোনো ও নতুন ভ্যাট কাঠামোর তুলনা
| পণ্য | আগের ব্যবস্থা | নতুন নির্দিষ্ট ভ্যাট |
|---|---|---|
| স্বর্ণ | বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫% | ভরি-প্রতি ২,৫০০ টাকা |
| প্লাটিনাম | আগের প্রযোজ্য কাঠামো | ভরি-প্রতি ২,৫০০ টাকা |
| রুপা | বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫% | ভরি-প্রতি ১০০ টাকা |
| হীরা | বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫% | গ্রাম-প্রতি ২,৫০০ টাকা |
<text color=”secondary” size=”sm”>সূত্র: দ্য ডেইলি স্টারের প্রকাশিত প্রতিবেদন। নতুন ও পুরোনো ব্যবস্থার কার্যকর করের তুলনায় বিক্রয়মূল্য ও প্রযোজ্য হিসাবপদ্ধতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।</text>
অর্থাৎ, আগের ব্যবস্থা ছিল বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫% ভ্যাট; নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট। ফলে স্বর্ণের দাম ও বিক্রয়মূল্য অনুযায়ী দুই ব্যবস্থায় কার্যকর করের অনুপাত ভিন্ন হতে পারে।
বাজুসের প্রস্তাব ছিল, নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপ করলে আরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা যাবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে। সংগঠনটির যুক্তি ছিল, প্রচলিত ব্যবস্থায় ভ্যাট আদায় কম হওয়ায় নির্দিষ্ট হার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব।
কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় বাস্তবে কত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে, কত প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছে এবং মোট আদায় কত বেড়েছে— তার পরিমাপযোগ্য হিসাব প্রকাশ করা জরুরি। শুধু করের হার পরিবর্তন করলেই রাজস্ব বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
মূল প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তনে রাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়ল, নাকি কমল? ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কী সুবিধা পেলেন? আর বড় ব্যবসায়ীদের কর পরিশোধের জবাবদিহি কি বাস্তবে নিশ্চিত হলো?
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার—স্বর্ণ, হীরা ও রুপার নতুন ভ্যাট কাঠামো
৪০০ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা: বাস্তবতা কতটা?
বাজুসের প্রস্তাবের পক্ষে মূল যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপ এবং আরও বেশি দোকানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনালস ফোরামের চেয়ারম্যান আবদুর রউফ ওই প্রতিবেদনে সংশয় প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য ছিল, বাজুসের পক্ষে দেশের ৪০ হাজার দোকানকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; ফলে সংগঠনটির প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এখানে মূল প্রশ্নটি হলো, বাজুস কি বাস্তবেই সারা দেশের ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা রাখে? আর যদি রাখে, তাহলে সেই সক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে— স্বেচ্ছামূলক সহায়তা, সদস্যপদের শর্ত, নাকি ব্যবসায়ীদের ওপর সাংগঠনিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে?
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, বাজুসের সদস্যপদ ও অন্যান্য ফি নিয়ে তাদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সদস্য হতে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয় এবং সদস্যপদ না থাকলে বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বর্তমান ফি তালিকা, সদস্যপদ নীতিমালা, রসিদ, লিখিত নোটিশ এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সাক্ষ্য প্রয়োজন।
বাজুসের সদস্যপদ ফি থাকা নিজেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। কিন্তু সদস্যপদের শর্ত ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হলে, কিংবা নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ দাবি করা হলে, তা প্রতিযোগিতা ও সাংগঠনিক জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি করে।
চোরাচালান: এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্যেই বড় সংকেত
স্বর্ণের বাজারে বৈধ সরবরাহ ও চোরাচালান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের বক্তব্য থেকে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বৈঠকে তিনি বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের ১০০টি ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি শনাক্ত বা জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে; বাকি ঘটনাগুলো শনাক্ত করা যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত bdnews24.com-এর প্রতিবেদনে দেশের বাজারে বিপুল স্বর্ণের উপস্থিতি এবং আনুষ্ঠানিক আমদানির অপ্রতুলতার মধ্যে অসংগতির বিষয়টি উঠে আসে।
এটি এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্য; দেশের মোট স্বর্ণ চোরাচালানের ৯৯ শতাংশ যে পরিসংখ্যানগতভাবে যাচাইকৃতভাবে শনাক্তের বাইরে থাকে, তার স্বাধীন পূর্ণাঙ্গ হিসাব ওই প্রতিবেদন দেয়নি। ফলে সংখ্যাটিকে সরকারি কর্মকর্তার উদ্বেগ ও নজরদারির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিৎ, চোরাচালানের সঠিক মোট পরিমাণ হিসেবে নয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাজুসের সঙ্গে আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান প্রশ্ন তোলেন, আনুষ্ঠানিক আমদানি উল্লেখযোগ্য না হলেও দেশের বাজারে এত স্বর্ণ আসছে কীভাবে। তিনি এনবিআরের কিছু কর্মকর্তার অবৈধ স্বর্ণ আমদানিতে জড়িত থাকার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়।
এ বক্তব্য থেকে দুটি পৃথক অনুসন্ধানের প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রথমত, বৈধ বাণিজ্যিক আমদানি কম হলে বাজারের স্বর্ণের উৎস কী? দ্বিতীয়ত, সরকারি কোনো কর্মকর্তা চোরাচালান সহজ করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল কী?
কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সব কর্মকর্তা দুর্নীতিগ্রস্ত— এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান নিজেই কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা জনস্বার্থের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্র: bdnews24.com—স্বর্ণ চোরাচালান শনাক্তের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্য | দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড—স্বর্ণের বৈধ আমদানি ও অবৈধ সরবরাহ
২০২৫ সালে ১২ হাজার ৭৭৪ ভরি স্বর্ণ জব্দ
প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউসে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় ১২ হাজার ৭৭৪ ভরি স্বর্ণ জব্দ বা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের বাজারমূল্য ছিল ১৬৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
১২ হাজার ৭৭৪ ভরি সমান প্রায় ১৪৯ কেজি স্বর্ণ। এই পরিমাণ জব্দ হওয়া উল্লেখযোগ্য হলেও জব্দের পরিমাণ থেকে দেশের মোট চোরাচালানের পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না। জব্দ হওয়া স্বর্ণের সঙ্গে শনাক্ত না হওয়া চালান, বৈধ আমদানি এবং পুরোনো স্বর্ণের পুনর্ব্যবহারের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করতে হবে।
রাজস্ব ও চোরাচালানসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য
| সূচক | প্রকাশিত পরিসংখ্যান | যে প্রশ্নটি সামনে আসে |
|---|---|---|
| দেশের জুয়েলারি দোকান | প্রায় ৪০,০০০ | কতটি দোকান প্রকৃত বিক্রির হিসাব দেয়? |
| ভ্যাট নিবন্ধিত দোকান | প্রায় ৮,০০০ | অনিবন্ধিত দোকানগুলোকে করের আওতায় আনার অগ্রগতি কী? |
| নিয়মিত ভ্যাটদাতা | প্রায় ১,৫০০ | নিয়মিত ভ্যাটদাতার সংখ্যা এত কম কেন? |
| ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বর্ণ বিক্রির ভ্যাট | ১৩৮ কোটি টাকা | প্রকৃত বিক্রির তুলনায় আদায় কতটা? |
| ২০২৫ সালে জব্দ স্বর্ণ | ১২,৭৭৪ ভরি | শনাক্ত না হওয়া চালানের পরিমাণ কত? |
| জব্দ স্বর্ণের প্রকাশিত মূল্য | ১৬৩.৭৩ কোটি টাকা | চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি কতটা কার্যকর? |
<text color=”secondary” size=”sm”>সূত্র: প্রথম আলো, bdnews24.com ও সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন। দোকানসংক্রান্ত পরিসংখ্যান বাজুসের দেওয়া হিসাব; জব্দের পরিমাণ মোট চোরাচালানের পরিমাণ নির্দেশ করে না।</text>
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। স্বর্ণ চোরাচালানের কারণে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হলেও সেই স্বর্ণ পরবর্তী সময়ে অলংকার হিসেবে বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট বিক্রির ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট এবং ব্যবসায়ীর প্রকৃত আয় অনুযায়ী আয়করের দায় তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ আমদানি শুল্ক ফাঁকি ও বিক্রির ভ্যাট ফাঁকি দুটি আলাদা বিষয়। একটির প্রমাণ অন্যটির প্রমাণ নয়।
সরকারের জন্য তাই শুধু সীমান্তে জব্দ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বাজারে প্রবেশ করা স্বর্ণের উৎস, দোকানের মজুত, পুরোনো গহনা কেনাবেচা, বিক্রির রসিদ এবং করের হিসাবের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা জরুরি।
সূত্র: প্রথম আলো—২০২৫ সালে ১২ হাজার ৭৭৪ ভরি স্বর্ণ জব্দ
বৈধ আমদানি কেন হচ্ছে না?
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এনবিআর চেয়ারম্যান ও বাজুস নেতাদের আলোচনায় স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স, কর কাঠামো এবং বৈধ আমদানির জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাজুসের নেতারা দাবি করেন, বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া সহজ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। তারা আমদানির লাইসেন্স প্রকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দেওয়ার দাবি জানান।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতে দেওয়া ১৮টি আমদানি লাইসেন্সের অন্তত ১০টি প্রকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে ছিল না বলে বাজুসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এটি সংগঠনের প্রতিনিধির বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের তালিকা ও সরকারি নথি ছাড়া দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায় না।
বৈধ আমদানি ব্যয়বহুল বা জটিল হলে অনানুষ্ঠানিক সরবরাহের প্রণোদনা তৈরি হতে পারে। তবে শুধু এ যুক্তিতে চোরাচালানকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি এমন আমদানি ও করব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছে, যেখানে বৈধভাবে স্বর্ণ আনা, বিক্রি করা এবং কর দেওয়া বাস্তবসম্মত হয়?
এখানে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী সংগঠন— সব পক্ষের দায়িত্ব রয়েছে। বৈধ আমদানির পরিমাণ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, আমদানিকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও পরিশোধিত শুল্কের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে বাজারের প্রকৃত চিত্র বোঝা সহজ হবে।
স্বর্ণের দাম বাড়ে, কিন্তু কার সম্পদ বাড়ে?
বাংলাদেশের স্বর্ণবাজার নিয়ে আলোচনায় আরেকটি অর্থনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়লে আগে থেকে স্বর্ণের মালিকদের সম্পদের বাজারমূল্য বাড়তে পারে। কিন্তু এই মূল্যবৃদ্ধি সব মানুষের জন্য সমান সুবিধা তৈরি করে না।
যাদের হাতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে, তারা মূল্যবৃদ্ধির কারণে সম্পদমূল্যের সুবিধা পেতে পারেন। অন্যদিকে, নিম্নবিত্ত পরিবার অনেক সময় বিয়ে, চিকিৎসা, শিক্ষা বা জরুরি খরচের জন্য গহনা কেনে। পরে অর্থের প্রয়োজন হলে সেই গহনা বিক্রি করতে গিয়ে মজুরি, গলানোর খরচ, বিশুদ্ধতা নির্ধারণ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবধানের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এটি সব ক্ষেত্রে একই রকম হয় না। ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করে গহনার ধরন, বিশুদ্ধতা, ক্রয়মূল্য, বিক্রির সময়ের বাজারদর ও ব্যবসায়ীর মূল্য নির্ধারণের ওপর। তাই সাধারণ মানুষের ক্ষতির মাত্রা নির্ণয় করতে একই গহনার ক্রয় ও পুনর্বিক্রয়মূল্য নিয়ে নমুনাভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন।
স্বর্ণের বাজারে সম্পদ সংরক্ষণের আরেকটি দিক হলো অঘোষিত অর্থের সম্ভাব্য ব্যবহার। স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে বহনযোগ্য ও মূল্যবান সম্পদ হওয়ায় তা সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যম হতে পারে। কিন্তু স্বর্ণ কেনার সব অর্থ দুর্নীতির অর্থ নয়, এবং স্বর্ণের মালিক সবাই কর ফাঁকি দেন— এমন সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়। নির্দিষ্ট ব্যক্তির আয়, সম্পদ, লেনদেন ও ঘোষণার মধ্যে অসংগতি থাকলে সেটি তদন্তের বিষয়।
স্বর্ণের কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
স্বর্ণের অলংকার তৈরি করেন যারা, তাদের শ্রম বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু স্বর্ণের মালিকানা, দোকানের বিক্রি, মূল্য নির্ধারণ ও মুনাফার নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রে অন্য পক্ষের হাতে থাকতে পারে। কারিগরদের মজুরি, কাজের শর্ত, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দর-কষাকষির ক্ষমতা নিয়ে আলাদা তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।
একইভাবে, ছোট স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ— সদস্যপদ নিতে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হয় এবং সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে তারা চাপের মুখে পড়েন— যাচাই করা দরকার। বাজুসের বর্তমান সদস্যপদ নীতিমালা, ভর্তি ফি, নবায়ন ফি, অন্যান্য চার্জ, রসিদ এবং সদস্যপদ না থাকলে ব্যবসা পরিচালনায় কী বাধা আসে, তা সংগ্রহ করা জরুরি।
যদি দেখা যায় নির্ধারিত ফি ছাড়াও অর্থ দাবি করা হচ্ছে, কিংবা সদস্যপদের শর্ত ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সীমিত করা হচ্ছে, তাহলে সেটি বাজারের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রশ্ন তৈরি করবে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি বা একাধিক স্বাধীন সাক্ষ্য ছাড়া বাজুসকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।
এনবিআর ও বাজুস— কার ওপর কার প্রভাব?
স্বর্ণবাজারের করব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার প্রভাব কতটা। বাজুস ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন। তাদের প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় আসতে পারে, কিন্তু কর নির্ধারণ, নিবন্ধন, নিরীক্ষা ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
যদি কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রস্তাবে কর কাঠামো পরিবর্তিত হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের পক্ষে অর্থনৈতিক যুক্তি, রাজস্ব-প্রভাব বিশ্লেষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব প্রকাশ করা উচিত। একইভাবে, এনবিআর যদি নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট নির্ধারণ করে, তাহলে সেই হার কীভাবে হিসাব করা হয়েছে এবং কত রাজস্ব প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এনবিআরের কর্মকর্তাদের অনিয়মিত আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের অভিযোগ থাকলে তা গুরুতর বিষয়। তবে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা যায় না। এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে তদন্তের নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং স্বাধীন সূত্রের সমর্থন প্রয়োজন।
জনস্বার্থের প্রশ্নটি তাই শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়: নিয়ন্ত্রক সংস্থা কি স্বাধীনভাবে কাজ করছে? ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রভাবের বাইরে গিয়ে কি সব প্রতিষ্ঠানকে একই নিয়মে করের আওতায় আনা হচ্ছে? আর অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত ও নিষ্পত্তির ফলাফল কি প্রকাশ করা হচ্ছে?
জনগণ পেল কী?
স্বর্ণের বাজারে বিপুল অর্থ লেনদেন, চোরাচালানের ঝুঁকি এবং কর আদায়ের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কী সুবিধা পাচ্ছে— এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে রাজস্বের হিসাবের পাশাপাশি বাজারের প্রতিযোগিতা, ভোক্তা অধিকার এবং কারিগরদের শ্রমের মূল্যও বিবেচনায় নিতে হবে।
রাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়লে তা জনসেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করার সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু করব্যবস্থা যদি দুর্বল হয়, বাজারে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বাড়ে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সংগঠনগত চাপের অভিযোগ তোলেন, তাহলে এর প্রভাব পড়ে রাজস্ব প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বাজারের ন্যায্য প্রতিযোগিতার ওপর।
স্বর্ণের দাম বাড়লে সম্পদশালীদের সম্পদের বাজারমূল্য বাড়তে পারে; কিন্তু সাধারণ ক্রেতা গহনা বিক্রি করতে গিয়ে কতটা মূল্য ফেরত পাচ্ছেন, কারিগররা তাদের শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন কিনা, আর ব্যবসায়ীরা প্রকৃত বিক্রির ওপর যথাযথ কর দিচ্ছেন কিনা— এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া বাজারের সামগ্রিক ন্যায্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
এখানে বাজুসেরও জবাবদিহি রয়েছে, কারণ সংগঠনটি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং করনীতি নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। একইভাবে এনবিআরের দায়িত্ব আরও বড়, কারণ কর আদায়, নিবন্ধন, নিরীক্ষা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে।
অনুসন্ধানের জন্য যেসব তথ্য প্রকাশ জরুরি
১. এনবিআরের কাছে: ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে স্বর্ণ বিক্রি থেকে আদায় করা ভ্যাটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, নিয়মিত ভ্যাটদাতার সংখ্যা, নিরীক্ষা ও জরিমানার তথ্য এবং নতুন নির্দিষ্ট ভ্যাট কাঠামোর রাজস্ব-প্রভাব বিশ্লেষণ।
২. বাজুসের কাছে: বর্তমান সদস্যপদ ফি, নবায়ন ও অন্যান্য চার্জের তালিকা; সদস্যপদ দেওয়ার নীতিমালা; মোট সদস্যের সংখ্যা; ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগের নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে ব্যবহৃত হিসাব।
৩. কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে: স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্সের তালিকা, প্রকৃত আমদানির পরিমাণ, জব্দের তথ্য, চোরাচালানসংক্রান্ত মামলা এবং তদন্তের অগ্রগতি।
৪. দুদক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে: স্বর্ণের ব্যবসা, অবৈধ সম্পদ বা অর্থপাচারসংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগপত্র এবং আদালতের সিদ্ধান্ত— যেখানে প্রকাশ করা আইনসম্মত।
৫. ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কারিগরদের কাছ থেকে: সদস্যপদ বা অন্যান্য ফি নিয়ে হয়রানির অভিযোগের নথি, মজুরি ও কাজের শর্ত, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ এবং বাজারে প্রতিযোগিতার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
কার জবাবদিহি কোথায়— অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ | যে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি | প্রয়োজনীয় নথি |
|---|---|---|
| এনবিআর | ভ্যাট আদায়, নিবন্ধন ও নিরীক্ষার কার্যকারিতা | অর্থবছরভিত্তিক আদায়, নিবন্ধন ও নিরীক্ষার হিসাব |
| বাজুস | ভ্যাট প্রস্তাবের ভিত্তি ও সদস্যপদসংক্রান্ত অভিযোগ | প্রস্তাবপত্র, সদস্যপদ নীতিমালা ও ফি তালিকা |
| কাস্টমস কর্তৃপক্ষ | বৈধ আমদানি ও চোরাচালান শনাক্তকরণ | আমদানি লাইসেন্স, চালান, জব্দ ও মামলার তথ্য |
| ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী | সদস্যপদ বা অন্যান্য ফি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ | রসিদ, লিখিত দাবি, নোটিশ ও সাক্ষ্য |
| তদন্তকারী সংস্থা | কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অগ্রগতি | তদন্তের অবস্থা, অভিযোগপত্র ও আদালতের নথি |
বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে বাজুসের প্রভাব, এনবিআরের নজরদারি, বৈধ আমদানির সীমাবদ্ধতা এবং রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা— সবকিছুই তথ্য ও নথির ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বাজুসের দেওয়া হিসাবেই যদি দেশের প্রায় ৪০ হাজার দোকানের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫০০টি নিয়মিত ভ্যাট দেয়, তাহলে রাজস্ব প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আবার ব্যবসায়ী সংগঠন যদি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করার বদলে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে— এমন অভিযোগ ওঠে, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
স্বর্ণের ভ্যাট ৫% থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কে পরিবর্তনের পর রাজস্ব আদায় বাড়ল কিনা, নতুন ব্যবস্থায় কত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হলো এবং প্রকৃত বিক্রির সঙ্গে করের হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ— এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। চোরাচালানের উৎস ও গন্তব্য, বৈধ আমদানির পরিমাণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের ফলাফলও জনসমক্ষে আসা উচিৎ।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এনবিআরকে প্রভাবিত করছেন, নাকি এনবিআরের দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিচ্ছেন— এই প্রশ্নের উত্তর অনুমান দিয়ে নয়, নথি ও তদন্ত দিয়ে নির্ধারণ করতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে বড় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র দোকান, আমদানিকারক ও কারিগর— সবার জন্য আইন একইভাবে কার্যকর হয় এবং জনগণ ন্যায্য রাজস্ব, স্বচ্ছ বাজার ও কার্যকর ভোক্তা সুরক্ষার সুফল পায়।
FollowUpNews-এর পক্ষ থেকে বাজুস ও এনবিআরের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হবে।
