JMS Garments-এর ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির মামলায় কাস্টমসের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে পণ্য প্রবেশ না করিয়েই অনলাইন গেট পাস নেওয়া এবং বন্ড সুবিধার আওতাভুক্ত পণ্য অবৈধভাবে অপসারণের অভিযোগ উঠেছিল মেসার্স JMS Garments Ltd.-এর বিরুদ্ধে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের একটি adjudication order-এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৯১৯ টাকা ১৭ পয়সা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই নথিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি CEPZ-এর ডিজিটাল গেট-পাস ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন ওঠার মতো তথ্য রয়েছে।
কাস্টমসের নিজস্ব আদেশ অনুযায়ী, বন্ড সুবিধার আওতাভুক্ত মালামাল প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রবেশ না করিয়েই ডিজিটাল অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে তা অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় Customs Act, 1969-এর বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স বাতিলযোগ্য বলেও নথিতে মত দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ওপর ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপের কথা আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
৩৯ হাজার ৩৫০ কেজি পণ্য
মামলার নথিতে আলোচিত পণ্য ছিল exportable poly carton। এর পরিমাণ ৩৯ হাজার ৩৫০ কেজি। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, পণ্যের assessable value ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা, আর সংশ্লিষ্ট শুল্ক-কর হিসাব করা হয় প্রায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৯১৯ টাকা।
| বিষয় | কাস্টমস নথিতে উল্লেখিত তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | JMS Garments Ltd. |
| অবস্থান | Plot #1-4, Sector #6, CEPZ, Chattogram |
| পণ্য | Exportable Poly Carton |
| পরিমাণ | ৩৯,৩৫০ কেজি |
| Assessable Value | প্রায় ২৭.৭২ লাখ টাকা |
| রাজস্ব ফাঁকি/দাবি | ৩৫,৪০,৯১৯.১৭ টাকা |
| আরোপিত অর্থদণ্ড | ৫ লাখ টাকা |
| নথি | Adjudication Order |
JMS Garments-এর বর্তমান BGMEA সদস্য-তথ্যেও Plot #1-4, Sector #6, Chittagong ঠিকানাটি রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির Managing Director হিসেবে Mustafa Mahmud-এর নাম দেওয়া আছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: পণ্য ঢোকেনি, গেট পাস হলো কীভাবে?
কাস্টমসের আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো— বন্ড সুবিধার মালামাল প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রবেশ না করিয়েই ডিজিটাল অনলাইন পদ্ধতিতে অপসারণের কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত বা বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত পণ্য CEPZ-এর কারখানায় প্রবেশ করার আগেই যদি সেটি বাইরে নেওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে সেই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট CEPZ ব্যবস্থাপনার নজরদারি কোথায় ছিল?
অর্থাৎ, শুধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই প্রশ্নটির পুরো উত্তর মেলে না। ডিজিটাল গেট পাস কে অনুমোদন করল, কোন পর্যায়ে পণ্যের অবস্থান যাচাই করা হয়েছিল এবং CEPZ-এর গেট দিয়ে পণ্য বের হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যাচাই প্রক্রিয়া কী ছিল— এসব প্রশ্নও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
কাস্টমসের নথিতেই কর্মকর্তা-নজরদারির প্রশ্ন
এখানে অবশ্য একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি— প্রকাশ্য নথিতে সংশ্লিষ্ট কোনো কাস্টমস কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে ঘুষ গ্রহণ বা JMS Garments-এর সঙ্গে যোগসাজশের জন্য দোষী সাব্যস্ত করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ করা যায় না।
কিন্তু কাস্টমসের নিজের আদেশে যখন বলা হচ্ছে, পণ্য প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ না করিয়েই ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা অপসারণ করা হয়েছে, তখন তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট গেট-পাস ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যৌক্তিক।
বিশেষ করে—
- পণ্য CEPZ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ না করলে সেটি শনাক্ত করার দায়িত্ব কার ছিল?
- অনলাইন গেট পাসের আবেদন যাচাই করেছিলেন কোন কর্মকর্তা?
- গেট পাস অনুমোদনের আগে পণ্যের বাস্তব অবস্থান যাচাই করা হয়েছিল কিনা?
- CEPZ গেট দিয়ে পণ্য বের হওয়ার সময় কী কী নথি ও যাচাই করা হয়েছিল?
- এত বড় পরিমাণ পণ্য বের হওয়ার পর কাস্টমসের নজরে আসতে তদন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো কেন?
- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা এজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না?
বন্ড সুবিধার উদ্দেশ্য কী?
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের তথ্য অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধায় রপ্তানিমুখী শিল্প শুল্ক-কর না দিয়ে কাঁচামাল ও প্যাকেজিং উপকরণ আমদানির সুযোগ পায়। এসব পণ্য নির্ধারিত entitlement-এর মধ্যে থাকতে হয় এবং বন্ডহোল্ডারকে প্রয়োজনীয় রেজিস্টার ও নথি সংরক্ষণ করতে হয়। বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্যতামূলক বার্ষিক অডিটের আওতাধীন।
অর্থাৎ এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো পণ্য কোথায় গেল, কতটুকু ব্যবহার হলো এবং শেষ পর্যন্ত রপ্তানির সঙ্গে তার হিসাব কীভাবে মেলানো হলো— তার নির্ভুল হিসাব রাখা।
JMS Garments-এর মামলায় কাস্টমসের নথিতে যে ঘটনাপ্রবাহ উঠে এসেছে, তা সেই নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
৫ লাখ টাকা জরিমানা, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল
কাস্টমসের আদেশে ঘটনাটিকে Customs Act-এর বিভিন্ন ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য এবং বন্ড লাইসেন্স বাতিলযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
ফলে অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৯১৯ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট রাজস্ব শেষ পর্যন্ত আদায় হয়েছিল কিনা।
বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুরোনো ঘটনা মিলিয়ে দেখা যাবে না
বর্তমানে Customs Bond Commissionerate, Chattogram-এর কর্মকর্তাদের তালিকায় CEPZ ও Karnaphuli EPZ-এর দায়িত্বে Deputy Commissioner হিসেবে Anupam Chakma-র নাম রয়েছে।
তবে JMS Garments-এর ঘটনাটি ২০১৯–২০২০ সময়ের। ফলে বর্তমান কর্মকর্তাদের ওই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে জড়ানো যাবে না, যতক্ষণ না তৎকালীন দায়িত্বের নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া যায়।
FollowUpNews-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী প্রশ্ন তাই আরও নির্দিষ্ট: JMS Garments-এর ঘটনায় ২০১৯–২০২০ সালে CEPZ-এর দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তারা কারা ছিলেন, তাদের দায়িত্ব কী ছিল, এবং পণ্য CEPZ-এ প্রবেশ না করেই গেট পাস পাওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা।
এই তিনটি নথি— তৎকালীন কর্মকর্তাদের দায়িত্বের আদেশ, JMS-এর adjudication file-এর পূর্ণাঙ্গ নথি এবং ৩৫.৪১ লাখ টাকার দাবির বর্তমান নিষ্পত্তির কাগজ— পাওয়া গেলে ঘটনাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব মামলার খবর থাকবে না; বরং CEPZ-এর বন্ড ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠান বনাম কাস্টমস নজরদারি— দুই দিকেরই জবাবদিহির অনুসন্ধান হয়ে উঠবে।
ধরা পড়েছে একটি, তাহলে অজানা কত?
JMS Garments-এর ঘটনাটি ২০১৯–২০২০ সালের এবং এটি কাস্টমসের নিজস্ব adjudication নথিতে উঠে এসেছে। কিন্তু একটি ঘটনা ধরা পড়েছে বলেই প্রশ্নটি শেষ হয়ে যায় না। বরং প্রশ্ন হলো— CEPZ-এর একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের পণ্য কারখানায় প্রবেশ না করিয়েই যদি ডিজিটাল গেট পাসের মাধ্যমে বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে এটি কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বন্ড ব্যবস্থাপনার কোনো কাঠামোগত দুর্বলতার উদাহরণ? একটি ঘটনা কাস্টমসের নজরে এসেছে; একই ধরনের আরও ঘটনা নিয়মিত নজরদারির বাইরে থেকে গেছে কিনা, তার কোনো সমন্বিত তথ্য কি কাস্টমসের কাছে আছে? কতগুলো গেট পাস, কতগুলো চালান এবং কতগুলো বন্ড প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে অডিট বা তদন্তে এমন অসঙ্গতি ধরা পড়েছে— সেই পরিসংখ্যানও এখন জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন। কারণ একটি অনিয়ম ধরা পড়া যেমন কাস্টমসের নজরদারির সাফল্য হতে পারে, তেমনি সেটি নজরদারি ব্যবস্থার অদেখা অংশটি কত বড়— সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।
