সাহিত্যিকদের মধ্যে কি আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেশি?

ভার্জিনিয়া ওলফ

“In the depth of winter, I finally learned that within me there lay an invincible summer.”
বাংলা ভাবার্থ: জীবনের গভীর অন্ধকারেও মানুষের ভেতরে অদম্য আলো লুকিয়ে থাকে। — জীবনের প্রতি বিতশ্রদ্ধ অনেক জ্ঞানী মানুষও হয়েছেন। কিন্তু জীবন মহান, জীবন শ্রেষ্ঠ —এটাই শেষ কথা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।

জীবন শ্রেষ্ঠ
জীবনের চেয়ে দুঃখ বড় নয়, অবসাদ নয় স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারাটাই জীবনের অন্তিম সত্য।

পরিসংখ্যান বলছে, সাহিত্যিক এবং দার্শনিকদের মধ্যে বিষন্নতার সমস্যা বেশি থাকে, এবং যে কারণেই হোক আত্মহত্যার হারও লেখকদের মধ্যে বেশি। এরকম দশজন সাহিত্যিকঃ

১. আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১৮৯৯ – ১৯৬১);

বিখ্যাত আমেরিকান লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ১৯৬১ সালের ২ জুলাই আইডাহোর কেচামে তার নিজ বাড়িতে একটি শটগান দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।  দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ, শারীরিক অসুস্থতা এবং স্মৃতিলোপের কারণে সৃষ্ট চরম হতাশায় ভুগে তিনি এই পথ বেছে নেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

তিনি প্রচণ্ড ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং এর জন্য বৈদ্যুতিক শক থেরাপি (Electroshock treatments) নিয়েছিলেন, যা তাকে আরো বিপর্যস্ত করে তোলে। 

হেমিংওয়ে হিমোক্রোমাটোসিস (hemochromatosis) নামক বংশগত রোগে ভুগছিলেন, যার ফলে তার লিভার, অগ্ন্যাশয় এবং অন্যান্য অঙ্গে সমস্যা দেখা দেয়।

মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ।

২. ভার্জনিয়া উলফ (১৮৮২ – ১৯৪১);

বিখ্যাত লেখিকা ভার্জিনিয়া উলফ ১৯৪১ সালের ২৮ মার্চ ৫৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের ওউজ (Ouse) নদীতে ডুবে আত্মহত্যা করেন। দীর্ঘদিনের মানসিক বিষণ্নতা ও বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগে তিনি নিজের ওভারকোটের পকেটে ভারী পাথর ভরে নদীতে ঝাঁপ দেন । তার এই আত্মহত্যার পিছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তীব্র মানসিক অবসাদ মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছিল।

চিঠি: মৃত্যুর আগে তিনি তার স্বামী লিওনার্ড উলফের জন্য একটি আবেগঘন চিঠি রেখে গিয়েছিলেন।

৩. অ্যানি সেক্সটন (১৯২৮ – ১৯৭৪);

৪. রিআরোসুকে আকুটাগোআ (১৮৯২ – ১৯২৭);

৫. কারিন বোয়ে (১৯৯০ – ১৯৪১);

৬. জন বেরিম্যান (১৯১৪ – ১৯৭২);

৭. উকিও মিশিমা (১৯২৫ – ১৯৭০);

৮. সিলভিয়া প্লাথ (১৯৩২ – ১৯৬৩);

৯. হান্টার এস থমসন (১৯৩৭ – ২০০৫);

১০. জ্যাক লন্ডন (১৮৭৬ – ১৯১৬)।


ভার্জিনিয়া ওলফ