Headlines

খুনের মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি, পুনর্বহাল হয়ে আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদক কর্মকর্তা— প্রশ্নের মুখে মামুন

উপপরিচালক
এজাহারনামা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পরে তাকে নারায়নগঞ্জ জেলা মাদক কর্মকর্তা করে পাঠানো হয়েছে। ছবিঃ সরকারি ওয়েব পোর্টাল।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি হিসেবে আলোচিত মোহাম্মদ মামুনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক সময় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে পরে পুনর্বহাল করে আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তানজিল জাহান তামিম নিহত হন। ঘটনার পর দায়ের করা হত্যা মামলায় মোহাম্মদ মামুনকে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি করা হয়। ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে গ্রেফতার হন বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এরপর প্রশাসনিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তাকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করা হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে— এমন খবর সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় জনমনে একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—
একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি হিসেবে নাম থাকা একজন কর্মকর্তাকে কীভাবে পুনর্বহাল করা হলো? তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এমন সিদ্ধান্ত কতটা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এজাহারে নাম থাকা, চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা চাকরিগত ব্যবস্থা নেওয়া— প্রতিটি বিষয় আলাদা প্রক্রিয়ার অংশ। তবে একটি সংবেদনশীল ফৌজদারি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পুনর্বহাল জনআস্থার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে নিহত তামিমের স্বজন ও সহকর্মীরা শুরু থেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, মামলার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ না হলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এজাহারনামা থেকে নাম বাদ দেওয়ায় বাদীপক্ষ না-রাজি দিয়েছিলো, কিন্তু আদালত সেটি গ্রহণ করেনি।

উপপরিচালক
আদালত মামুনকে খালাস দিলে মাদক অধিদপ্তর বরখাস্তকালীন সময়ের বেতন সহ উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে।

এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— মামলার তদন্ত, চার্জশিট ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে এই ভিন্ন অবস্থান কেন তৈরি হলো? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক চলমান থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

(সংবাদে উল্লিখিত তথ্য বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি আইনগতভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য হন না।)

সম্পর্কিত সংবাদঃ

দীপ্ত টিভির সংবাদকর্মী হত্যা: মাদক অধিদফতরের কর্মকর্তা মামুন বরখাস্ত

দীপ্ত টিভির তামিম হত্যার আসামি মামুন গ্রেপ্তার

যেভাবে খুন হয়েছিলেন তামিম