প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ (Pacific Jeans Group) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি অগ্রগামী ও বিশ্বখ্যাত ডেনিম পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) যাত্রা শুরু করা এই গ্রুপটি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রিমিয়াম ডেনিম ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম বিশ্বস্ত অংশীদার।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও মূল মালিক ছিলেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট পোশাকশিল্প উদ্যোক্তা মো. নাসির উদ্দিন (এম নাসির উদ্দিন)।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মালিকানা ও শীর্ষ নেতৃত্বঃ
১. বর্তমান মালিকানা:
২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠাতা মো. নাসির উদ্দিনের মৃত্যুর পর, বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা (তার সহধর্মিণী ও তিন সন্তান) যৌথভাবে এই গ্রুপের মালিকানা ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

২. শীর্ষ নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা:
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director): মরহুম নাসির উদ্দিনের বড় ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বর্তমানে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (CCCI) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
অন্যান্য পরিচালক: মরহুম নাসির উদ্দিনের বাকি দুই ছেলে— সৈয়দ মোহাম্মদ তানসীর এবং সৈয়দ মোহাম্মদ তাহমীরও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়িক বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করছেন।
৩. পটভূমি ও অর্জন:
১৯৮৪ সালে মো. নাসির উদ্দিন তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসা শুরু করেন এবং ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। প্রিমিয়াম ডেনিম বা জিন্স পোশাক উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করা এই গ্রুপটি জাতীয় রপ্তানি ট্রফিসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানসমূহঃ
এটি এই গ্রুপের প্রথম এবং ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানত বিশ্বমানের প্রিমিয়াম ডেনিম ও জিন্স পোশাক তৈরিতে এটি নিয়োজিত।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ ও বড় একটি ইউনিট। পোশাক রপ্তানিতে অসামান্য অবদানের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সম্মানজনক ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি (স্বর্ণ)’ লাভ করেছে।
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই অঙ্গ প্রতিষ্ঠানটি মূলত ডেনিম পোশাকের বিভিন্ন ডিজাইন এবং ক্যাজুয়াল জিন্স পোশাক উৎপাদনের কাজ করে থাকে।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিটটি গ্রুপের পোশাক উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে এবং ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের ও স্টাইলের তৈরি পোশাক সরবরাহে ভূমিকা রাখছে।
১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি পোশাক তৈরির বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রী বা এক্সেসরিজ (যেমন- বোতাম, জিপার, সুতা, লেবেল ইত্যাদি) উৎপাদন করে, যা গ্রুপের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাজ করে।
২০২৩ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে চালুকৃত এই হাই-এন্ড ও আধুনিক গার্মেন্টস ইউনিটটির মাধ্যমে গ্রুপটি তাদের পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে (Product Diversification) বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।
চট্টগ্রামের বাইরে ঢাকা অঞ্চলের আদমজী ইপিজেডে (Adamjee EPZ) প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে এই নতুন বৃহৎ প্রজেক্টটি শুরু করেছে গ্রুপটি, যা তাদের ভৌগোলিক ও ব্যবসায়িক পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।
