ভারতে প্রতিদিন একজন দলিত নারী ধর্ষণের শিকার হন

1

শেষ হল দলিত সম্প্রদায়ের দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক সম্মেলন। বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল ও ভারতের দলীত প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নেন। তারা তুলে ধরেন নিজ নিজ দেশে এই সম্প্রদায়ের অবস্থান।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত‍ ‘দলিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক অন্তর্ভূক্তি ও দলিত নারী ইস্যু বিষয়ে আঞ্চলিক এজেন্ডা নির্ধারণ’ শীর্ষক আঞ্চলিক এ সম্মেলন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষ হয়। দুদিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয় সোমবার।

মঙ্গলবার সম্মেলনের শেষ দিনের অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধি রুথ মনরোমা বলেন, ‘সাধারণ নারীদের ক্ষেত্রে নির্যাতন হলে মানুষ যেভাবে সোচ্চার হয়, দলিতদের ক্ষেত্রে সেভাবে হয় না। প্রতিদিনই ভারতে কোথাও না কোথাও একজন দলিত নারী ধর্ষনের শিকার হচ্ছে অথচ এর কোন প্রতিকার নেই।’

আর নেপালের প্রতিনিধি ইয়াম বাহাদুর কিষাণ বলেন, ‘তাদের দেশে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে দলিতদের। শুধু তাই নয়, পার্লামেন্টে এক তৃতীয়াংশ দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আছেন। আর এ বিষয়টি ছিলো মাওবাদি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি।’

ভারতীয় প্রতিনিধি রুথ মনরোমা বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ভারতে কি হলো, নেপালে কি হচ্ছে, সেটা না ভেবে বর্তমানে বাংলাদেশে দলিতদের অবস্থান কি এবং কী ভাবে তা থেকে উত্তোরণ ঘটানো যায় সে বিষয়টি আলোচনায় আসা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘শুধু লিঙ্গ বৈষম্য নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কী ভাবে অবহেলিত হচ্ছে এই দলিতরা তা সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া পড়াশুনা, চাকরি, মানবাধিকার, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দলিতদের অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃত্বের স্থানে নিয়ে আসতে হবে এই দলিতদের, তবেই অধিকার আদায়ে সচেতন হবে পুরো দলিত সমাজ। সরকারকে আর্থিক বরাদ্দ দিতে হবে এই দলিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়।’

আলোচনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রথমেই জাত-পাতের বৈষম্যের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে এবং এ বৈষম্য দূরীকরণে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। দলিতদের ক্ষেত্রে শুধু কর্মসংস্থান নয় বরং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যেন তারাই অন্যের চাকরিদাতা হিসেবে সমাজে চিহ্নিত হতে পারে।’

শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইসরাফীল আলম বলেন, ‘আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থ পরিকল্পনায় দলিতরা অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দলিতদের ক্ষমতায়নের জন্য সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন আইন করতে হবে না। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত যে নারী আসন আছে সেখানেই আপনারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু সাহস ও সদিচ্ছা।