ফলোআপ নিউজ | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
গাজীপুর: ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সক্রিয় বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিসংশ্লিষ্ট বিপুল শিপমেন্ট রেকর্ড পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-তথ্যভান্ডার ImportInfo-তে প্রতিষ্ঠানটির নামে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৭২৫টি বিল অব লেডিংয়ের তথ্য রয়েছে। একই ডেটাবেসে গত এক বছরে ১০৮টি এবং গত ৯০ দিনে ৩৭টি রেকর্ড দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গ্রুপ-ওয়েবসাইটে আটটি উৎপাদন ইউনিট, আর বিজিএমইএর সদস্যতথ্যে বছরে পাঁচ লাখ ডজন উৎপাদন সক্ষমতা ও ১ হাজার ৭০০ মেশিনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এত বড় উৎপাদন অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কার্যক্রমের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত আমদানি, রপ্তানি মূল্য, বন্ড সুবিধার ব্যবহার এবং কাঁচামালের হিসাব যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ড লাইসেন্স সক্রিয়, সার্কেল ২৪-এর অধীনে প্রতিষ্ঠান
ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সরকারি সক্রিয় বন্ড লাইসেন্স তালিকায় গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের নাম রয়েছে। তালিকার ৪৮৫ নম্বর ক্রমিকে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে কে.বি.এম. রোড, টঙ্গী শিল্প এলাকা, গাজীপুর। লাইসেন্স নম্বর 645/CUS-SBW/2005, বন্ডের ধরন GB এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল ২৪।
সরকারি তালিকায় প্রতিষ্ঠানটিকে সক্রিয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে সক্রিয় লাইসেন্সের অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করেছে কিংবা তার বন্ড হিসাব সম্পূর্ণ নিরীক্ষিত। প্রকৃত আমদানি, রপ্তানি, কাঁচামালের ব্যবহার ও মজুতের হিসাব জানতে লাইসেন্সের পূর্ণাঙ্গ নথি এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের কাস্টমস রেকর্ড প্রয়োজন।
২০০৬ সালে আমট্রানেটের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা
আমট্রানেট গ্রুপের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে একটি গার্মেন্টস ইউনিট দিয়ে। ২০০০ সালের মধ্যে আরও তিনটি গার্মেন্টস উৎপাদন ইউনিট যুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে উৎপাদিত পণ্যে বাড়তি মূল্য সংযোজন এবং ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়।
গ্রুপটির বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি দশতলা ভবনে স্থাপিত এবং সেখানে আটটি পৃথক উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রিঙ্কল-ফ্রি ট্রাউজার, ড্রেস শার্ট ও ট্রাউজার, মাল্টি-গেজ জ্যাকার্ড, ইন-হাউস ওয়াশিং, প্রিন্টিং এবং এমব্রয়ডারি ইউনিটসহ বিভিন্ন সহায়ক ব্যবস্থা।
এই অবকাঠামো থেকে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কেবল সাধারণ সেলাই কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপ একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সম্পন্ন করার সক্ষমতার দাবি করে। তবে ওয়েবসাইটের বর্ণনা বর্তমান উৎপাদনের স্বাধীন নিরীক্ষা নয়। ইউনিটগুলোর কতটি বর্তমানে সচল, কী পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে এবং কোন পর্যায়ে কত কাঁচামাল ব্যবহৃত হচ্ছে, তা সরেজমিন পরিদর্শন ও উৎপাদন নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিজিএমইএর তথ্যে বছরে পাঁচ লাখ ডজন উৎপাদন সক্ষমতা
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি—বিজিএমইএর অনলাইন সদস্যতথ্যে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের সদস্য নম্বর ৪০৬৬ এবং EPB Reg No. 0 উল্লেখ রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে এ কে এম বদিউল আলমের নাম দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগের ঠিকানা মা টাওয়ার, ৮ম তলা, ১২৮ কে.বি.এম. রোড, টঙ্গী শিল্প এলাকা, গাজীপুর।
একই তথ্যভান্ডারে প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৭০০ মেশিন এবং বছরে পাঁচ লাখ ডজন উৎপাদন সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে শার্ট, প্যান্ট ও জ্যাকার্ড সোয়েটারের উল্লেখ রয়েছে।
তবে বিজিএমইএর সদস্যতথ্যে প্রদর্শিত উৎপাদন সক্ষমতাকে প্রকৃত উৎপাদন বা রপ্তানির সমান ধরা যাবে না। পাঁচ লাখ ডজন অর্থ বছরে ৬০ লাখ পিস পোশাকের সক্ষমতা— যদি প্রদর্শিত সক্ষমতা পুরোপুরি কার্যকর থাকে। বাস্তবে উৎপাদন নির্ভর করবে অর্ডার, শ্রমঘণ্টা, মেশিনের সচলতা, কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদন পরিকল্পনার ওপর।
তাই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ঘোষিত সক্ষমতার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি গত তিন অর্থবছরে কত পিস পোশাক উৎপাদন করেছে এবং কত পিস রপ্তানি করেছে?
যুক্তরাষ্ট্রে ১,৭২৫ বিল অব লেডিংয়ের রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি-শিপমেন্ট তথ্য সংগ্রহকারী ImportInfo-তে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের নামে ২৩ অক্টোবর ২০১২ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৭২৫টি বিল অব লেডিংয়ের রেকর্ড দেখানো হয়েছে। একই সাইটে গত ১২ মাসে ১০৮টি এবং গত ৯০ দিনে ৩৭টি রেকর্ডের তথ্য রয়েছে।
এ ধরনের রেকর্ড সাধারণত জাহাজে পণ্য পরিবহনের নথির সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে পণ্য পাঠানোর তারিখ, চালানের পরিমাণ, ওজন, পণ্যের বিবরণ, প্রেরক, ক্রেতা এবং বন্দরসংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে। ফলে এগুলো রপ্তানির ধারাবাহিকতা ও ক্রেতা-সম্পর্ক বোঝার জন্য সহায়ক।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিল অব লেডিংয়ের সংখ্যা মোট রপ্তানি মূল্য নয়। একইভাবে, এই ডেটাবেসে থাকা রেকর্ড দিয়ে বাংলাদেশের কাস্টমসে ঘোষিত মোট রপ্তানি, সব দেশের চালান কিংবা প্রতিষ্ঠানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। একই চালানের মাস্টার ও হাউস বিল অব লেডিংয়ের পৃথক রেকর্ডও থাকতে পারে। তাই রেকর্ডের সংখ্যা সরাসরি মোট চালানের সংখ্যা হিসেবে ব্যবহার করার আগে পদ্ধতিগত যাচাই প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক দুটি চালানের তথ্য
ImportInfo-তে প্রকাশিত সাম্প্রতিক চালানের মধ্যে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবরের একটি রেকর্ডে পুরুষদের পলিয়েস্টার প্যান্টের ৫৯০ কার্টন, মোট ওজন ৭ হাজার ১১৫ কেজি দেখানো হয়েছে। গন্তব্য নিউ জার্সির নিউয়ার্ক বন্দর এবং ক্রেতা হিসেবে Tharanco Lifestyle LLC-এর নাম রয়েছে।
অন্যদিকে, ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর একটি রেকর্ডে নারীদের নিটেড সোয়েটারের ৩৪ কার্টন, মোট ওজন ৩০০ কেজি উল্লেখ রয়েছে। গন্তব্য নিউইয়র্ক এবং ক্রেতা হিসেবে GUESS?, LLC-এর নাম দেখানো হয়েছে।
এই তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক সরবরাহের বাস্তব শিপমেন্ট রেকর্ডের উদাহরণ। কিন্তু এসব চালানের পণ্যঘোষিত মূল্য, বাংলাদেশে রপ্তানি ঘোষণায় দেখানো FOB মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের আমদানি মূল্য এখানে পাওয়া যায়নি। তাই দুটি চালান বা ১,৭২৫টি রেকর্ডের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের মোট রপ্তানি মূল্য অনুমান করা সমীচীন হবে না।
ক্রেতা ও বাজারের সম্পর্ক
ImportInfo-র প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাতায় Tharanco Lifestyles LLC, Jachs NY LLC, Amanzi Wholesale, Tribal Apparel এবং GUESS? LLC-সহ বিভিন্ন ক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়। এসব নামের পাশে প্রদর্শিত রেকর্ডসংখ্যা পুরোপুরি গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজের চালানের সংখ্যা নয়; সাইটের তথ্য অনুযায়ী, কিছু সংখ্যা সংশ্লিষ্ট ক্রেতার সামগ্রিক রেকর্ডও হতে পারে।
তাই কোনো ক্রেতার নামের পাশে বিপুল শিপমেন্ট সংখ্যা দেখেই ওই ক্রেতার কাছে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজের রপ্তানির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে না। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চালানগুলো আলাদা করে শনাক্ত করে পণ্য, তারিখ, ওজন, মূল্য ও ক্রেতার তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।
আমদানি ও রপ্তানির হিসাব কোথায়?
গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজের মতো বন্ড লাইসেন্সধারী রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও শুল্কসংক্রান্ত কার্যক্রম বুঝতে আমদানি ও রপ্তানির তথ্য পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাপড়, সুতা, ডাই, রাসায়নিক ও অন্যান্য কাঁচামাল কী পরিমাণে উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার কতটুকু রপ্তানি হয়েছে এবং কতটুকু অপচয় বা সমাপনী মজুতে রয়েছে— এসব হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা দরকার।
কিন্তু প্রকাশ্য শিপমেন্ট রেকর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির অর্থবছরভিত্তিক কাঁচামাল আমদানির মূল্য, মোট রপ্তানি মূল্য, শুল্কমুক্ত আমদানির পরিমাণ কিংবা বন্ডের দায়-দেনা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
এ জন্য ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রেকর্ড থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তথ্য পাওয়ার পর আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ, পণ্যের ধরন, শুল্কায়নযোগ্য মূল্য, উৎপাদন ও কাঁচামালের ব্যবহার একত্রে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
২০২৪ সালে শ্রমিক অসন্তোষ: উৎপাদন বন্ধের খবর
দ্য ডেইলি স্টারের ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড ও ব্রাভো অ্যাপারেলস ম্যানুফ্যাকচারার লিমিটেডের শ্রমিকেরা ১৩ দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকেরা ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছিলেন এবং ওই সময় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দুই কারখানার শ্রমিকেরা সকালে কারখানার সামনে জড়ো হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তখন মালিকপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির শ্রমসম্পর্ক ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য প্রাসঙ্গিক। তবে ২০২৪ সালের শ্রমিক অসন্তোষকে বর্তমান পরিস্থিতি হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। পরবর্তী সময়ে দাবি নিষ্পত্তি, শ্রমিকদের পাওনা, উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ার সময় এবং শ্রম আইনসংক্রান্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল কিনা— এসব বিষয়ে হালনাগাদ নথি প্রয়োজন।
কারখানা নিবন্ধন ও শ্রমিকসংখ্যা
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের LIMA ডেটাবেসে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের নিবন্ধিত কারখানার তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে কারখানার ঠিকানা কে.বি.এম. রোড, টঙ্গী শিল্প এলাকা, গাজীপুর; শিল্পখাত ওভেন গার্মেন্টস; এবং নিবন্ধনের মেয়াদ ১৭ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ডেটাবেসে শ্রমিকসংখ্যা ১,২০০ + ১,২২৪ = ২,৪২৪ হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিজিএমইএর সদস্যতথ্যে ব্যবস্থাপনা, পুরুষ ও নারী কর্মীর সম্মিলিত সংখ্যা ৩,০০০ দেখানো হয়েছে। দুটি উৎসের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এই পার্থক্যকে সরাসরি অনিয়মের প্রমাণ বলা যাবে না। তথ্যগুলো ভিন্ন সময়ে হালনাগাদ হয়ে থাকতে পারে, অথবা শ্রমিক গণনার আওতা আলাদা হতে পারে। প্রকৃত কর্মীসংখ্যা নির্ধারণে সর্বশেষ কারখানা নিবন্ধন, শ্রমিক রেজিস্টার, মজুরি শিট, হাজিরা ও সামাজিক নিরীক্ষার নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
একই গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুসন্ধানের আওতায়
আমট্রানেট গ্রুপের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড ছাড়াও Bravo Apparel Manufacturer Ltd. এবং Amtranet Ltd.-এর নাম রয়েছে। সেখানে টঙ্গীর ব্রাভো অ্যাপারেলস এবং সাভারের আমট্রানেট লিমিটেডের ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে।
একই গ্রুপের একাধিক উৎপাদন ইউনিট থাকলে গ্রুপভিত্তিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক বোঝার জন্য কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদন ভাগাভাগি, স্থানীয় রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহ এবং ডিমড রপ্তানির হিসাব যাচাই করা যেতে পারে। তবে একই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে লেনদেন থাকা নিজে থেকে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, হিসাব ও লেনদেনের নথি পৃথকভাবে যাচাই করতে হবে।
বন্ড কমিশনারেটের কাছে সাতটি প্রশ্ন
ফলোআপ নিউজের অনুসন্ধানে ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কাছে নিচের তথ্যগুলো চাওয়া প্রয়োজন:
১. লাইসেন্স নম্বর 645/CUS-SBW/2005-এর অধীনে ২০২২–২৩, ২০২৩–২৪, ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কত টাকার কাঁচামাল আমদানি হয়েছে?
২. একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সরাসরি রপ্তানি ও ডিমড রপ্তানির পরিমাণ এবং মূল্য কত?
৩. আমদানিকৃত কাঁচামালের বিপরীতে উৎপাদন, রপ্তানি, অপচয় ও সমাপনী মজুতের হিসাব সমন্বয় করা হয়েছে কিনা?
৪. প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ বন্ড অডিট কবে হয়েছে? অডিট আপত্তি, শুল্ক দাবি, শোকজ বা মামলা থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির অবস্থা কী?
৫. বন্ড লাইসেন্সে অনুমোদিত পণ্য, পরিমাণ ও শর্ত কী এবং প্রকৃত আমদানি সেই সীমার মধ্যে রয়েছে কিনা?
৬. প্রতিষ্ঠানটির বন্ড হিসাবের কোনো ঘাটতি বা অনিষ্পন্ন দায় থাকলে তার পরিমাণ কত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
৭. আমট্রানেট গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাঁচামাল, উৎপাদন বা রপ্তানিসংশ্লিষ্ট লেনদেন থাকলে সেগুলো কোন নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে?
অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপ
প্রকাশ্য তথ্য থেকে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কার্যক্রম, বড় উৎপাদন অবকাঠামো, সক্রিয় বন্ড লাইসেন্স এবং ২০২৪ সালের শ্রমিক অসন্তোষ সম্পর্কে প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু এখনো প্রতিষ্ঠানটির অর্থবছরভিত্তিক আমদানি–রপ্তানির মোট মূল্য, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত আমদানির প্রকৃত পরিমাণ কিংবা কোনো অডিট আপত্তির নিষ্পত্তির তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
ফলোআপ নিউজের পরবর্তী অনুসন্ধানে বন্ড কমিশনারেটের নথি, কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি, রপ্তানি ঘোষণা, বন্ড অডিট এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন সংগ্রহ করে তুলনামূলক হিসাব তৈরি করা প্রয়োজন। নথিতে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নিয়ে তা প্রকাশ করা যেতে পারে।
এ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা ও দীর্ঘদিনের রপ্তানি কার্যক্রমের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি, উৎপাদন, রপ্তানি এবং বন্ড হিসাবের পূর্ণাঙ্গ চিত্র কী? সেই উত্তর পেতে মূল নথি যাচাই অপরিহার্য।
তথ্যসূত্র
১. ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট: সক্রিয় বন্ড লাইসেন্স তালিকা। গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের লাইসেন্স নম্বর 645/CUS-SBW/2005, বন্ডের ধরন GB, সার্কেল ২৪।
https://www.dnbc.gov.bd/active-bond-license-list/17
২. বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ): গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের সদস্যতথ্য; সদস্য নম্বর 4066, চেয়ারম্যানের নাম, ঠিকানা, মেশিনসংখ্যা ও উৎপাদন সক্ষমতা।
https://www.bgmea.com.bd/member/1452
৩. কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE): কারখানার নিবন্ধন, ঠিকানা, লাইসেন্সের মেয়াদ ও শ্রমিকসংক্রান্ত তথ্য।
https://lima.dife.gov.bd/public-report/establishment/6756
৪. রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB): গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের রপ্তানিকারক প্রোফাইল ও পণ্যের HS Code-সংক্রান্ত তথ্য।
https://edb.epb.gov.bd/exporter/1897/fountain-garments-mfg-ltd
৫. ImportInfo: যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির শিপমেন্ট ও বিল অব লেডিংয়ের রেকর্ড, ক্রেতা এবং চালানসংক্রান্ত তথ্য।
https://www.importinfo.com/garments-export-village-ltd
৬. NBD Trade Data: প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-রেকর্ড ও ক্রেতাসংশ্লিষ্ট তথ্য।
https://en.nbd.ltd/trader/info/NBDDIY316986507
৭. আমট্রানেট গ্রুপ: প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, উৎপাদন অবকাঠামো ও গ্রুপ-পরিচিতি।
https://www.amtranet.com/
৮. দ্য ডেইলি স্টার: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ গাজীপুরের দুই পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের ১৩ দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভসংক্রান্ত প্রতিবেদন।
https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/workers-two-gazipur-factories-strike-again-13-point-demand-3705776
সম্পাদকীয় নোট: সরকারি নিবন্ধন ও বন্ড লাইসেন্সের তথ্যের সঙ্গে বাণিজ্য-তথ্যভান্ডারে প্রকাশিত শিপমেন্ট রেকর্ডের প্রকৃতি এক নয়। শিপমেন্টের সংখ্যা দিয়ে মোট রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। আমদানি–রপ্তানির প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ এবং বন্ড হিসাবের অবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন।
