Headlines

শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধার ১২ প্রতিষ্ঠানঃ আমদানি-রপ্তানির হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি

এজে সুপার গার্মেন্টস্

এজে সুপার গার্মেন্টসের আমদানি ২৯২.৭৬ মিলিয়ন ডলার, রপ্তানি ২০৮.৯৬ মিলিয়ন; ক্রসওয়্যার ও আরন ডেনিমের বাণিজ্যিক তথ্যেও রয়েছে তুলনার সুযোগ।

ফলোআপ নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক

রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাতে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু এ সুবিধার বিপরীতে আমদানি করা কাঁচামাল কী পরিমাণে উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে, কতটা রপ্তানি হচ্ছে এবং বন্ড হিসাব যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে কিনা— তা যাচাই করা জরুরি।

ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন বলে চিহ্নিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন সক্ষমতা ও বন্ড হিসাব নিয়ে তুলনামূলক অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক ডেটাবেস Trademo-তে পাওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য সেই অনুসন্ধানের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে এসব তথ্য সরকারি বন্ড অডিটের বিকল্প নয়।

এজে সুপার গার্মেন্টস্

পাঁচ প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানির তুলনামূলক চিত্র

নিচের তথ্য Trademo-তে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রেকর্ড থেকে নেওয়া। অর্থের পরিমাণ মার্কিন ডলারে।

প্রতিষ্ঠান আমদানি (মিলিয়ন ডলার) রপ্তানি (মিলিয়ন ডলার) আমদানি-রপ্তানির পার্থক্য (মিলিয়ন ডলার)
এজে সুপার গার্মেন্টস 292.76 208.96 83.80
ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ 80.31 78.04 2.27
আরন ডেনিম 58.42 36.20 22.22
ইয়াং এ টেক্সটাইল 6.21 8.26 -2.05
সোয়ানলোন কোম্পানি 7.76 8.95 -1.19

তথ্যসূত্র ও সময়কাল: এজে সুপার গার্মেন্টস (নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান), ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ, আরন ডেনিম ও ইয়াং এ টেক্সটাইলের তথ্য জানুয়ারি ২০২২ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত রেকর্ডের ভিত্তিতে। সোয়ানলোন কোম্পানির ক্ষেত্রে সময়কাল জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫। <Cite refs={[“turn480856search4″,”turn780594search2″,”turn780594search0″,”turn780594search1″,”turn780594search3”]}/>

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পার্থক্য বলতে আমদানি মূল্য থেকে রপ্তানি মূল্য বিয়োগ করে পাওয়া অঙ্ক বোঝানো হয়েছে।

এজে সুপার গার্মেন্টস: আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান ৮৩.৮০ মিলিয়ন ডলার

Trademo-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এজে সুপার গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে আলোচ্য সময়ে আমদানি মূল্য ২৯২.৭৬ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি মূল্য ২০৮.৯৬ মিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা পণ্যের মধ্যে জিপার, ওভেন ইন্টারলাইনিং ও লেবেলের উল্লেখ রয়েছে; রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ওভেন প্যান্ট ও জ্যাকেট রয়েছে। <Cite refs={[“turn480856search4”]}/>

এখানে অনুসন্ধানের প্রশ্ন হলো, আমদানি ও রপ্তানির এই পার্থক্য কতটা উৎপাদনচক্র, মজুত, স্থানীয় মূল্য সংযোজন এবং সময়ের ব্যবধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়? বন্ড সুবিধায় আমদানি করা উপকরণের ব্যবহার ও নিষ্পত্তির নথি পরীক্ষা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ: দুই দিকের বাণিজ্যিক মূল্য কাছাকাছি

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজের আমদানি মূল্য ৮০.৩১ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি মূল্য ৭৮.০৪ মিলিয়ন ডলার। এ ক্ষেত্রে দুই অঙ্কের ব্যবধান ২.২৭ মিলিয়ন ডলার। <Cite refs={[“turn780594search2”]}/>

আরন ডেনিম: আমদানি ৫৮.৪২ মিলিয়ন, রপ্তানি ৩৬.২০ মিলিয়ন ডলার

আরন ডেনিমের ক্ষেত্রে প্রকাশিত বাণিজ্যিক রেকর্ডে আমদানি মূল্য ৫৮.৪২ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি মূল্য ৩৬.২০ মিলিয়ন ডলার। আমদানির মধ্যে সুতা ও বিভিন্ন ধরনের সুতার উল্লেখ রয়েছে। <Cite refs={[“turn780594search0”]}/>

ইয়াং এ টেক্সটাইল ও সোয়ানলোন: রপ্তানি মূল্য আমদানির চেয়ে বেশি

Trademo-র তথ্য অনুযায়ী, ইয়াং এ টেক্সটাইলের আমদানি মূল্য ৬.২১ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি মূল্য ৮.২৬ মিলিয়ন ডলার। সোয়ানলোন কোম্পানির ক্ষেত্রে আমদানি ৭.৭৬ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ৮.৯৫ মিলিয়ন ডলার। <Cite refs={[“turn780594search1″,”turn780594search3”]}/>

এ ধরনের হিসাবের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন। আগের সময়ের মজুত কাঁচামাল, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত উপকরণ, উৎপাদনের ধরন এবং রপ্তানি পণ্যের মূল্য সংযোজন বিবেচনা না করে আমদানি-রপ্তানির অঙ্ক থেকে বন্ড সুবিধার যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

বাকি সাত প্রতিষ্ঠানের তথ্যও যাচাই করা প্রয়োজন

অনুসন্ধানের আওতায় থাকা বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বুনন নিটিং, ফুলি ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ইপিলিয়ন নিটওয়্যার, ইভেন্স, ফেমাস ডিজাইন, আলফা ক্লথিং ও ইথিক্যাল গার্মেন্টস। এসব প্রতিষ্ঠানের সঠিক আইনগত নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করে একই সময়কালের আমদানি-রপ্তানির তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

বন্ড কমিশনারেটের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া প্রয়োজন

১. ১২টি প্রতিষ্ঠানের অর্থবছরভিত্তিক আমদানি ও রপ্তানির সরকারি তথ্য।

২. প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বন্ড লাইসেন্স, অনুমোদিত পণ্য ও লাইসেন্সের মেয়াদ।

৩. আমদানিকৃত কাঁচামালের ব্যবহার, মজুত ও নিষ্পত্তির হিসাব।

৪. সর্বশেষ বন্ড অডিটের প্রতিবেদন, অডিট আপত্তি ও অনিষ্পন্ন ঘাটতির তথ্য।

৫. কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুল্ক-কর আদায়, জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে তার নথিভিত্তিক বিবরণ।

বন্ড সুবিধা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় রাজস্বের সুরক্ষা এবং সুবিধার স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে আমদানি, উৎপাদন, রপ্তানি ও নিরীক্ষার তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করতে হবে।

ফলোআপ নিউজের পর্যবেক্ষণ: প্রকাশিত বাণিজ্যিক ডেটা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানির তুলনা করার সুযোগ দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সরকারি নথির সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা। যাচাই করা তথ্যেই নির্ধারিত হবে কোথায় স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পার্থক্য রয়েছে, আর কোথায় আরও তদন্তের প্রয়োজন।