ফলোআপ নিউজ ডেস্ক
বিডিনিউজ-এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি হোটেলে অবস্থানকালে ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে St Bartholomew’s Hospital (Barts)-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় দুপুরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

একজন সাংবাদিকের মৃত্যু কখনো কখনো কেবল একজন মানুষের চলে যাওয়া নয়। কখনো তা একটি সময়ের বিদায়, একটি সাংবাদিকতা-দর্শনের বিদায়, কিংবা একটি প্রজন্মের কাছে রেখে যাওয়া এক বিশাল শূন্যতা।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু আমাদের কাছে তেমনই একটি ঘটনা।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তার অবস্থানটি একটু আলাদা। তিনি শুধু সংবাদ লিখেছেন— এমন নয়। তিনি সংবাদমাধ্যম তৈরি করেছেন। এমন এক সময়ে অনলাইন সাংবাদিকতার ভিত গড়ে তোলার কাজে যুক্ত হয়েছেন, যখন বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এখনকার মতো প্রতিষ্ঠিত ছিল না।
ডেইলি স্টার ও বিবিসির মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে সাংবাদিকতার ভিন্ন পরিসর দেখার সুযোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নেতৃত্ব নিয়ে তিনি বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করেন।
এখানেই তার বিশেষত্ব।
একজন সাংবাদিকের কাজ হলো সংবাদ খুঁজে বের করা। একজন সম্পাদকের কাজ হলো সেই সংবাদকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু একজন সংবাদমাধ্যম নির্মাতার কাজ আরও কঠিন— তাকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে হয়, যেখানে তার অনুপস্থিতিতেও সাংবাদিকতা চলতে পারে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী সেই কাজটি করেছেন।
তার প্রজন্ম যখন অনলাইন সাংবাদিকতার পথ তৈরি করছিল, তখন ভবিষ্যৎটি এতটা স্পষ্ট ছিল না। তবু তারা এগিয়েছিলেন। আজ আমরা সেই পথের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছি।
মানুষ চলে যায়। কিন্তু একটি ভালো সাংবাদিকতার ধারার প্রভাব থেকে যায় বহুদিন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারও তাই কেবল তার লেখা সংবাদে সীমাবদ্ধ নয়। তার তৈরি প্রতিষ্ঠান, তার সঙ্গে কাজ করা সাংবাদিকেরা এবং বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে তার ভূমিকার মধ্যেই তার কাজের দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রয়েছে।
তার অতীত ছিল নিরলস নির্মাণের। আর বর্তমান সংগ্রাম ছিল সেই সাংবাদিকতার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা— যে সাংবাদিকতার ভিত গড়ে তুলতে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করেছিলেন।
সাংবাদিকতা নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন আছে। মতপার্থক্য আছে। বিতর্ক আছে। ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে।
কিন্তু সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করতে হলে তার অতীতের নির্মাতাদের স্মরণ করতে হয় এবং বর্তমানের সংকটগুলো মোকাবিলা করতে হয়।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী তাদেরই একজন।
তার বিদায় বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও বিদায়।
তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
